চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শ্রীদেবীর কোন সীমানা নেই, নেই দেশ জাতি গোত্র পরিবার

৯০ দশকে বলিউডের সিনেমা বাংলাদেশে ভিসিআর এবং ভিসিপি’র বদৌলতে ভীষণ জনপ্রিয় হলেও মুলত ড্রইংরুমে হিন্দি ছবির প্রবেশ ৮০ দশকে। তবে সে সময়ে তা কেবল ছিলো উচ্চবিত্তদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আমার এক খালু সে সেময় মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্তদের কাতারে উঠে এসেছেন। সিনেমা বানালেন ঝিনুকমালা। ছবির প্রতিটি গান হিট। তুমি আমার মনের মাঝি আমার পরাণ পাখি বাজছে পথে ঘাটে। খালা বাড়িতে শুরু হলো ফিল্মের লোকের আনাগোনা। ড্রইংরুম চলে গেলো পরিচালক আর স্ক্রিপ্ট রাইটারের দখলে। আমার সবচেয়ে বেশী আগ্রহ ছিলো ওই রুমের প্রতিই। একেবারেই ছোট হওয়ার আমার ভেতর বাহিরে তেমন কোন নিষেধজ্ঞা ছিলো না। একদিন দেখি রঙিন টিভি আর ভিসিআর এ হিন্দী গান চলছে। সবাই ভীষণ মন দিয়ে দেখছেন, কারণ জিতেন্দ্র শ্রীদেবী অভিনিত হিম্মতওয়ালা ছবির, ন্যায়নো মে স্পাপনা গানটি অনুকরণে একটা গান হবে। আমি সেই প্রথম দেখলাম শ্রীদেবীকে।

দেবী শব্দটার সাথে পরিচয় আরো একটু আগেই। এবার যেন প্রথম তার সাক্ষাত পেলাম। তার আগে কুষ্টিয়ায় পুজোতে সরস্বতীকে দেখেছিলাম। মিলিয়ে নিলাম এই হচ্ছে সেই দেবী। কারণ এতো সুন্দর কোন মানুষের চোখ হতে পারে না। এই নিশ্চয় সেই দেবীই। খালাবাড়ী যাওয়ার টান কেবলই বাড়তে লাগলো। এর মধ্যে ৯০ দশকে আমিও একটু বড় হলাম। আসলো আমাদের বাসাতেও ভিসিআর। সেই সাথে আসলো মিস্টর ইন্ডিয়া, ওয়াক্ত কি আওয়াজ, চালবাজ, গুরু, খুদাগাওয়া, চাঁদনি, নাগিন, তোফা, আগ অর সোলে এমন অনেক অনেক মুভি। ভিএইচএস ক্যাসেট রাখার তাকে আলাদা একটা জায়গাই রয়ে গেলো তার হয়ে। কারণ বাবা-মা, বড় বোন, আমার, আমাদের সবারই প্রিয় অভিনেত্রীর তালিকায় তিনি শীর্ষে। এবং তার এই ছবির পাল্লা শুধু ভারী হয়েই চললো। এমনকি মাধুরী দিক্ষিতের চরম দাপটের মাঝেও যুদায়ী কিংবা লাডলার মতো মুভি দেখতে ছাড়েননি কেউই। কিছুদিন আগেও রিলিজ হওয়া তার শেষ দুটি মুভি ইংলিশ ভিংলিশ ও মাম মনে কাড়ে হিন্দী ছবির পোকাদের। ওই পোকাদের একজন আমিও।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ব্যস্ততার কারণে এখন আর তেমন মুভি দেখা হয় না। তবে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ভারতীয় চ্যানেল মাস্তি দেখি কিছুটা সময়। ওই চ্যানেলটিতে পুরোনো হিন্দী ছবির গান প্রচারিত হয় নিয়মিত। আমি নস্টালজিক হয়ে পড়ি। দেখতে দেখতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ি বুঝতেই পারি না। তবে ঘুম ভাঙলেই পেশাগত কারণে মোবাইল হাতড়ে নিউজটা একবার দেখে নেই। আজও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ভোর রাতে ঘুম ভেঙে দেখি শ্রীদেবী আর নেই। কেমন জানি মনমরা হয়ে গেলাম। শ্রীদেবীই যে আমার প্রিয় নায়িকা তাও না। তার পরে বহু নায়িকা আমার পছন্দের তালিকায় এসেছেন। বহুদিন তার কোন মুভিও দেখি নাই। কোনদিন সামনাসামনিও দেখি নাই। এমনকি এক দেশের এক ধর্মের কিংবা এর ভাষার মানুষও আমরা না। তবু কেন জানি একটা চাপা কষ্ট লাগছে মনে মনে।

অফিসে এসে দেখলাম শুধু আমি না। যারা টুকটাক হিন্দী মুভি দেখেন বা এক সময় দেখতেন সবারই মন খারাপ। অনেক ভেবে উত্তর পেলাম। শ্রীবেদীর কোন সীমানা নেই, নেই দেশ জাতি গোত্র পরিবার। তিনি এক অনন্য অভিনেত্রী, সৌন্দর্যের প্রতিমা। যতদিন পৃথিবীতে সৌন্দর্যের পুজা করা হবে ঠিক ততদিনই তিনি থাকবেন দেবীর আসন জুড়ে, ভক্তদের মনে মনে। তার এই সৌন্দর্য সৃষ্টিকর্তার দান, নিশ্চয় তিনি তার সেরা সৃষ্টিকে সুন্দর কোন লোকেই রাখবেন।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Bellow Post-Green View