চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শুরুতে ঝড়, শেষে ঘূর্ণিতে রোমাঞ্চের নায়ক মেহেদী

বঙ্গবন্ধু টি-টুয়েন্টি কাপ-২০২০

শুরুতে দলের বিপর্যয়ে নেমে ব্যাট হাতে তুললেন ঝড়। তুলে নিলেন ম্যাচের একমাত্র ফিফটি। খেললেন ৩২ বলে ৫০ রানের ইনিংস। শেষে ঘূর্ণি জাদুতে ঢাকাকে ২০তম ওভারে তুলতে দিলেন না দরকারি ৯ রান। ৪ ওভারে ২২ রানে ঝুলিতে ১ উইকেট। উত্তেজনার ম্যাচ ব্যাটে-বলে রাজশাহীর জয়ের নায়ক মেহেদী হাসান।

মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু টি-টুয়েন্টি কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর মিনিস্টার রাজশাহী। তারা ২ রানে হারিয়েছে মুশফিকুর রহিমের বেক্সিমকো ঢাকাকে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে এসে শুরুটা ভালো না করতে পারলেও চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহে পৌঁছায় রাজশাহী। নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেটে তোলে ১৬৯ রান। জবাব দিতে নেমে ৫ উইকেট অক্ষত রেখেও ১৬৭ রানে আটকে যায় ঢাকা।

অধিনায়ক শান্ত ও আনিসুল ইমন ওপেন করতে নামেন। ২ ছয়ে ১৭ বলে ১৭ করে শান্ত ক্যাচ দিলে ভাঙে ২৩ বলে ৩২ রানের উদ্বোধনী জুটি।

এরপর রনি তালুকদার ৬, মোহাম্মদ আশরাফুল ৫ ও ফজলে মাহমুদ রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরলে চাপে পড়ে রাজশাহী। একপাশ আগলে রাখা আনিসুল ৩৫ করে ফিরলে চাপ আরও বাড়ে। ৫ চার ও এক ছক্কায় ২৩ বলের ইনিংস তার।

সেখান থেকে লড়াই শুরু নুরুল হাসান সোহান ও মেহেদী হাসানের। দুজনে জুটিতে ৮৯ রান যোগ করেন ৪৫ বলে। উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান সোহান ৩৯ রানে স্টাম্পড হয়ে ফিরলে ভাঙে জুটি। ২ চার ও ৩ ছক্কায় ২০ বলের ইনিংস তার।

অলরাউন্ডার মেহেদী ফিরেছেন আসরের প্রথম ফিফটি তুলে। ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ৩২ বলের ঝড় তোলা ইনিংস তার।

শুরুতে দারুণ বল করা রুবেল উইকেটের দেখা পাননি, ৪ ওভারে ২৯ দিয়েছেন এই পেসার। আরেক পেসার মুক্তার আলি নিয়েছেন ৩ উইকেট, ৪ ওভারে ২২ রান খরচায়।

বাকিদের মধ্যে মেহেদী রানা, নাসুম আহমেদ ও নাঈম হাসান নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।

বিজ্ঞাপন

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বিশ্বকাপজয়ী যুবা তাদজিদ হাসান তামিমের ২ চার এক ছয়ে ১১ বলে ১৮ রানে দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দেয় ঢাকা। তামিম প্রতিপক্ষ বোলারের সঙ্গে সংঘর্ষে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানআউট হলে সম্ভাবনা থামে।

আরেক ওপেনার ইয়াসির আলি ৯ করে ফিরে যান। নাঈম শেখ তিনে নেমে ১৭ বলে ২৬ করে রানের চাকা সচল রাখেন। ২টি করে চার-ছক্কায় সাজানো ইনিংস তার।

সেখান থেকে বিশ্বকাপজয়ী যুবা অধিনায়ক আকবর আলীকে নিয়ে লড়াই জমিয়ে তোলেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। জুটিতে আসে ৭১ রান। ৪ চার এক ছয়ে ২৯ বলে ৩৪ করে ক্যাচ দেন আকবর।

মুশফিকও লড়াই এগিয়ে নিতে পারেননি। ৩৪ বলে ৪১ করে এবাদতের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন। তার ইনিংসে ছিল ৩ চার আর এক ছয়।

শেষ দুই ওভারে ৩০ রান দরকার পড়ে ঢাকার। ফরহাদ রেজার করা ১৯তম ওভারে মুক্তার আলির তিন ছয়ে ২১ রান উঠে গেলে জয়ের মঞ্চ শক্ত হয় মুশফিকদের।

শেষ ওভারে স্পিন-অলরাউন্ডার মেহেদীর থেকে প্রথম তিন বলে রান আদায় করতে পারেননি মুক্তার। চতুর্থ বলে হাঁকান বাউন্ডারি। পঞ্চম বলটি ডট করেন মেহেদী। কিন্তু বলটি নো ডাকা হয়। ফ্রি হিটেও ডট করেন মেহেদী। শেষ বলে ঢাকার সমীকরণ দাঁড়ায় ৪ রান। মেহেদি দেন কেবল এক রান।

মুক্তার এক চার ও ৩ ছয়ে ১৬ বলে ২৭ রানে অপরাজিত থেকে যান। সঙ্গী সাব্বির রহমান ৭ বলে ৫ রান করে অপরাজিত থেকে চাপ বাড়িয়েছেন অপর প্রান্তের ব্যাটসম্যানের কাঁধে।

মেহেদী ছাড়াও রাজশাহীর হয়ে ১টি করে উইকেট নিয়েছেন এবাদত হোসেন, আরাফাত সানি ও ফরহাদ রেজা।