চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শুধু শুল্ক কমালেই হাহাকার থামবে?

মোটা চালের কেজি প্রায় ৫০ টাকায় পৌঁছানোর পর বাজারে সরবরাহ বাড়াতে নানান উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেই উদ্যোগের বড় পদক্ষেপ চাল আমদানিতে যে শুল্ক ছিল; তাতে বিরাট ছাড় দিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। আগে এই শুল্কের পরিমাণ ছিল ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ এক লাফে কমেছে ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। এছাড়াও ধানের মজুদের পরিমাণ এবং মজুদের সময়সীমা কমাতে এরই মধ্যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার।

সরকার যখন চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব উদ্যোগ নিচ্ছে, তখন নতুন চাল বাজারে এসে গেছে। অন্য বছর এই সময় স্বাভাবিকভাবেই চালের দাম কম থাকে। অথচ এবার পরিস্থিতি অস্বাভাবিক। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রায় দ্বিগুণ দামে চাল কিনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সরকার নিয়ন্ত্রিত সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি বলছে, মোটা চালের দাম গত বছরের তুলনায় ৪৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়েছে। বেড়েছে সরু এবং মাঝারি মানের চালের দামও।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু কেন? এর একটাই উত্তর হতে পারে- অতিমুনাফা লোভী ব্যবসায়ীদের কারসাজি। সেই ব্যবসায়ী করা? সরকার তাদেরকে চেনে। তারপরও মুনাফা লোভীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে আমরা দেখিনি। এমনকি তারা সরকারকে জিম্মি করে ধান-চালের দাম বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে তারা। তাই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আমন চালও সংগ্রহ করতে পারেনি খাদ্য মন্ত্রণালয়। অথচ সেই সব ব্যবসায়ীরা বহাল তবিয়তেই আছেন।

বিজ্ঞাপন

তাহলে কি সরকারও তাদের কাছে অসহায়? নাকি এর পেছনে কি অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে? আজ যখন সংবাদ সম্মেলন করে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলছিলেন, ‘বাণিজ্য, কৃষি, অর্থ ও খাদ্য মন্ত্রণালয় মিলে চালের দর নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু সহনীয় দাম কত করা যায়- তার কোনো নীতিমালা নেই। ধানের দাম কমলে আমরা কৃষকের জন্য হাহাকার করি। আবার চালের দাম বাড়লেও হাহাকার করি।’

প্রকৃতপক্ষে খাদ্যমন্ত্রী চালের একটা ‘ন্যায্য দর’ ঠিক করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তিনি মনে করছেন, এটা চূড়ান্ত হলে দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। কিন্তু আদৌ কি তা হবে? বা হয়েছে? এর আগে আমরা সরকারকে পেঁয়াজ, আদা, আলুসহ কয়েকটি পণ্যের দাম ঠিক করে দিতে দেখেছি। কিন্তু বাস্তবে সেটা কার্যকর করা যায়নি। মানে তা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে তারা।

আমরা মনে করি, নিত্যপণ্যের দাম বাড়াতে যে সিন্ডিকেট কাজ করে, কোনো এক অদৃশ্য কারণে তারা বারবার শাস্তি থেকে পার পেয়ে যায়। আর এটাই সরকারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা এবং সেই সিন্ডিকেটের কাছে তা বড় সুযোগ। তাই যতদিন না তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে; ততদিন এমন হাহাকার থাকবেই। শুধু চালের আমদানি শুল্ক কিংবা মজুদের সীমা কমিয়ে কোনো লাভ হবে না।