চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শিশু সামিয়া ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তি গ্রেপ্তার

রাজধানীর ওয়ারীর বনগ্রামে শিশু সামিয়া আফরিন সায়মাকে (৭) ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হারুন অর রশীদ নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রোববার দুপুরে বিষয়টি চ্যানেল আই অনলাইনকে নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-কমিশনার (ডিসি) ইফতেখার আহমেদ।

তিনি জানান, শিশু সায়মাকে ধর্ষনের পর হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হারুন অর রশীদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার দুপুর দুইটায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা মূলহোতা হারুনকে শনাক্তের কথা জানান। তিনি জানান, ওই ভবন ও আশপাশের ভবনের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত হারুনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

হারুন ওই ভবনেই একটি ফ্লোরে হারুনের ভাই বসবাস করতেন। হারুন প্রায়ই ওই বাসায় আসা-যাওয়া করতেন।

এর আগে রোববার ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ওই ভবন ও আশপাশের ভবনের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে যাচাইবাছাই করা হয়েছে। সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত এক যুবককে শনাক্ত করা হয়েছে। ওই যুবক ওই ভবনেই একটি ফ্লোরে বসবাস করতেন।

ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

শনিবার সন্ধ্যায় ওয়ারী থানা পুলিশ শিশু সামিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ভবনের মালিক, বাসার দারোয়ান ও দারোয়ানের ছেলেসহ ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

শনিবার দুপুরে শিশু সামিয়া আফরিন সায়মার ময়নাতদন্ত করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ।

সামিয়া ধর্ষণ-হত্যা
মূল অভিযুক্ত হারুন অর রশীদ

ময়নাতদন্ত শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে তার শরীরে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। ধর্ষণের পর তাকে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

সায়মার বাবা আব্দুস সালাম গণমাধ্যমকে জানায় সন্ধ্যার পর ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তার মাকে বলে ‘আমি উপরে পাশের ফ্ল্যাটে যাচ্ছি, একটু খেলাধুলা করতে।’ এরপর থেকে নিখোঁজ হয় সায়মা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ৯ তলায় খালি ফ্ল্যাটের ভেতরে গলায় রশি দিয়ে বাঁধা ও মুখে রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়েকে দেখতে পাই।

সায়মার বাবা আব্দুস সালাম নবাবপুরের একজন ব্যবসায়ী। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সায়মা। ওয়ারী সিলভারডেল স্কুলের নার্সারিতে পড়ত।

শনিবার সকালে শিশুর বাবা আব্দুস সালাম বাদী হয়ে ওয়ারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে শিশু সায়মার খোঁজ পাচ্ছিল না তার পরিবার। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাদের বাসার পাশের একটি নবনির্মিত ভবনটির ৮ তলার ফাঁকা ফ্ল্যাট থেকে সায়মাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

বিজ্ঞাপন