চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পর চাই আরও সচেতনতা

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে অভিভাবকসহ বিভিন্ন মহলের চাপ ছিল সরকারের ওপর। গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো দেশে তিন ব্যক্তি করোনা আক্রান্তের সংবাদ প্রকাশের পর সেই চাপ আরও বাড়তে থাকে। কিন্তু চাপের ‍মুখেও শিক্ষামন্ত্রণালয় বারবার বলেছে, স্কুল-কলেজ বন্ধের মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। তেমন কিছু হলে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। এমনকি গতকালও শিক্ষামন্ত্রী এমন কথাই জানিয়েছেন।

কিন্তু রাত পোহাতে না পোহাতে পুরো ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে মঙ্গলবার থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। শুধু তাই নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ও সরকারের সাথে মিল রেখে ছুটি ঘোষণা করেছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বেশিরভাগ মানুষ। যদিও তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার বলতে চেয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত আরও আগেই নেয়া দরকার ছিল। তবে দেরিতে হলেও স্কুল-কলেজ বন্ধের সিদ্ধান্তে যারা খুশি, তারা বলছেন এখন অন্তত বাইরে থেকে বাচ্চাদের সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা বন্ধ হলো। তাদের নিয়ে যে দুশ্চিন্তা, তা দূর হলো।

বিজ্ঞাপন

তবে বাইরে থেকে বাচ্চাদের করোনা ভাইরাস সংক্রমের সুযোগ সীমিত হয়ে আসলেও ঘরেও নিরাপদ না তারা। কেননা ঘরের অন্যরা যখন বাইরে যাওয়া-আসা করবেন, তখন বাইরে থেকে করোনা জীবাণু বহন করার ঝুঁকি থেকেই যায়। বিশেষ করে কোনো পরিবারের চাকরি, ব্যবসা বা স্বাধীন কোনো কাজে জড়িত মানুষের ক্ষেত্রে এমন ঝুঁকি এড়ানোর সুযোগ নেই বললেই চলে।

আরেকটি বিষয়ে সবাইকে খুব সতর্ক থাকতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে অনেকেই গ্রামে চলে যেতে পারেন। কিন্তু তা হবে আরও মারাত্মক ঝুঁকির বিষয়। কেননা ঢাকার বাইরে এখনও করোনা ভাইরাস আক্রান্তের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এই অবস্থা যদি কোনো আক্রান্ত গ্রামে চলে যায়, তাহলে পুরো গ্রামে করোনা ছড়িয়ে পড়ার বিরাট ঝুঁকি থেকে যায়।

আমরা মনে করি, যাদের সুযোগ আছে, তারা যেন বাধ্যতামূলক বাসা বা বাড়িতে অবস্থান করেন। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে কেউ বাইরে যাবেন না। আর বাচ্চাদের নিয়ে কেউ গ্রামে গিয়ে নতুন ঝুঁকি তৈরি করবেন না। সচেতনতার কোনো বিকল্প নাই।

বিজ্ঞাপন