চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কায় ২০ দিনের মুসলিম শিশুর মৃতদেহ দাহ করায় নিন্দা

করোনায় মৃত্যু হয়েছে দাবি করে ২০ দিন বয়সী একটি মুসলিম শিশুর মৃতদেহ জোরপূর্বক পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও সমালোচনার মুখে পড়েছে শ্রীলংকা। সেখানে এর  আগেও যেসব মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

সমালোচকরা বলছেন, এমন সিদ্ধান্ত বিজ্ঞানের বাইরে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই নেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিবিসি বলছে, করোনাভাইরাসে মারা গেলে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষ মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলার সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে শ্রীলঙ্কার সংখ্যালঘু মুসলমানরা এমনিতেই ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি, রাজাপাকসের সরকার মুসলমানদের ধর্মীয় স্পর্শকাতরতাকে ইচ্ছা করে অবজ্ঞা করছে। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া ১০৭ জন মুসলমানকে জোর করে দাহ করা হয়েছে দেশটিতে।

সর্বশেষ গত ৯ ডিসেম্বর ২০ দিন বয়সী শিশুটির মৃতদেহ দাহ করা হয়। এ নিয়ে শুধু শ্রীলংকাতেই নয়, বিশ্বের বহু দেশে নিন্দা উঠেছে।

যে শিশুটির মৃতদেহ জোর করে পুড়িয়ে ফেলা হয়, তার করোনা হয়েছিল কিনা সে বিতর্কের এখনো সমাধান হয়নি। শিশুটির বাবা অটোচালক মোহাম্মদ ফাহিম এবং তার স্ত্রী সাফিনা ছয় বছর চেষ্টার পর ছেলের জন্মের পর দারুণ খুশি ছিলেন। কিন্তু ৭ ডিসেম্বর শিশুটি অসুস্থ হওয়ার পর দ্রুত তাকে তারা কলম্বোর একটি হাসপাতালে নিয়ে যান।

করোনা আছে কি না- তা জানতে ডাক্তাররা সেই রাতেই তিনজনের শরীরে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করেন। ফাহিম এবং সাফিনা করোনাভাইরাস নেগেটিভ হিসেবে শনাক্ত হলেও তাদের শিশুটি পজিটিভ বলে জানানো হয়। ওই রাতে ডাক্তাররা শিশুটিকে হাসপাতালে রেখে রাতেই জোর করে বাবা-মাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে শিশুটির বাবা বলেন, আমি ও আমার স্ত্রী কান্নাকাটি করেছি যেন আমাদের সন্তানের পাশে থাকতে দেয়া হয়। তারা  দেয়নি। পরদিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফোন করে জানায়, তাদের সন্তান করোনায় মারা গেছে।

কিন্তু শিশুটির বাবা মানতে চান না যে তার সন্তান  আসলেই করোনা হয়েছিল।  তার যুক্তি, তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনই যেখানে নেগেটিভ, বাচ্চার কীভাবে কোভিড হয়। শুধু অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া সিদ্ধান্ত তিনি মানা যাচ্ছে না। কিন্তু শুধু মৃত্যুই নয়, জোর করে শিশুটিকে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

এ বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে শ্রীলঙ্কায় মুসলিম সংগঠনগুলোর জোট ‘মুসলিম কাউন্সিল অব শ্রীলঙ্কা’র ভাইস-প্রেসিডেন্ট ইলমি আহমেদ।

তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের তোয়াক্কা না করে মুসলমানদের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে তা এক কথায় বর্ণবাদ। ২০ দিনের একটি বাচ্চার মরদেহ জোর করে দাহ করা সমস্ত অসভ্যতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

এই ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশ সেখানকার নেতারাও। প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও।

তবে শ্রীলংকার একজন মন্ত্রী কেহেলিয়া রামবুকওয়েলা দাবি করেছেন যে, মুসলমানদের প্রতি কোনো বৈষম্য করা হচ্ছে না। তার যুক্তি, বৌদ্ধরাও তো অভিযোগ করতে পারে যে, তারাও পুরোপুরি ধর্মমতে শেষকৃত্য করতে পারছে না।