চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শেষ দু’টি কাব্যগ্রন্থের নাম নিজ হাতে লিখে গেছেন সৈয়দ হক

নিজের শেষ দু’টি কাব্য গ্রন্থের নাম নিজ হাতে লিখে দিয়ে গেছেন সৈয়দ শামসুল হক। গ্রন্থ দুটি’র নাম ‘উৎকট তন্দ্রার নিচে’ এবং ‘কর্কট বৃক্ষে সবুজ শাখায়’। প্রথম গ্রন্থটি প্রকাশ করবে অন্যপ্রকাশ এবং দ্বিতীয়টি প্রকাশ করবে পাঞ্জেরী প্রকাশনী। মৃত্যুর আগের দিন ২৬ সেপ্টেম্বর গ্রন্থ দু’টির নাম এবং প্রকাশনীর নাম লিখে দিয়ে যান এই সব্যসাচী লেখক।

ক্যান্সারে আক্রান্ত সৈয়দ হক লন্ডন থেকে দেশে ফিরে ইউনাইটেড হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে গতকাল সোমবার তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। এর মধ্যেই তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিলো।

চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে দেশে ফিরে আসেন সৈয়দ হক। দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত লেখক সৈয়দ শামসুল হক উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সস্ত্রীক লন্ডনে গিয়েছিলেন এ বছরের ১৫ এপ্রিল। কিন্তু টানা প্রায় তিন মাসের চিকিৎসা শেষে মন খারাপ করা খবর নিয়েই দেশে ফিরে আসেন তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন মাত্র ছয় মাস বাঁচবেন কবি।

মৃত্যুমুখে দাঁড়ানো এই সময়টা কবি জীবনের শেষ দিনগুলো কাটাতে চেয়েছিলেন নিজের দেশে। তাই লন্ডন থেকে দেশে ফিরে ভর্তি হন রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেখতে যান তাকে। নেন তার যাবতীয় চিকিৎসার দায়ভার।

১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন সৈয়দ শামসুল হক। কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প তথা সাহিত্যের সকল শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্য তাকে ‘সব্যসাচী লেখক’ বলা হয়। মাত্র ২৯ বছর বয়সে সৈয়দ শামসুল হক বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাওয়া সাহিত্যিকদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে কম বয়সী লেখক।

বিজ্ঞাপন