চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শুল্ক আরোপ হতে পারে পেঁয়াজ আমদানিতে

সংকটময় সময়ে বন্ধ রাখার পর আবারও পেঁয়াজ রপ্তানি শুরু করেছে ভারত। এমতাবস্থায় পেঁয়াজের মৌসুমে ভারত থেকে আমদানির কারণে কৃষকরা যেন ক্ষতির মুখে না পড়েন, সেদিক বিবেচনায় রেখে শুল্প আরোপ হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দিলে পেঁয়াজ সংকটে পড়ে বাংলাদেশ। তখন অন্য দেশ থেকে আমদানি সহজ করতে পণ্যটির ওপর ধার্য শুল্ক মওকুফ করে সরকার। সেই শুল্ক আবারও আরোপ করা হতে পারে। এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে বৈঠক করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

ভোক্তা এবং উৎপাদনকারীদের স্বার্থ রক্ষা করেই পেঁয়াজ আমদানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগের এলসি করা পেঁয়াজগুলো এখন দেশে প্রবেশ করছে। এগুলোর বর্তমান আমদানি মূল্য প্রতি কেজি প্রায় ৩৯ টাকা। নতুন আমদানির বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। দেশের পেঁয়াজ পুরোদমে বাজারে আসবে আগামী মার্চ মাসে।

টিপু মুনশি বলেন, ভারত তাদের সুবিধা মত পেঁয়াজ বাংলাদেশে রপ্তানি করে এবং রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। পেঁয়াজ আমদানি নির্ভর না থেকে দেশের মানুষের চাহিদা পূরণের জন্য সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। উন্নতমানের বিজ ব্যবহার করে এবং উৎপাদনকারীদের উৎসাহ দিয়ে দ্রুত পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানো হবে। ৪ থেকে ৫ লাখ টন পেঁয়াজ হিমাগারে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া, ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ বাউডার বানিয়ে বাজারজাত করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

পেঁয়াজ আমদানি নির্ভরতা থাকবে না আশাবাদ ব্যক্ত করে টিপু মুনশি বলেন, কোন অসাধু ব্যবসায়ীকে সুযোগ নিতে দেয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ৮ থেকে ৯ লাখ টন পেঁয়াজের ঘাটতি রয়েছে। সরকার পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জনে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ছে। আশা করা যায় আগামী ৩ বছরের মধ্যে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ং সম্পন্ন হবে। পেঁয়াজের বিষয়ে সরকার সচেতন রয়েছে।

আলুর বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আলুর দর নেমে এসেছে। আলুর দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন টিসিবি সাশ্রয়মূল্যে বাজারে আলু বিক্রয় করেছে। আলুর মূল্য এখন স্বাভাবিক।

তবে ভোজ্য তেলের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে। এটি একটি আমদানি নির্ভর পণ্য। সে কারণেই বাংলাদেশে এর সাময়িক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করেন তিনি।

চালের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ মহুর্তে আমাদের চালের মজুত কিছুটা কম রয়েছে। সে জন্য সরকার চাল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে আমদানি শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় মজুত নিশ্চিত করতে চাল আমদানি করবে সরকার। বেসরকারি পর্যায়েও চাল আমদানির সুযোগ দেয়া হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দীন।