চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শোভন-রাব্বানীর মতো ছাত্রলীগে পদ হারিয়েছিলেন যারা

সত্তর বছর আগে ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুদীর্ঘ এই সময়ে সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন হয়েছেন ৫৮ জন নেতা। তাদের মধ্যে অপসারিত বা বহিষ্কার হয়েছেন ৬ জন।

যার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত সদ্য সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

বিজ্ঞাপন

স্বেচ্ছাচারিতা, অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতা, দুপুর পর্যন্ত ঘুমানো, নেতাকর্মীদের প্রত্যাশিত মূল্যায়ন না করা, কেন্দ্রীয় নেতাদের উপেক্ষা, ফোন রিসিভ না করার মতো অসংখ্য অভিযোগ ছিলো এই দুই নেতার বিরুদ্ধে। এরপর যোগ হয় জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ।

এর আগে যারা
ছাত্রলীগ থেকে সর্বপ্রথম বহিষ্কৃত হন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ তৎকালীন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বর্তমান বিএনপি নেতা শাহজাহান সিরাজ। ১৯৭০-৭২ সালের মেয়াদের সেই কমিটিতে সভাপতি ছিলেন নূরে আলম সিদ্দিকী। মুক্তিযুদ্ধের পর সংগঠনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি বহিষ্কৃত হন। তার জায়গায় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় ইসমত কাদির গামাকে।

অবশ্য এর আগে, ১৯৬৮-৬৯ মেয়াদের ১০ম ছাত্রলীগের কমিটি থেকে বাদ পড়েন তৎকালীন সভাপতি আব্দুর রউফ। ছাত্রলীগেও ওই কমিটিতে থাকা অধিকাংশ নেতা তার প্রতি অনাস্থা জানালে তিনি পদত্যাগ করেন।

১৯৭৩-৭৪ সালের ছাত্রলীগের চতুর্দশ কমিটি থেকে বহিষ্কৃত হন তৎকালীন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম প্রধান। ছাত্রলীগের সেই কমিটির সভাপতি ছিলেন মনিরুল ইসলাম চৌধুরী। ১৯৭৪ সালে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীন কোন্দলের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসীন হলে সাত ছাত্র নিহত হলে শফিউল ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত হন।

বিজ্ঞাপন

শফিউল আলম প্রধানের স্থলাভিষিক্ত হন মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। পরবর্তীতে এক সম্মেলন বাদে মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ছাত্রলীগের ১৬তম সম্মেলনে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

১৯৮৮ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন হাবিবুর রহমান হাবিব। ১৯৯০- এর সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের অন্যতম নেতা হিসেবে তিনি পরিচিতি পান। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তবে সংগঠনবিরোধী কাজের অভিযোগ থাকায় ১৯৯১ সালে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হন শাহে আলম। ছাত্রলীগের ওই কমিটির সাধারণ সম্পাক ছিলেন অসীম কুমার উকিল।

এক নজরে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক:
১৯৪৮ নাইমউদ্দিন আহমেদ (আহ্বায়ক)

মেয়াদকাল-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ক্রমান্বয়ে: ১৯৪৮-১৯৫০ দবিরুল ইসলাম – খালেক নেওয়াজ খান, ১৯৫০-১৯৫২ খালেক নেওয়াজ খান – কামরুজ্জামান, ১৯৫২-১৯৫৩ কামরুজ্জামান – এম এ ওয়াদুদ,১৯৫৩-১৯৫৭ আব্দুল মোমিন তালুকদার – এম এ আউয়াল, ১৯৫৭-১৯৬০ রফিকুল্লাহ চৌধুরী – আযহার আলী (বিদেশে গমন) শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন (ভারপ্রাপ্ত), ১৯৬০-১৯৬৩ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন – শেখ ফজলুল হক মনি, ১৯৬৩-১৯৬৫ কে এম ওবায়েদুর রহমান – সিরাজুল আলম খান, ১৯৬৫-১৯৬৭ সৈয়দ মাজহারুল হক বাকী – আব্দুর রাজ্জাক, ১৯৬৭-১৯৬৮ ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী – আব্দুর রাজ্জাক, ১৯৬৮-১৯৬৯ আব্দুর রউফ (পদত্যাগ) – খালেদ মোহাম্মাদ আলী,১৯৬৯-১৯৭০ তোফায়েল আহমেদ – আ স ম আব্দুর রব,১৯৭০-১৯৭২ নূরে আলম সিদ্দিকী – শাহজাহান সিরাজ (বহিষ্কৃত), ইসমত কাদির গামা।

এছাড়া, ১৯৭২-১৯৭৩ শেখ শহিদুল ইসলাম – এম এ রশিদ, ১৯৭৩-১৯৭৪ মনিরুল হক চৌধুরী – শফিউল আলম প্রধান (বহিষ্কৃত), মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ১৯৭৬-১৯৭৭ এম এ আউয়াল (আহবায়ক), ১৯৭৭-১৯৮১ ওবায়েদুল কাদের – বাহালুল মজনুন চুন্নু,১৯৮১-১৯৮৩ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন – খ ম জাহাঙ্গীর,১৯৮৩-১৯৮৫ আব্দুল মান্নান – জাহাঙ্গীর কবির নানক,১৯৮৬-১৯৮৮ সুলতান মোহাম্মাদ মন্সুর – মোঃ আব্দুর রহমান,১৯৮৮-১৯৯২ হাবিবুর রহমান (বহিষ্কৃত), শাহে আলম (কার্যকরী) – আসীম কুমার উকিল, ১৯৯২-১৯৯৪ মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী – ইকবালুর রহিম, ১৯৯৪-১৯৯৮ এ কে এম এনামুল হক শামীম – ইসহাক আলী খাঁ পান্না, ১৯৯৮-২০০২ বাহাদুর বেপারী – অজয় কর খোকন,২০০২-২০০৬ লিয়াকত সিকদার – নজরুল ইসলাম বাবু,২০০৬-২০১১ মাহমুদ হাসান রিপন – মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, ২০১১-২০১৫ এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ – সিদ্দিকী নাজমুল আলম, ২০১৫-২০১৮ সাইফুর রহমান সোহাগ- এস এম জাকির হোসাইন, ২০১৮-(চলমান) রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন (অপসারণ),আল নাহিয়ান খান জয় (ভারপ্রাপ্ত) -গোলাম রাব্বানী (অপসারণ), লেখক ভট্টাচার্য (ভারপ্রাপ্ত)।

Bellow Post-Green View