চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘শিশুদের অনলাইনে নিরাপত্তায় অভিভাবকদের সচেতন করা যায়নি’

শিশুদের অনলাইনে নিরাপত্তার বিষয়ে গত এক বছরেও অভিভাবকদের সচেতন করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

বৃহস্পতিবার “অনলাইনে শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও আইনী পর্যালোচনা” বিষয়ক অনলাইন মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মোস্তাফা জব্বার।

বিজ্ঞাপন

অনলাইনে শিশু যৌন নির্যাতনের পরিস্থিতি কেমন, আইনী বিশ্লেষণ নিয়ে আলোচনা করা এবং অনলাইনে শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে কী কী উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে সে বিয়ষগুলো নিয়ে আলোচনা করার জন্যই এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

মোস্তাফা জব্বার বলেন: অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় রয়েছে আমাদের দেশের ভবিষ্যত প্রজন্ম। কারণ শিশুরা অনলাইনে যেভাবে বিচরণ করে সে সম্পর্কে অভিভাবকদের বেশিরভাগেরই কোনো ধারণা নেই।

‘দুঃখজনকভাবে বিগত এক বছরে অভিভাভকদেরকে সচেতন করা সম্ভব হয়নি।’

তিনি বলেন: যার জন্য শিশুরা অনেক বেশি অপরাধে জড়াচ্ছে, সচেতনতা বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে সাইবার ইর্মাজেন্সি রেসপন্স টিম অনেক ভাল কাজ করছে এবং খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান করছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ মানুষের তথ্য সুরক্ষিত রাখার জন্য তথ্য সুরক্ষা আইনের খসড়া তৈরি হয়েছে এবং সোশ্যাল মিডিয়া আইনের উপর সরকার খসড়া তৈরির কাজ ইতোমধ্যে আরম্ভ করেছেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য ও  সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ অ্যারোমা দত্ত বলেন: কোভিড ১৯, শিশু কিশোরদের মনোজগতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে আর তাই অনলাইন মাধ্যমে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্যে সরকারি বেসরকারি সংস্থাসমূহের সমন্বিত উদ্যোগ বিশেষ করে আইনের প্রয়োগ, ডাটাবেজ সংরক্ষণ, সমন্বয় সাধন জরুরি।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইসপাব) এর সভাপতি এম এ হাকিম বলেন: প্রতিদিন যে ধরনের সমস্যায় শিশুরা বেশি পড়ে তার মধ্যে ফেসবুকজনিত সমস্যা সব থেকে বেশি। সুতরাং শিশুদের কী করতে হবে এবং কী করতে হবে না সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে হবে।

এমনকি অভিভাবকরা যে তাদের সন্তানদেরকে মনিটর করার জন্য সম্পূর্ণ ফ্রিতে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল আপ্স ব্যবহার করতে পারে সে বিষয়ে জানেন না বললেই চলে।

তিনটি বিষয়ের ওপর জোরালোভাবে কাজ করার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। প্রথমত সাইবার অপরাধ প্রতিহত করতে সাইবার ৯৯৯ তৈরি করা; দ্বিতীয়ত সর্বস্তরে সচেতনতা সৃষ্টিকরা; তৃতীয়ত চাহিদা অনুযায়ী সমাধান সংক্রান্ত অ্যাপস চালু করে দ্রুততার সাথে সাইবার সমস্যার সমাধান করা।

প্রাসঙ্গিক আইনে সাইবার অপরাধের সংজ্ঞা সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে অভিমত ব্যক্ত করেন জাতীয় আইন কমিশনের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ (শিশু অধিকার আইন বিষয়ক ফোকাল পার্সন) ফারাজানা হোসাইন।

তিনি বলেন: সাইবার অপরাধের ধরণগুলি চিহ্নিত করতে সামাজিক গবেষণা হওয়া জরুরি যাতে করে বিষয়গুলি সহজেই অনুধাবন করা সম্ভব হয়।

এছাড়া আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ইউএনডিপির চিফ টেকনিক্যাল এ্যাডভাইজার, এন্ড্রু ম্যাকগ্রিগর বক্তব্য রাখেন এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইমুম রেজা তালুকদার আইনী পর্যালোচনার ওপর আলোকপাত করেন।

মতবিনিময় সভাটি সঞ্চালনা করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক গোলাম মনোয়ার কামাল। তিনি উক্ত বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্যে সকলের সম্মিলিত প্রয়াসের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।