চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে স্মার্টফোন

অভিভাবকরা যখন সন্তানকে একটু ব্যস্ত রাখতে তার হাতে স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট তুলে দিতে মোটেও দ্বিধা করছেন না, তখন বিজ্ঞানীরা বলছেন এতে সন্তানের প্রবল ক্ষতিই করছেন।

কারণ গবেষণা বলছে, স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট ব্যবহারকারী ২ বছরের কম বয়সী শিশুরা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগে। মাত্র এক ঘণ্টাও যদি শিশুরা কোনো স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে তাহলে তারা উদ্বিগ্নতা বা হতাশায় ভোগে। 

এর ফলে তারা কম কৌতুহলী হয়ে ওঠে, কাজ শেষ করার দক্ষতাও কমে যায়, আবেগের দিক থেকে কম স্থির হয় এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ কমে যায়। যদিও বাচ্চারা এসব ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে, তবে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুরা এমনকি মস্তিস্ক গঠন হচ্ছে এমন শিশুদের উপরও প্রভাব ফেলে এই সব যন্ত্র।

গবেষণা মতে, ব্রিটিশ শিশুরা দিনে অন্তত পাঁচঘণ্টা সময় কাটায় অনলাইনে। সান দিয়াগো স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং দ্য ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার গবেষকদের মতে, স্মার্টফোনে সময় কাটানো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার একটি গুরুতর কিন্তু উপেক্ষা করা যায় এমন কারণ।

প্রফেসর জিন টুয়েনজ এবং কেথ ক্যাম্পবেল বলেন, অর্ধেকটা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয় বয়:সন্ধির কারণে। তবে সেই সব কারণ চিহ্নিত করতে হবে যা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ঘটায়। যদিও দেখা যাবে তাদের বেশিরভাগকেই কোনোভাবে প্রভাবিত করা কঠিন বা অসম্ভব। কিন্তু শিশু বা বয়:সন্ধিকালে সন্তান কিভাবে অবসর কাটাবে সেটা নিশ্চয়ই বদলানো যায়।

সন্তান কতটা সময় অনলাইনে কাটাবে বা কতটা সময় টিভি দেখতে সেই সময়টা অবশ্যই বাবা-মা এবং শিক্ষকদের কমাতে হবে। তাতে সেটা পড়ার জন্য, সামাজিকতা রক্ষার জন্য, খাওয়ার জন্য বা কোনো খেলার জন্যই হোক।

Advertisement

প্রফেসর টুয়েনগে তার গবেষণায় বলেন, দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুরা একঘণ্টা সময় অনলাইনে কাটাতে পারে। স্কুলগামী বা বয়:সন্ধিকালে থাকা শিশুরা খুব বেশি হলে দুই ঘণ্টা সময় কাটাতে পারে।

২০১৬ সালে দুই থেকে ১৭ বছর বয়সী ৮০ হাজার মার্কিন শিশুর বাবা-মায়ের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এই গবেষণা করা হয়েছে। সেখানে শিশুদের শারিরীক সমস্যা, কোনো আবেগিক, উন্নয়নশীল ও আচরণগত বিষয় রয়েছে কিনা সেসম্পর্কেও জানতে চাওয়া হয়।

গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, টিনেজাররা গত একবছরেও কোনো বই পড়েনি এমনও রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমই বরং তাদের সব সময় কেড়ে নিচ্ছে। ১৭-১৮ বছর বয়সীদের মাত্র ১৬ শতাংশ প্রতিদিন বই পড়েন বিনোদনের জন্য, যেটা ১৯৭০ সালে দিকে ছিলো ৬০ শতাংশ। আর ১৫-১৬ বছর বয়সীদের মাত্র ২ শতাংশ দৈনিক খবরের কাগজ পড়েন। যেটা ১৯৯০ সালে ছিলো ৩১ শতাংশ।

তবে ২০০৬-২০১৬ সালের মধ্যে টিনেজারদের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারের প্রবণতা অনেক বেড়েছে।

টুয়েনগে বলেন, আগের প্রজন্মের সঙ্গে তুলনা করলে, ২০১০ দশকের টিনেজাররা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বেশি সময় ব্যয় করে, অন্যান্য গতানুগতিক মাধ্যম যেমন, বই, ম্যাগাজিন এবং টেলিভিশনের তুলনায়।

তবে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়ায় টিনেজারদের স্কুলে পারফর্মেন্স কমে যাবে এমনকি তাদের বই বুঝতেও সমস্যা হবে বলে মনে করেন গবেষকরা।