চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণকাণ্ড বন্ধে করণীয় কী?

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের এক স্কুলের সহকারী শিক্ষক স্কুলের কমপক্ষে ২০ জন ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার সংবাদ ফেসবুকে দেখছিলেন একজন অভিভাবক, সেসময় তার পাশে থাকা তার শিশু সন্তান বলে ওঠে, ‘এই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কিন্তু আমাদের মাদ্রাসার হুজুরকে কেন গ্রেপ্তার করা হয় না?’ ওই শিশুর কথা শুনে তার মা জানতে চান, ‘কেন, কী হয়েছে?’ তখন ওই শিশু শিক্ষার্থী তার মাকে বলে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আল আমিন মেয়েদের ধর্ষণের চেষ্টা করেছে।

এরকম এক ঘটনার সূত্র ধরে অভিযোগের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বায়তুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসা নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মাওলানা আল আমিন নামে একজনকে আটক করে র‍্যাব। ১২ জন শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া আল আমিনের বিরুদ্ধে পৃথক ২টি মামলাও হয়েছে। র‌্যাব অনুসন্ধানে নেমে জানতে পারে, ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ওই অধ্যক্ষ মাদ্রাসার ১০ থেকে ১২ জন ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। এ ছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানির অভিযোগও পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, অনেক শিশুকে ধর্ষণের পরে শিক্ষক নামের কলঙ্ক ওই পাষণ্ড ভিডিও করে রেখেছে এবং তা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে বার বার ধর্ষণ করেছে। এধরণের ঘটনা আগেও অনেক ঘটেছে এবং প্রতিনিয়ত ঘটছে, যা খুবই উদ্বেগজনক!

বিজ্ঞাপন

পরিবারের পরে একজন শিশু তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেশি সময় দিয়ে থাকে। আর সেখানেই শিশুরা শেখে-দেখে তাদের ভবিষ্যত জীবন গঠনের নানা পর্ব। তাছাড়া সমাজে একজন শিক্ষক কোনো শিশুর কাছে তার বাবা-মা’র পরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। শিক্ষার্থীরা অনেকসময় যে কথা বা বিষয় বাবা-মা’র সঙ্গে শেয়ার করতে পারে না বা বোঝে না, তা শিক্ষকের কাছ থেকে জেনে নেয় বা বুঝে নেয়। সেই ভরসার জায়গা শিক্ষক কাছেই যদি যৌন হয়রানি ও ধর্ষণ শিকার হয় শিক্ষার্থী, তাহলে শিক্ষক পরিচয়ে পরিচিত কিছু পাষণ্ডের কারণে পুরো শিক্ষক সমাজের চরিত্র ও নির্ভরযোগ্যতার বিষয়টি প্রশ্নের মুখে পড়তে বাধ্য।

বিজ্ঞাপন

বিষয়গুলো মোকাবেলায় ও সচেতনতার জন্য দেশের শিক্ষা পাঠ্যক্রমে নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রম বাড়ানো ও যৌন সচেনতা শিক্ষা চালু করা জরুরি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কী কী আচরণের জন্য শিশুরা অভিভাববককে বলবে এবং অভিভাবকরাও যেনো শিশুদের কথায় গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে, সে বিষয়ে জনসচেনতা বাড়ানো দরকার। বিভিন্ন ঘটনা সূত্র খেয়াল করলে আমরা দেখতে পাবো, শিশুরা বা শিক্ষার্থীরা হয়রানির শিকার হবার আগে-পরে লজ্জার কারণে বড় ধরণের নিপীড়নের ঘটনার জন্ম হয়। আগাম প্রশ্ন দিয়ে দেয়ার প্রলোভন বা পরীক্ষায় নম্বর কম দেবার ভয় দেখিয়ে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের ঘটনাও ঘটতে দেখা যায়। যা আসলে নম্বর ও ফলাফলমুখী অসম প্রতিযোগীতার একটি বহি:প্রকাশ, অভিভাবকদের এবিষয়ে সচেতন হওয়া দরকার। প্রাথমিক অবস্থায় শিশুরা বা শিক্ষার্থীরা যদি মন খুলে বিষয়গুলো তাদের অভিভাবকদের বলতে পারতো এবং সেভাবে ব্যবস্থা নিলে হয়তো অনেক ঘটনা ঘটতো না।

আরেকটি বিষয় নজর দেয়া যেতে পারে, তা হচ্ছে যত্রতত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা এবং কোনো ধরণের কেন্দ্রীয় নীতিমালা ছাড়া যে কেউ শিক্ষক হয়ে যাবার বিষয়টি। সরকারি-বেসরকারি শিক্ষকরা বিভিন্ন বিষয়ে জেনে-শিখে শিক্ষকতায় আসলেও পাড়া-মহল্লার একটি বাসা ভাড়া নিয়ে কোচিংয়ের আদলে অনেকে শিক্ষক সেজে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে বসছে। এগুলো তারা করতে পারেন কিনা তা সংশ্লিষ্টদের ভেবে দেখা দরকার।

যেকোনো মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরণের যৌন হয়রানি ও ধর্ষণ মানসিকতা বন্ধে জরুরি কার্যকর পদক্ষেপ দরকার। আমাদের আশাবাদ, সংশ্লিষ্ট সবাই বিষয়টি সমাধানে জোর উদ্যোগ নেবেন।

Bellow Post-Green View