চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শেখ হাসিনাবিহীন কেমন হতো আজকের বাংলাদেশ?

আজ ১৭ মে। ১৯৮১ সালের এই দিনে অন্ধকারাচ্ছন্ন পুরো জাতি তাকিয়েছিল একছটা আলোর দিকে। যিনি সত্যিকার অর্থেই জাতির আলোকবর্তিকা হয়েছিলেন। এটা সকলেরই জানা- জয়ের আনন্দ ক্ষণস্থায়ী আর পরাজয়ের গ্লানি দীর্ঘস্থায়ী। একাত্তরে আমরা বিজয়ী। পঁচাত্তরে পরাজিত হায়েনাদের ছোবল। জাতীয় জীবনে ঘোর অন্ধকার। পরাজিত শত্রু ও খুনিরা শুধু বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে হত্যা করেনি। একই সাথে হত্যা করছে বাংলাদেশের সমস্ত গৌরব, অর্জন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সংবিধান, মৌল চেতনা ও আদর্শ। নামে মাত্র বাংলাদেশ নামটি ও পতাকা রেখে আলো ও গৌরবের পথ থেকে অন্ধকার এক অনিশ্চিত যাত্রায় দেশকে চালিয়েছে দীর্ঘ সময়। দীর্ঘকাল বাংলাদেশ ছিল এক প্রাণহীন ভূখণ্ড। তারপর শোককে শক্তিতে পরিণত করে দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন ছেড়ে মৃত্যু ঝুঁকি আছে জেনেও এক বন্ধুর পথ অতিক্রম করে জাতির পিতার রক্ত ও আদর্শের শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারী শেখ হাসিনা আজকের এই দিনে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে পা রাখেন। সেইদিন প্রকৃতিও তার সব হারানো দুঃখিনী কন্যাকে আপন আলিঙ্গনে গ্রহণ করেছিল। তিনি ১৯৭৫ সালে স্বামীর কর্স্থমল জার্মানিতে গিয়েছিলেন পুরো পরিবারকে রেখে আর পঁচাত্তরের ১৫-ই আগস্ট কারবালার চেয়েও নৃশংস হত্যাযজ্ঞে পুরো পরিবারকে হারিয়ে আপন করে পেয়েছিলেন বাংলার মানুষকে।

বিজ্ঞাপন

এখন বাংলাদেশের মানুষই তার পরিবার। এ দেশের মানুষ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে যেমন তাদের একজন মনে করেন, ঠিক তেমনি শেখ হাসিনাও এই মানুষদের তার আপনজন মনে করেন। তিনি এদের মাঝে তার বাবা-মা-ছোট ভাই শেখ রাসেলকে খুঁজে ফেরেন। পিতার কাছ থেকে তিনি কিছু সহজাত গুণ পেয়েছেন যা তাকে বর্তমানে সবার থেকে স্বতন্ত্র ও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পিতার মত কন্যার রক্তেও রয়েছে অসীম সাহস, স্বপ্ন, আত্মত্যাগ আর বঞ্চিত মানুষের জন্য অকৃত্রিম ভালোবাসা। দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের পথ পরিক্রমা অতিক্রম করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের দিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। বাংলাদেশকে তার কাঙ্ক্ষিত আদর্শ, উন্নয়ন, গ্লানি মুক্তির দিকে অগ্রসরমান করছেন। ১৯৬৬ সালের ৬ দফা পর বঙ্গবন্ধু যেমন সকল বাঙ্গালী নেতৃত্বকে ছাপিয়ে অসামান্য হয়ে উঠেছিলেন। ঠিক তেমনি বর্তমানে তার কন্যা শেখ হাসিনাও তার সমসাময়িক সকল নেতৃত্বকে ছাপিয়ে নিজেকে কর্ম-সাহস-ভিশনে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু বলা হয় স্বাধীনতার কবি। আজ তার কন্যাকে বলা হচ্ছে উন্নয়নের কবি। তারপরও জীবিত শেখ হাসিনা কি তার প্রাপ্য সম্মান পাচ্ছেন? আমার মনে হয় আমরা শেখ হাসিনাকে এখনো পুরোপুরি বুঝতে ও মূল্যায়ন করতে পারিনি।

বিজ্ঞাপন

আমাদের একটা প্রবণতা হচ্ছে, আমরা জীবিত মানুষের চেয়ে মৃত্যু মানুষকে বেশী মূল্যায়ন করি। আমার ধারনা শেখ হাসিনার অবর্তমানে আজ থেকে ২৫-৩০ বছর পরে এ জাতি যখন পেছন ফিরে তাকাবে, তখন তার প্রকৃত মূল্যায়ন হবে। যেমনটি এখন হচ্ছে আমাদের মহান নেতা স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনকের ক্ষেত্রে। একজন নেতা বা রাষ্ট্রনায়ককে মূল্যায়ন করতে হয় তার নেয়া পদক্ষেপ ও নীতিগুলো দীর্ঘমেয়াদে দেশ, জাতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কতখানি ইতিবাচক ও নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। সেদিক থেকে শেখ হাসিনা এক কথায় অনন্য। তিনি ভিশনারি অনুকরণীয় একজন নেতা ও রাষ্ট্রনায়ক। যে বাংলাদেশ অ্যাডহক ভিত্তিতে চলেছে দীর্ঘকাল সেই দেশকে তিনি দীর্ঘমেয়াদী ভিশন ও লক্ষ্যের দিকে ধাবিত করেছেন। এই জাতি ও মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তার ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে যারা এক সময় হাসাহাসি করতেন তারাই এখন হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। দেশ তার নেতৃত্বে মধ্যমেয়াদী ভিশন – ২০২১ দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ও দীর্ঘমেয়াদী ২০৪১ দিকেও এগিয়ে যাবে। তার নীতিকৌশলে আন্তর্জাতিক মহলও দারুণভাবে প্রভাবিত ও একই সাথে উৎসাহিত।

বিজ্ঞাপন

আজ একবার ভাবুন তো শেখ হাসিনাবিহীন বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জাতির জনক হত্যার বিচার, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও উন্নয়নের সৌরভ-গৌরবে বাংলাদেশের এগিয়ে চলে, বন্দী ছিটমহল বাসীদের দীর্ঘ ৬৫ বছরের প্রতীক্ষার অবসান, ভারত ও মায়ানমারের কাছ থেকে সমুদ্রসীমা জয় – এ সবের কোনটিই কি অর্জন সম্ভব হতো? আজকে শেখ হাসিনা সীমানা জয়ী, মঙ্গা জয়ী, সমুদ্র জয়ী ও বিশ্ব জয়ী উন্নয়নের কবি। তিনি বিশ্বে নেতৃত্বের আইকন। আজ তিনি নিজেকে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্ব পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। শুধুমাত্র কিছু দেশবিরোধী অন্ধকারের শক্তি ব্যতিত আজ তিনি অধিকাংশের কাছে আশার আলো ।

তাই তো শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন মানে হতাশাগ্রস্থ জাতির সামনে আশার সঞ্চার। তা সেটি ১৯৮১ কিংবা ২০০৭। কাকতালীভাবে দুটিই এই মে মাসে। এই দিনে তরুণ সমাজের একজন হিসেবে মহান আল্লাহ্‌ কাছে তার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি আর তা শুধু এই দেশের মানুষের কল্যাণ ও উন্নতির জন্য।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)