চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প ভাবতে হবে

দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির প্রত্যাশিত ‘উন্নতি’ হয়নি জানিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আরেকবারের মতো ছুটি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একইভাবে প্রাথমিক, গণশিক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ছুটি বাড়ানো হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সার্বিক পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে খুব শিগগিরই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বিশেষ করে দেশের মানুষের বড় একটা অংশকে ভ্যাকসিনের আওতায় না আনা গেলে। আর সেই পরিমাণ ভ্যাকসিনও এই মুহূর্তে সরকারের হাতে নেই। তা কবে আসবে, সেটাও বলতে পারছে না কেউ।

আমরা জানি, গত ২৫ মার্চ সরকার ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছিল, ২৩ মে থেকে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান শুরু হবে। এই সময়ের আগেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরকে ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজও শেষ হবে। কিন্তু সেই ভ্যাকসিন কর্মসূচি শুরু করা যায়নি সরবরাহ জটিলতায়। তাই আগামী ২৯ মে পর্যন্ত নতুন করে ছুটি বাড়ানো হয়েছে। আসলে কেউই বলতে পারছে না এরপর কী হবে?

বিজ্ঞাপন

এই এক বছর দুই মাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় দেশের প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়েছে। আগের বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। শেষ হয়নি তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাও। এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময়ও। প্রস্তুতি নিয়ে কয়েকমাস ধরে তারা অপেক্ষা করছে। অথচ কেউ বলতে পারছে না ঠিক কবে পরীক্ষা হবে?

প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর পরিস্থিতি আরও খারাপ। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সংসদ টেলিভিশন ও রেডিওতে কোনো রকমে পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শুরুতে মুখ থুবড়ে পড়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেটের সীমিত গতি, বহু শিক্ষার্থীর আর্থিক সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি কারণে।

এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন চালিয়ে নিতে বিকল্প ভাবার সময় এসেছে। করোনাভাইরাস থেকে আমাদের সহজে মুক্তি মিলবে না- এমন ধরে নিয়েই সামনের পথে এগিয়ে যেতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। একে অন্যের কাঁধে দায় চাপানোর কৌশল পরিহার করে মূল সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হওয়ার কোনো বিকল্প নাই।

আমরা মনে করি, জাতির মেরুদণ্ডকে রক্ষা করতে হলে সবার আগে রক্ষা করতে হবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন। যত দ্রুত সম্ভব তাদের জন্য বিকল্প খুঁজতে হবে।

বিজ্ঞাপন