চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শারীরিক ও মানসিক রোগ কি আলাদা?

ক্যান্সার বা ডায়াবেটিস রোগ হলে যেভাবে একজন রোগীকে দেখা হয়, ঠিক সেভাবেই একজন মানসিক রোগীকেও দেখা উচিত। কারণ, শারীরিক ও মানসিক রোগ আলাদা নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক রোগকে অন্যান্য শারীরিক রোগের মতো করে দেখলে সহজেই মানিয়ে নেয়া যাবে সেই রোগের সঙ্গে, এমনকি ধীরে ধীরে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে রোগীর।

কেলি বুর্চ নামের এক নারী ছোটবেলা থেকে দেখেছেন বাবার মানসিক অসুস্থতা এবং মায়ের কাছ থেকে শিখেছেন সেই অসুস্থতার সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার কৌশল। সেসবই খুব বেশি সাহস জুগিয়েছে তাকে। সেই গল্পই তিনি ভাগাভাগি করেছেন পাঠকদের সঙ্গে।

তিনি বলেন, আমার বাবার যদি ক্যান্সার থাকতো বা ডায়াবেটিস হতো তাকে সবাই সহায্য করতো, তাহলে মানসিক রোগে আক্রান্ত হলে কেন নয়? আমার বাবার বাইপোলার ডিজঅর্ডার ছিলো। বাড়িতে আমরা তার অসুস্থতা নিয়ে এমনভাবে কথা বলতাম যেভাবে বিশেষজ্ঞরা যৌন সম্পর্ক নিয়ে সন্তানদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। ছোট ছোট, চলমান, স্বাস্থ্যকর আলোচনাগুলো বিষয়টি নিয়ে সহজে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছিল। প্রশ্ন করার সুযোগও ছিল বেশি, তবে প্রশ্ন করার প্রয়োজনটাই কম বোধ করতাম। দেখতাম এসবের মধ্যে বাবাকে কেমন শান্ত ও সুস্থ দেখাতো।

কেলি বলেন, আমার ৫ বছর বয়সে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বাবাকে। সেসব খুব কম মনে পড়ে। কিন্তু সেই সময়ে বাবার আঁকা ছবি ও ক্রাফট খুব আনন্দ দিতো আমাকে। মানসিক রোগটা আমার পরিবারের জন্য একটি বিষয় ছিলো কিন্তু সেটা আমার দৈনন্দিন জীবনকে কোনোভাবেই প্রভাবিত করেনি। সপ্তম শ্রেণিতে আমি লিথিয়াম নিয়ে রিপোর্ট তৈরির চেষ্টা করি। যেটা আমার বাবা বাইপোলারের চিকিৎসার জন্য নিতো। হাইস্কুলে আমার সিনিয়র থিসিসের জন্য আমি বেছে নিই মানসিক রোগকে ঘিরে যে বোধ ছড়িয়ে রয়েছে সেসব বা সেই সব বোধ কমানোর উপায়গুলো কী হতে পারে সেটা। সেসময় বোস্টন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের আমার অ্যাডভাইজরকে প্রশ্ন করি, কেন মানসিক রোগকে সবসময় শারীরিক রোগের থেকে আলাদা করে দেখা হয়।

Advertisement

প্রতিদিন আমি নিজেকে ধন্যবাদ দিই এই জন্য যে আমাকে কোনো বিশেষ বোধ ছাড়া আমার বাবা-মা বড় করে তুলেছে।  কিন্তু আমার অ্যাডভাইজর আমাকে আরো কিছু সমস্যা সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন যেগুলো নিয়ে আমি মূলত ভাবছিলামই না। তবে এখন যদি কেউ আমাকে প্রশ্ন করে শারীরিক ও মানসিক রোগ কি আলাদা? আমি বলবো অবশ্যই না।

কেলির পরিবার যেভাবে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছিল ওই ব্যক্তির রোগকে, চেষ্টা করেছিল সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে; সেভাবেই মূলত মানসিক রোগগুলোকে গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমান।

চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, রোগ হলে তো অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। কিন্তু যদি রোগীর সঙ্গে সহানুভূতিশীল ও মানবিক আচরণ করা যায় তাহলে রোগের সঙ্গে মানিয়ে নেয়া সহজ হয়, সমস্যার সমাধানও মেলে সহজে। কিন্তু এই সমাজে সেভাবে সহানুভূতিশীল ও মানবিক আচরণ প্রত্যাশা করা খুবই কঠিন কাজ।

ড. আজিজুর রহমান বলেন, আমরা একে অন্যের সুখ-দুঃখের অনুভূতির মূল্যায়ন করি না, কিন্তু সেটাকে শ্রদ্ধা করতে হবে।  মানসিক রোগকে অচ্ছ্যুৎ রোগ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। অনেকে মনে করেন, এর আবার চিকিৎসা কী? মানসিক রোগে সেই ধরনের যত্ন কেউ পায় না। তবে আমাদের বুঝতে হবে শারীরিক রোগের মতোই এটা একটা সমস্যা।