চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সংকীর্ণতার প্রাচীর ভেঙে দুই বোনের এগিয়ে যাওয়ার গল্প

‘কিং রিচার্ড’ পর্যালোচনা

ভেনাস উইলিয়ামস ও সেরেনা উইলিয়ামসের উত্থানের গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে নভেম্বরে মুক্তি পাওয়া ‘কিং রিচার্ড’।  কম্পটনের রিচার্ড উইলিয়ামসের এই মেয়েরা কীভাবে নানা বাঁধা পেড়িয়ে বাবার প্রশিক্ষণে পৃথিবীর সেরা দুই টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে রাজত্ব করছেন, সে গল্প দেখানো হয়েছে ‘কিং রিচার্ড’-এ। রিচার্ড চরিত্রে অভিনয় করেছেন উইল স্মিথ।

‘কিং রিচার্ড’-এ আমেরিকার বর্ণবাদের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেই সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে ভেনাস ও সেরেনা কীভাবে সংকীর্ণতার প্রাচীর ভেঙে এগিয়ে গেলেন সেই গল্প।

তবে ছবিতে ভেনাস ও সেরেনার বর্ণবাদের শিকার হতে দেখা গেলেও বাস্তবে কখনই তারা ‘ভিকটিম’ ছিলেন না। কারণ, তাদের বাবা সেটা হতেই দেননি। তারা ছিলেন মানসিকভাবে শক্তিশালী এবং গর্বিত। তাদের লক্ষ ছিল স্থির ও স্পষ্ট।

বিজ্ঞাপন

ছবির গল্প দুই বোনকে কেন্দ্র করে। ছবিতে দেখানো হয়েছে তাদের সাফল্য রিচার্ডের গড়ে দেয়া। দর্শক যেরকমটা দেখতে চান, তেমন করেই সাজানো হয়েছে গল্প। বাবা মেয়েদেরকে বাড়ির কাছের টেনিস কোর্টে নিয়ে যান। তারা বৃষ্টিতে খেলে, রোদেও খেলে। রিচার্ড তাদেরকে চাপ দেন, তবে ভালোবাসা ও ধৈর্যের সাথে। মেয়েদের মনোবল বাড়িয়ে তোলেন তিনি।

উইলিয়ামের পরিবারের সুযোগ ছিল সাদাদের রাজত্ব করা টেনিস ভুবনে ‘বর্ণবাদ’ ইস্যু নিয়ে আওয়াজ তুলে অগ্রাধিকার পাওয়ার চেষ্টা করার। তারা সেটা করেননি। তার বদলে রিচার্ড মেয়েদের গড়েছেন এমনভাবে, যেন তারা অপমান অগ্রাহ্য করে লক্ষ্যে অটল থেকে বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারেন।

রিচার্ড উইলিয়ামের পূর্ব পুরুষ ছিলেন দক্ষিণ আমেরিকায় যেখানে বর্ণবাদের শিকার হতে হয়েছিল তাদেরকে। সাফল্যের শিখরে থেকেও এখনও বর্ণবাদী আচরণের শিকার হতে হয় ভেনাস উইলিয়ামস ও সেরেনা উইলিয়ামসকে। তবে তারা সেসব নিয়ে ভাবেন না, ভাবেন শুধু সামনে এগিয়ে যাওয়া নিয়ে।

রিচার্ড উইলিয়ামসের বয়স এখন প্রায় ৮০। তিনি লাইমলাইটে নেই এখন। কিন্তু তিনি প্রস্তুত করে দিয়েছেন তার সন্তানদের। তাদেরই এখন জয়জয়কার টেনিস ভুবনে। -দ্য হিল

বিজ্ঞাপন