চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শেখ হাসিনা নামে ৬টি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করত ফারুক

নিজেকে আওয়ামী লীগের বিশেষ এজেন্ট দাবী করে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের কাছে টাকা দাবি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে ৬টি পেজ ব্যবহার করত ব্যবসায়ী ওমর ফারুক। এছাড়াও তিনি প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে ১ টি, আওয়ামী সমর্থক গোষ্ঠী সহ বিভিন্ন জাতীয় নেতাদের নামে সর্বমোট ৩৬ টি পেজ ব্যবহার করতেন।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, তার পরিবারের সদস্য এবং জাতীয় নেতাদের নামে ভুয়া ফেসবুক একাউন্ট খুলে প্রতারণার ঘটনায় পাঁচ জন সাইবার অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব) । বুধবার রাতে র‌্যাব-২ এর একটি দল রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তাররা হলেন, মো. ওমর ফারুক, মো. সাব্বির হোসেন, মো. আল আমিন, মো. আমিনুল ইসলাম আমিন এবং মো.মনির হোসেন। সেসময় তাদের কাছ থেকে  ব্যক্তিগত ভিন্ন ভিন্ন মডেলের ১২ টি মেবাইল ফোন ও ১ টি ল্যাপটপ  উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান।

তিনি বলেন, গত ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত একটি প্রেস রিলিজে আমরা জানতে পারি কিছু কুচক্রি মহল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে কিছু ফেক ফেসবুক একাউন্ট/পেজ থেকে নানা রকম বিভ্রান্তিমূলক, মিথ্যা, বানোয়াট তথ্য-সংবাদ প্রচার হচ্ছে।

আরো জানা যায় প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে অফিসিয়ালি কোন ফেসবুক পেজ নেই।

এরই ভিত্তিতে র‌্যাব-২ ফেক ফেসবুক ব্যবহারকারী ও তাদের মূল হোতাদের আইনের আত্ততায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। গতকাল বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে রাজধানীর মগবাজার, ডেমরা, মেহাম্মদপুর ও ঢাকা জেলার কেরাণীগঞ্জ ও সাভার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মুফতি মাহমুদ বলেন, গ্রেপ্তার সাইবার অপরাধী মো. ওমর ফারুক (৩০) পেশায় ব্যবসায়ী। তার নিজ নামে ৬টি ফেসবুক আইডি আছে। সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে ৬টি পেজ ব্যবহার করত ব্যবসায়ী ওমর ফারুক। এছাড়াও তিনি প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে ১ টি, আওয়ামী সমর্থক গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন জাতীয় নেতাদের নামে সর্বমোট ৩৬টি পেজ ব্যবহার করত।

তিনি তার পরিচালিত সকল ফেসবুক পেজ এ তার ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করেছেন। ফেসবুক পেইজের সুত্র ধরে নিজেকে আওয়ামী লীগের বিশেষ এজেন্ট দাবী করে তিনি আসন্ন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য নির্বাচনে মনোনয়ন প্রার্থীদের টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন নারী নেত্রীদের ফোন করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানাচ্ছে।

আরেক অপরাধী মো. সাব্বির হোসেন (২৪) পেশায় সাইবার কমিউনিকেশন এক্সপার্ট। সাব্বির সন্ত্রাস দমন আইনে দায়ের কৃত ২টি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে ৪টি সহ মোট ৬টি মামলার আসামি। তিনি আগে তারেক জিয়া সাইবার ফোর্স, দেশ নেত্রী সাইবার ফোরাম পেইজের এডমিন ছিলেন।

সম্প্রতি তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার লক্ষ্যে তারেক জিয়া সাইবার ফোর্স, দেশ নেত্রী সাইবার ফোরামের জায়গায় শেখ হাসিনার পরামর্শ ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল নাম সংযোজন করে তাতে নিরাপদ সড়ক চাই ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের উস্কানিমূলক ভিডিও পোষ্ট করতেন।

সাব্বির যে কোন প্রকার নতুন ইস্যুর আগমন হলেই তা সরকার বিরোধী অপপ্রচারে রুপান্তর করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে থাকেন।

মুফতি মাহমুদ আরো জানান, মো. আল আমিন (২৭) পেশায় বেসরকারী চাকরীজীবী। তিনি সাইবার অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত একটি পেইজের এডমিন। তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য জাতীয় নেতৃবৃন্দের ছবি বিকৃত আকারে প্রকাশ করেন।

এছাড়াও  বিভিন্ন জাতীয় প্রতিষ্ঠান বিচার বিভাগ, সেনাবাহিনী, পুলিশকে ঘিরে মিথ্যা তথ্য সন্নিবেশ করে তাতে ভুয়া ছবি সুপার এ্যানিমেশন মাধ্যমে ফেসবুকে পোষ্ট করে থাকেন।

মো. আমিনুল ইসলাম আমিন (২৫) পেশায় ছাত্র। তিনি ইসলামী ছাত্র শিবিরের ছাত্র সংগঠনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য। তিনি ইউটিউবে বিভিন্ন কমিক আইটেম প্রচার করে থাকেন।

তার ফেসবুক একাউন্ট মোট ৪ টি ও ফেইসবুক পেইজ ৩ টি। তিনি আওয়ামী লীগের লোগো দিয়ে প্রজন্ম চেতনা ও স্পাই উদ্দিন নামে ফেসবুক পেজে গুজব ও আন্দোলন সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন উস্কানিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ ভিডিও পোষ্ট করে ভাইরাল আকারে প্রচার করে জনমনে অসন্তোষজনক সৃষ্টি পাঁয়তারা চালাত।

মো. মনির হোসেন (২৯) পেশায় ফটকা ব্যবসায়ী। গত ৭/৮ বছর ধরে ফেসবুক ব্যবহার করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে কেরাণীগঞ্জ থানায় বেশ ক’টি মামলা রয়েছে।

তার নামে ৩টি ফেসবুক আইডি ও ৪টি পেইজ রয়েছে। তিনি সত্যের বিস্ফোরণ নামে একটি পেইজের এডমিন।

মনির হোসেন তার ফেসবুক আইডি ও পেইজ হতে রাজনৈতিক অপপ্রচার, রাষ্ট্র বিরোধী কার্যকলাপ ও বিভান্তিমূলক তথ্য প্রচার করত।

এক প্রশ্নের জবাবে মুফতি মাহমুদ বলেন, আটক আসামিদের মধ্যে দুইজনের নামে ইতিমধ্যে থানায় একাধিক মামলা আছে, অন্যান্যরা আরো কোন অপরাধের সঙ্গে জড়িত কিনা জিজ্ঞাসাবাদে জানা যাবে।

তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।