চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শুধু নামেই ট্রাফিক সপ্তাহ

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় নিজেদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে গত ৫ আগস্ট থেকে ‘ট্রাফিক সপ্তাহ-২০১৮’ শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। ‘ট্রাফিক আইন মেনে চলুন, ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করুন; ট্রাফিক শৃঙ্খলা একটি জাতির সভ্যতার প্রতীক’ এমন স্লোগানে শুরু হওয়া ট্রাফিক সপ্তাহ ১১ তারিখে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা অারো ৩ দিন বাড়ানো হয়

নিরাপদ সড়কের চেয়ে ৯ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে হঠাৎ করেই সারাদেশে এ ট্রাফিক সপ্তাহের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা সড়ক ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশের ব্যর্থতাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, রাজধানী জুড়ে সুশৃঙ্খলভাবে সড়ক পরিচালনা করে তারা দেখিয়ে দেয়; সদিচ্ছা থাকলে অনেক কিছুই করা সম্ভব হয়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর অনেকেরই ধারণা ছিল অন্তত রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলার প্রতিফলন দেখা যাবে। কিন্তু তা হয়নি। এমনকি ট্রাফিক সপ্তাহের মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিকেও দুর্ঘটনায় পড়তে হয়েছে। এর বাইরে প্রতিদিন অসংখ্য ঘটনা ঘটলেও পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে ‘ট্রাফিক সপ্তাহ’ সফল। কিন্তু রাস্তায় সেই সফলতার চিহ্নমাত্র নেই।

ট্রাফিক সপ্তাহের প্রতিটি দিনে ছিল সেই একই চিত্র; দীর্ঘ যানজট, অহরহ ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, যত্রতত্র পার্কিং, যেখানে সেখানে গাড়ি থামে যাত্রী উঠানো নামানো, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে ইচ্ছামত রাস্তা পারাপার ইত্যাদি। মানে যে যার মতো সেই ফ্রি-স্টাইলেই চলছে।

চোখে পড়ার মতো একটা বিষয় ছিল ট্রাফিক সপ্তাহের শুরুর দিকে সচেতনতামূলক কিছু প্রচারণা। আর শেষ দিকে এসে সারাদেশে কয়েক লাখ মামলা, সাড়ে চার কোটি টাকা জরিমানা আর কয়েক হাজার চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার খবর। কিন্তু এত কিছুর পরও শৃঙ্খলায় তার প্রভাব ছিল না।

এ নিয়ে নিজের হতাশা অাড়াল করেননি ডিএমপি কমিশনার নিজেও। তিনি বলেছেন, ‘বিদেশে ৯৮ শতাংশ মানুষ আইন মানলেও আমাদের দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ ট্রাফিক আইন মানেন না। এ কারণেই তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তার এমন মন্তব্যর পর প্রশ্ন উঠতেই পারে; মানুষ আইন মানবে না কেন? আইন মানানোর কাজ বা দায়িত্বটা কার? এই আইন না মানার দায়টা কি তার নিজের উপরই বর্তায় না? পুলিশ যদি কঠোর হয়, তাহলে কার এমন সাধ্য আছে আইনভঙ্গ করে?

আমরা সবাই জানি, রাজধানীর রাস্তাগুলো অপ্রশস্ত, গাড়ি বেশি, ফুটপাত দখল কিংবা সময়ে অসময়ে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজের কথা। কিন্তু এসবই অব্যবস্থাপনার ফল। এই অব্যবস্থাপনায় দায় শুধু পুলিশের নয়, ট্রাফিক আইন না মানা মানুষেরও। তাই আমরা মনে করি, অাইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়।