চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শিক্ষক দম্পতি হত্যা মামলায় ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

টাঙ্গাইলে চাঞ্চল্যকর শিক্ষক অনিল কুমার দাস ও তার স্ত্রী কল্পনা রানী দাস হত্যা মামলায় ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালত।

মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসী। এ রায় যাতে দ্রুত কার্যকর হয় সেই দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

রোববার ঢাকার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ছয় আসামির প্রত্যেককেই মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তারা হলেন: স্বপন কুমার দাস, জাহিদুল ইসলাম, মো. ফরহাদ, মো. মনিরুজ্জামান ভুঁইয়া, মঞ্জুরুল ইসলাম ও শয়ান মিয়া। তাদের মধ্যে স্বপন নিহত অনিল কুমারের সৎ ভাই। এরা সবাই সদর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা।

জানা যায়, স্থানীয় বাছিরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অনিল কুমার দাস ও তার স্ত্রী দোতলা বাড়িতে বসবাস করতেন। তার ছেলে ঢাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। মেয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। ২০১৭ সালের ২৬ জুলাই টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের রসুলসপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে শিক্ষক অনিল কুমার দাস ও তার স্ত্রী কল্পনা রানী দাসকে হত্যা করে মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখে দুর্বৃত্তরা। পরদিন তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনার দু’দিন পর ২৮ জুলাই নিহতদের ছেলে নির্মল কুমার দাস বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পুলিশ ওই ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১৯ সালের ৭ আগস্ট মামলার বিচার শুরু হয়।

অনিল কুমার দাস খুন হওয়ার পর থেকে বাড়িটি শূন্য পড়ে আছে। ছেলে মাঝে মাঝে এলেও কখনো বাড়িতে অবস্থান করেন না। রায় ঘোষণার সংবাদ শুনে এলাকাবাসী ভিড় করে বাড়িটির সামনে। বিচার পাওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

প্রাথমিক রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মামলার বাদী ও ছেলে নির্মল কুমার বলেন, দ্রুত রায় বাস্তবায়িত হলে এমন জঘন্য অপরাধ করতে কেউ সাহস পাবে না। সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আবু আবদুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, রায় বাস্তবায়ন হতে আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। এই ধরনের মামলায় যেহেতু সাক্ষী পাওয়া মুশকিল সেক্ষেত্রে আমরা সাক্ষ্য প্রমাণ দিয়ে আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পেরেছি।

পরবর্তীতেও এই রায় বহাল থাকবে বলে মনে করেন তিনি।