চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শ্রদ্ধা, ভালোবাসায় জাতির পিতাকে স্মরণ

যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো জাতীয় শোক দিবস

জাতীয় শোক দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় জাতির পিতাকে স্মরণ করছে জাতি। নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদত বার্ষিকী।

বুধবার সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

এরপর আওয়ামী লীগের প্রধান হিসেবে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সিনিয়র নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ডক্টর শিরীন শারমিন চৌধুরী। এরপর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এর অাগে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।

সকাল ৭টা ২০ মিনিটে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টে নিহত স্বজনদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে ছোট বোন শেখ রেহানা ও দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। এ সময় সুরা ফাতিহা পাঠ ও মোনাজাত করেন।

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ১৫ আগস্টে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া-মোনাজাত করা হয়।

এদিন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১০টার পর বঙ্গবন্ধুর সমাধি-সৌধের বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ছোট বোন শেখ রেহানা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন তিনি।

পরে মন্ত্রিপরিষদ ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে মিলাদ মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বিজ্ঞাপন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন সংগঠন।

শোক দিবসে আলোচনা সভার আয়োজন করে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। এতে বিদেশে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি নিশ্চিত করার প্রত্যয় জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দুস্থদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আলোচনা সভা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি এএসএম মাকসুদ কামাল, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ সামাদ এবং অন্যরা অংশ নেন। টিএসসিতে চিত্র প্রদর্শনীও করা হয়।

দুদক আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক মুক্তির বাংলাদেশ গড়তে আগামী প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

জাতীয় শোক দিবসে মিলাদ মাহফিল, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেছে ধানমন্ডি থানা আওয়ামী লীগ। তেজগাঁও শিল্প এলাকা কলোনী বাজারে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা ও কাঙালী ভোজের আয়োজন করে শিল্পাঞ্চল থানা আওয়ামী লীগ।

দোয়া মাহফিল ও দুস্থ্যদের মাঝে খাবার বিতরণ করেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং সোসাইটি অব বাংলাদেশ- রিহ্যাব। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাজধানীর ভুতেরগলিতে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মোর্শেদ হোসেন কামাল।

দোয়া মাহফিল শেষে গরিব ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন মিরপুর ১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক। জাতীয় শোক দিবসে দোয়া মাহফিল করেছে ঢাকা সড়ক পরিবহণ মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদত বার্ষিকী।

Bellow Post-Green View