চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শুঁটকি উৎপাদনের ধুম পড়েছে কক্সবাজারে

শীত মৌসুম শুরুর সাথে সাথে কক্সবাজার উপকূলে শুঁটকি তৈরির ধুম পড়েছে। জেলে পল্লীগুলোতে বেড়েছে ব্যস্ততা। কক্সবাজার শহরের নাজিরার টেক, ও মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপ আর কুতুবদিয়ার শুঁটকি মহাল গুলোতে এখন শুঁটকির গন্ধ। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সক্ষম সম্ভাবনাময় এ শিল্পে বিদেশের বাজারে শুঁটকি রপ্তানির চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন। উৎপাদনে রয়ে গেছে এখনও সনাতন পদ্ধতি। তার উপর শুঁটকিতে মেশানো হচ্ছে কীটনাশক ও লবণ। এতে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে। তাই প্রয়োজন শুঁটকি তৈরিতে আধুনিকায়ন এবং লবণ ও কীটনাশক বিহীন স্বাস্থ্যসম্মত শুঁটকি তৈরির জন্য জেলেদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি।

Advertisement

জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরের কূলঘেঁষা বাঁকখালী নদীর মোহনার দুপাশে অবস্থান দেশের বৃহত্তম শুঁটকি পল্লী নাজিরারটেক ও সোনাদিয়া। বাঁকখালী নদীর মোহনা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে নাজিরারটেক শুটকি মহাল। সাগর থেকে আহরিত নানান প্রজাতির মাছ এখানে শুকানোর পর তৈরি হচ্ছে শুঁটকি। অপর দিকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মহেশখালীর সোনাদিয়া ও ধলঘাটার হামিদ খালী চরে গড়ে উঠেছে আরেকটি শুঁটকি পল্লী। শুঁটকি তৈরি পল্লীর মাঝি কালাম বহদ্দার জানান, সোনাদিয়ার চর এলাকায় শতশত জেলে ক্ষণস্থায়ী কেল্লা তৈরী করে সাগর থেকে আহরিত মাছ সনাতন পদ্ধতিতে রোদে শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করে। এসব শুঁটকি দেশের গন্ডি পোরিয়ে যাচ্ছে বিদেশে ও। শুটকি রপ্তানি কারক জয়নাল আবেদীন জানান,প্রতি বছর এ শীতের মৌসুমে কক্সবাজার থেকে আমেরিকা, ব্রিটেন,থাইল্যান্ড,হংকং, মালয়েশিয়া, জার্মান, সৌদি আরব,দুবাইসহ উন্নত দেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আসছে এ দেশে। তবে এ রপ্তানি বাড়াতে সরকারের সহযোগিতা ও কামনা করেন এ রপ্তানিকারক।
মৎস্য কর্মকর্তা ড.মঈন উদ্দিন জানান,কক্সবাজার অঞ্চলে ৮০ প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। এসব মাছ থেকে লইট্যা, চিংড়ী, ফাসিয়া, রূপচাঁদা, কামিলা, লাক্ষ্যা, করতি, ছুরি, রুপসা, সুরমা, তাইল্যা, পোঁপাসহ কিছু প্রজাতির মাছের শুটকি করা হয়।
সোনাদিয়া চরের মাছ ব্যবসায়ী শফিউল আলম জানান, প্রতি শুস্ক মৌসুমে এখান থেকে ব্যবসায়িরা লক্ষ লক্ষ টাকার শুঁটকী মাছ ক্রয় করে ঢাকা,সাতক্ষীরা,খুলনা, বাগেরহাট,চট্রগ্রাম,খাগড়াছড়ি সহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে প্রচুর লাভবান হয়। নাজিরারটেকের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিদেশে রপ্তানীকারক হাজী ইসহাক সওদাগর জানান, এখানকার কিছু মহাজনী ব্যবসায়ী সুযোগ বুঝে কম দামে মাছ কিনে গুদামজাত করে তা বর্ষাকালে দাম চড়া মুল্যে বিক্রি করে।
শুঁটকি উৎপাদনকারী আকতার কামাল জানান, পুরা সোনাদিয়ার চর ও নাজিরারটেক এলাকায় মাচা তৈরি করে শুঁটকি উৎপাদন করে যাচ্ছে জেলেরা। এ কাজের সাথে নানা ভাবে ২ লাখ মানুষ জড়িত বলে ও জানান তিনি। তবে অনেকে শুঁটকি তৈরির সময় কীটনাশক আর লবন মিশিয়ে থাকে বলে অভিযোগ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী। তিনি এ বিষয় টি তদারকির দাবী জানান।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাঃ মাহবুবুর রহমান বলেন,কীটনাশক মেশানো শুঁটকি মানব দেহের জন্য খুবই ক্ষতিকারক।
তবে এ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাছ আহরন কালে সাগরে জেলেদের নিরাপত্তা ও শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত করণ ও বিদেশে রপ্তানিতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ফেলে এ খাতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের হার বেড়ে যাবে বহুগুন।