চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ বাক্স রাখতে হাইকোর্টের পরামর্শ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বুলিং রোধে অভিযোগ বাক্স রাখার পরামর্শ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ বুলিং প্রতিরোধে সরকারের করা খসড়া নীতিমালায় অভিযোগ বাক্স রাখার বিষয়ে পরামর্শ দেন।

বিজ্ঞাপন

সেই সঙ্গে বুলিং প্রতিরোধে নীতিমালা চূড়ান্ত করার বিষয়ে অগ্রগতি আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যে হাইকোর্টকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের ছাত্রী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনার প্রেক্ষাপটে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত আদেশ দিয়ে বুলিং প্রতিরোধের একটি নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দেন। সে ধারাবাহিকতায় সরকার গঠিত কমিটি একটি খসড়া নীতিমালা করে হাইকোর্টে দাখিল করেন। ওই খসড়া নীতিমালার ওপর শুনানিকালে বুধবার হাইকোর্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বুলিং রোধে অভিযোগ বাক্স রাখার পরামর্শ দিলেন।

আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। অপরপক্ষে ছিলেন অরিত্রির আত্মহত্যার ঘটনাটি হাইকোর্টের নজরে আনা আইনজীবী ব্যারিষ্টার অনীক আর হক, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ও অ্যাডভোকেট আইনুন্নাহার সিদ্দিকা।

রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, আজ শুনানিকালে আদালত বলেছেন অনেক সময় দেখা যায় শিক্ষার্থী তার অভিযোগ অভিভাবক বা শিক্ষকের কাছে বলতে চান না লজ্জার বা ভয়ে। একারণে সে যাতে নিঃসঙ্কোচে তার অভিযোগ লিখিতভাবে জানাতে পারে সেজন্যই অভিযোগ বাক্স রাখার বিষয়টি নীতিমালায় আনতে বলেন হাইকোর্টে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা ব্যবস্থাপনা কমিটির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেবিষয়টি তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসনের কাউকে প্রধান করে কমিটির করার বিধান নীতিমালায় রাখা যায় কী না সেবিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ নিতে বলেছেন আদালত।’

বিজ্ঞাপন

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বুলিং রোধে করা খসড়া নীতিমালায় বুলিং-এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে: বিদ্যালয় চলাকালীন সময় বা বিদ্যালয় শুরু হওয়ার আগে বা পরে, শ্রেণীকক্ষে বা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বা বাইরে কোনো শিক্ষার্থী কর্তৃক (এককভাবে বা দলগতভাবে) অন্য কোনো শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে আঘাত করা, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা, অশালীন বা অপমানজনক নামে ডাকা, অসৌজন্যমূলক আচরণ করা, কোনো বিশেষ শব্দ বারবার ব্যবহার করে উত্ত্যক্ত বা বিরক্ত করাকে স্কুল বুলিং হিসেবে গণ্য হবে।

খসড়া নীতিমালায় তিন ধরনের বুলিংয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে কাউকে কোনো কিছু দিয়ে আঘাত, চড়-থাপ্পড় দেয়া, লাথি ও ধাক্কা মারা, থুথু নিক্ষেপ, জিনিসপত্র জোর করে নিয়ে যাওয়া বা ভেঙে ফেলা ও অসৌজন্যমূলক আচরণ শারীরিক বুলিংয়ের পর্যায়ে পড়বে বলে বলা হয়েছে।

উপহাস করা, খারাপ নামে সম্বোধন ও অশালীন শব্দ ব্যবহার ও হুমকি মৌখিক বুলিং হিসেবে চিহ্নিত হবে। এ ছাড়া, সামাজিক স্ট্যাটাস, ধর্মীয় পরিচিতি বা বংশগত অহংবোধ থেকে কোনো শিক্ষার্থীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন, কারো সম্পর্কে গুজব ছড়ানো এবং প্রকাশ্যে অপমান করা হলে তা সামাজিক বুলিং হিসেবে গণ্য হবে উল্লেখ করা হয়েছে।

খসড়া এ নীতিমালায় এক শিক্ষার্থী কর্তৃক আরেক শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে আঘাত করা এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ রোধে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কারের বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, সরকারি/বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায়ই স্কুল বুলিং (শিক্ষার্থী কর্তৃক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করা/ ভয় দেখানো) এর প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

খসড়া নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, স্কুল বুলিং সাধারণত ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। তবে সেরকম কিছু ঘটতে পারে বলে মনে হলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে পূর্ব থেকে পুলিশের সাহায্য নেবে।

হাইকোর্টে দেওয়া খসড়া নীতিমালায় বুলিং প্রতিরোধে বুলিংকারী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিলে অভিভাবকরা বিরোধিতা না করে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। সন্তানকে স্কুলের নিয়মকানুন মেনে চলা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সুন্দর আচরণের জন্য উদ্বুদ্ধ করা এবং বুলিংয়ের ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষের জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার, সচেতনতা সৃষ্টিতে নাটক মঞ্চস্থ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে নিরুৎসাহিত, স্কুলে আইসিটি ডিভাইস আনা নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।