চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘শিশুদের স্কুলে অনুপস্থিতি করোনার চেয়ে বড় ক্ষতি’

যুক্তরাজ্যের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা

শিশুদের স্কুলে ফিরতে না পারা বা স্কুলে অনুপস্থিতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার চেয়ে বড় ধরনের ক্ষতি বয়ে আনবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা অধ্যাপক ক্রিস হুইটি।

বিবিসির এক সাক্ষাতকারে অধ্যাপক হুইটি বলেন, কোভিড-১৯ এর কারণে বিশ্বব্যাপী শিশুদের মৃত্যুর হার অবিশ্বাস্য রকমের কম। সামান্য ঝুঁকি থাকলেও শিশুদের স্কুলে ফেরানো উচিত। তাদের স্কুলে অনুপস্থিতি পড়ালেখার জন্য দীর্ঘকালিন ক্ষতি, যা করোনাভাইরাসের হুমকির চেয়ে বেশি ক্ষতিকর হবে।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যের প্রধান এই চিকিতসা উপদেষ্টা বলছেন, করোনাভাইরাস ধরা পড়ার চেয়ে শিশুরা পরের মাসে স্কুলে না ফিরলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস আরও কমপক্ষে ৯ মাসের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি মনে করেন, ২০২০ সালের মধ্যে করোনা ভ্যাকসিন আসার সম্ভাবনা নেই। তবে ২০২১-২০২২  শীতকালিন সময়ের আগে সবকিছুতে একটা যৌক্তিক সমাধান আসবে।

বিজ্ঞাপন

হুইটি এমন সময় এ মন্তব্য করলেন, যখন করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যেও ইংল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের কয়েক লক্ষ শিক্ষার্থীকে শিগগিরই স্কুলে ফিরতে প্রস্তুত করা হচ্ছে। স্কটল্যান্ডে ইতোমধ্যে স্কুলগুলা পুনরায় চালু হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে, সেপ্টেম্বর থেকে স্কুলগুলোতে পুরোপুরি ক্লাস চালু করার ব্যাপারে তারা আশাবাদী। এরই প্রেক্ষিতে অধ্যাপক হুইটিও শিশুদের স্কুলে ফেরার বিষয়ে জোর দিয়েছেন।

তিনি আরও বলছেন, যুক্তরাজ্য এবং বিশ্বব্যাপী প্রমাণিত হয়েছে যে, শিশুদের মধ্যে খুব সামান্য সংখ্যক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত থাকার সুযোগ নেই। বিদ্যালয় চালু হওয়ার সাথে সাথে বাবা-মা ও শিক্ষকদের ঝুঁকি ও তাদের সুযোগ-সুবিধা; উভয় দিকই বোঝা জরুরি। এসময় সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, নিয়মিত হাত ধোয়া ও মাস্ক পরার মাধ্যমে অনেকটা নিরাপদে স্কুলগুলো চালু করা সম্ভব।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য বলছে, মার্চ-জুনে যুক্তরাজ্যে সর্বোচ্চ করোনা সংক্রমণের সময় ১৯ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে মারা গেছে ১০ জন। আর বাদ বাকি সবাই ২০ বছরের উর্ধ্বে।

যুক্তরাজ্য করোনাভাইরাস আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুর হার যুক্তরাজ্যে। দেশটিতে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৬০১ জন এবং মারা গেছে ৪১ হাজার ৪২৩ জন।