চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শিশু আয়েশা মনি হত্যা মামলার বিচার শুরু

আগামী ৭ই ফেব্রুয়ারি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ

পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার আলোচিত শিশু আয়েশা মনির হত্যার মামলার আসামি জান্নাতুল ওয়াইস নাহিদের (৪৫) বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে।

বুধবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রবিউল আলম মামলার অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পরে আগামী ৭ই ফেব্রুয়ারি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন আদালত। সেসময় এজলাসে আয়েশা মনির মা রাজিয়া সুলতানা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকালে আয়েশা মনির পরিবারকে আইনগত সহায়তা দেয়া মানবাধিকার সংগঠন ‘আইনসেবা এ লিগাল সাপোর্ট সেন্টার সোসাইটি’ এর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম বিষয়টি চ্যানেল আই অনলাইনকে নিশ্চিত করেন।

গত বছরের ৫ মার্চ ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়া মামলার তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ওপর দেন।

পরে পিবিআই মামলাটি তদন্ত করে আসামি জান্নাতুল ওয়াইজ নাহিদের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় অভিযোগ পত্র দায়ের করে।

আসামি নাহিদ ও তার পরিবার অর্থনৈতিকভাবে এবং স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় মামলার তদন্ত কাজ শুরু থেকেই প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।

আয়েশা মনির পরিবার তা বুঝতে পারলে, আয়েশা মনির মা রাজিয়া সুলতানা মেয়ে হত্যার সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবিতে প্রেসক্লাবে একাই মানববন্ধন করে।

বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে, ‘আইনসেবা এ লিগ্যাল সাপোর্ট সেন্টার সোসাইটি’ নামক একটি মানবাধিকার সংগঠন আয়েশা মনির পরিবারকে আইনগত সহায়তা প্রদানে এগিয়ে আসে।

বিজ্ঞাপন

মানবাধিকার সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: আদালত আমাদের বক্তব্য শুনেন এবং মামলার নথি পর্যালোচনা করে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং আগামী ৭ই ফেব্রুয়ারি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন।

পিবিআই জানায়, মামলার তদন্তকালে তারা একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

শিশু আয়েশা মনি

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) উপ-পরিদর্শক সাদেকুর রহমান বলেন: ২০১৯ সালের ১১ অক্টোবর আমরা আদালতে শিশু আয়েশা মনি হত্যার অভিযোগপত্র দাখিল করি। এই মামলায় আসামির নিজ মেয়ে ফাতিহা খান বুশরা (১৪) তার বাবা জান্নাতুল ওয়াইজ নাহিদের বিরুদ্ধে আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে উপস্থিত হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন: আইনসেবার আইনি সহযোগিতায় আয়েশা মনির বাবা মামলার তদন্তভার থানা থেকে পরিবর্তন করে অন্য কোন সংস্থার কাছে তদন্তভার হস্তান্তরের জন্য আদালতে আবেদন করেন। পরে আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ওপর দেন।

তিনি বলেন: বাংলাদেশ বিগত দিনে যে হারে শিশুদের উপর নির্যাতন ও হত্যা বেড়ে চলছে। এই সকল মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তি করে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় এই ধরনের বর্বরতম অপরাধ আমাদের সমাজে থেকে নির্মূল করা যাবে না।

২০১৯ সালের ৫ জানুয়ারি বিকেলে খেলতে বের হয়ে দুই বছরের শিশু আয়েশা মনি আর ঘরে ফেরেনি। সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশের চারতলা একটি ভবনের সামনে আয়েশার রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

ওই ঘটনার একদিন পর ৭ জানুয়ারি শিশুকন্যা আয়েশা মনিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এই অভিযোগে বাদী হয়ে গেন্ডারিয়া থানায় মামলা করেন আয়েশার বাবা মো. ইদ্রিস।

তিনতলা থেকে তাকে নিচে ফেলে হত্যা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

পরে মামলাটি আদালতের আদেশে থানা থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) স্থানান্তরিত হয়।