চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শীত নেই, নগরে তবু ফোকের আমেজ

চতুর্থ বারের মতো রাজধানীতে শুরু হয়েছে ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক ফোকফেস্ট’-এর আসর

নভেম্বরের মাঝামাঝিতে সাধারণত পুরোপুরি শীতের আবহে মজে থাকেন শহুরে মানুষ। বিগত তিন বছর ধরে এই সময়ে নাগরিক মানুষের মধ্যে উষ্ণতা ছড়াতে আয়োজন হয়ে আসছে বাঙালির প্রাণের গানের আসর ‘ঢাকা ইন্টারনেশনাল ফোকফেস্ট’। শীতের সাথে একেবারে নিবিড় সম্পর্ক ঢাকা আন্তর্জাতিক ফোকফেস্টের।

যথারীতি এবারও একই সময়ে শুরু হল ফোকফেস্টের আসর। কিন্তু এবার নগরে নেই শীতের আবহ! তাতে কি! শীত ছাড়াই নরগবাসী পুরোপুরি মজেছেন ফোকফেস্টে!

হ্যাঁ। জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে শুরু হলো দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় লোকগানের আসর ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক ফোকফেস্ট-২০১৮’। তিন দিনব্যাপী গানের
এই উৎসবের শুরুর দিনে মঞ্চ মাতালেন দেশী-বিদেশী শিল্পীরা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে শুরু হয় লোকগানের সবচেয়ে বড় আয়োজন। শুরুতেই ভিন্নধর্মী পরিবেশনা দিয়ে পর্দা উঠে এবারের ফোকফেস্টের। নৃত্য পরিবেশন করেন ভাবনা নৃত্য দল।

এরপর ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসব’-এ লোকসংগীত শিল্পী আব্দুল হাই দেওয়ানের পরিবেশনা দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে গানের আসর শুরু। মুহূর্তেই মন্ত্রমুগ্ধ করেন তিনি। বেশকিছু জনপ্রিয় লোকগান পরিবেশন করেন তিনি।

 তবে আর্মি স্টেডিয়ামে এবারের আসর জমায় বিদেশি দল দাইকান্দা। তারা এসেছেন পোল্যান্ড থেকে। ফোক ঘরানার এই দলের অসাধারণ সংগীত পরিবেশনায় মজে গোটা আর্মি স্টেডিয়াম। বিশেষ করে তাদের মিউজিক, সুর আর বাদ্যের তালে তালে নেচে উঠে পুরো স্টেডিয়াম। প্রায় এক ঘন্টা ব্যাপী মঞ্চ মাৎ করেন তারা।

Advertisement

দাইকান্দার পরেই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পালা। মঞ্চে আসেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন ও ঢাকা ইন্টারনেশনাল ফোকফেস্টের আয়োজক ও সান কমিউনিকেশন-এর কর্ণধার অঞ্জন রায় চৌধুরী।

উদ্বোধন কালে উপস্থিত অতিথিরা ফোকফেস্টের প্রশংসা করে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।

উদ্বোধনের পর পরই মঞ্চে ডাকা হয় কলকাতার জনপ্রিয় শিল্পী সাত্যকি ব্যানার্জি ও তার দলকে। স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই দল নিয়ে মঞ্চে উঠেন সাত্যকি। এরআগেও তিনি এই ফেস্টে পারফর্ম করে গেছেন, তবে সেটা মিউজিশিয়ান হিসেবে। অর্ক মুখার্জীর সঙ্গে। তবে এবার তিনি নিজেই গাতক। নিতাই গৌরাঙ্গ দিয়ে শুরু করেন তার পরিবেশনা। টানা পনেরো মিনিট সুরে, ছন্দে আর মিউজিকে ভেলকি দেখান তিনি।

এরপর গেয়ে উঠেন ‘দে দে পাল তোলে দে’র মতো তুমুল জনপ্রিয় গান। দোলে উঠে গোটা আর্মি স্টেডিয়াম। চতুর্থ আসরের প্রথম দিনের পুরো আয়োজনে এই মুহূর্তটাতেই দর্শক শ্রোতারা একটু বেশি চাঙ্গা হয়ে উঠেন। এরপর আরো দুটি গানে পারফর্ম করেন সাত্যকি।

সাত্যকির পর পরই প্রথম দিনের শেষ পারফর্মার হিসেবে মঞ্চে ডাকা হয় ভারতের সুফিবাদী গানের দল ওয়াদালি ব্রাদার্স-দের। ঘড়িতে তখন রাত সোয়া এগারো। কাওয়ালি ধাঁচে গাওয়া এই ভাই ব্রাদারদের গানেও অনেককেই দেখা গেল অবচেতনেই মাথা দোলিয়ে দিতে!

গানের শক্তি, সুরের শক্তি, ফোকের শক্তিটা বোধহয় এখানেই। সুরের সাথে একাত্মতা থাকলে গানের কথা না বুঝলেও গানে ভেসে বেড়ানো যেন সহজ হয়ে উঠে। আর সেটাই প্রমাণ করলো ফোকফেস্টের ভিনদেশি শিল্পীদের পরিবেশনা! সম্ভবত এখানেই এমন একটি ফেস্টিভালের সার্থকতা!