চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে শামসুদ্দিন পেয়ারা’র শত পদ্যের শ্রদ্ধাঞ্জলি

ভালোবাসায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণের এক অসামান্য গাঁথা


বত্রিশ নম্বর দিয়ে যাবার সময় একটু মাথাটা নুইয়ো

পারলে একটু উপুড় হইয়া ঘাসের ডগাটি ছুঁইয়ো,

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পনের আগস্ট এ ঘরেই তাঁকে হত্যা করেছে পশুরা

দোতলা ঐ সিঁড়িটির পরে দু’ফোটা অশ্রু খুইয়ো।

পৃষ্ঠা ২১

শত পদ্যের শ্রদ্ধাঞ্জলি বইয়ের পাতায় পাতায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভাবেই ভালোবাসায়, শ্রদ্ধায়, মমতায় চির জাগরুক হয়ে আছেন। বইটির লেখক শামসুদ্দিন পেয়ারা স্বনামে পরিচিত। সিনিয়র সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, প্রাবন্ধিক ও রাজনীতি সচেতন গবেষক হিসেবে বিগত চার দশকে তিনি নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। একজন গবেষক হিসেবে আর দশজনের চেয়ে তিনি আলাদাভাবে বঙ্গবন্ধুকে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করেছেন। তার গ্রন্থের প্রতিটি পদ্যে বঙ্গবন্ধুর জীবনের নানা দিক বহুমাত্রায় চিত্রিত হয়েছে, বর্ণিত হয়েছে- হয়েছে বিধৃত।

বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করতে কেন শত পদ্যের শ্রদ্ধাঞ্জলি- এরকম প্রশ্নের বিপরীতে তিনি জানান, আমি সচেতনভাবে আমার নিজস্ব ভালোবাসার জায়গা থেকে বঙ্গবন্ধুকে খুব কাছে থেকে দেখেছি। স্বাধীনতার আগে থেকে আমি নিজেও ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম-সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। দেশ স্বাধীনের পর একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ আর একটি নতুন জাতিকে আত্মনির্ভরশীল করতে তাঁর যে কি ঐকান্তিক আন্তরিকতা আর উদ্যম ছিল সেটা কাছ থেকে দেখেছি।

তিনি জানান, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখক- গবেষক- সাংবাদিকরা নানা ধরণের গবেষণা, লেখা গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশ হচ্ছে। আমি নিজেও বিভিন্ন সময় মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, বাঙালির ইতিহাস- সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে প্রচুর লেখা লিখেছি। কিন্তু মুজিব বর্ষে আমার মনে হয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, আমাদের মুক্তি সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটু ভিন্ন মাত্রায় কী করা যায়- এই ভাবনা থেকেই শতপদ্যের এই চিন্তা। আমি বাজার চলতি ছড়া-কবিতার ঘেরাটোপের বাইরে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর জীবনের নানা পর্ব, নানা অধ্যায়, ইতিহাসের সত্য- মিথ্যা আর অবঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় প্রবহমান ঘটনা পরম্পরাকে একত্রিত করার চেষ্টা করেছি। আমি ফার্সি রুবাই ফর্মকে বেছে নিয়েছি পদ্য লেখার ক্ষেত্রে। শতপদ্যের বেশীরভাগ পদ্যই চার পংক্তির- তৃতীয় পংক্তি ছেড়ে দিয়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও চতুর্থ লাইনের অন্তমিলের। তবে চার পংক্তির রুবাই ধরণের বাইরেও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কয়েকটি দীর্ঘ পদ্যও রয়েছে এই বইতে।

শত পদ্যের শ্রদ্ধাঞ্জলি- মুজিব বর্ষ উপলক্ষে প্রকাশিত গড়পড়তা হাজার হাজার প্রকাশনার ভিড়ে একটি ভিন্নমাত্রার স্বতন্ত্র প্রকাশনা হিসেবে পাঠক- সমালোচকরা ইতিমধ্যেই তাদের মতামত ব্যক্ত করেছে। তারা বলছেন এ বইয়ের পরিধি হয়ত হাজার পৃষ্ঠায় নয় কিন্তু বইয়ের প্রতিটি পাতায় রচিত চার পংক্তিতে যে পরিসরে, যে ভাবনায় বঙ্গবন্ধুকে মূল্যায়ন করা হয়েছে তা প্রশংসার দাবী রাখে।

দুএকটি উদাহরণ দেয়ার লোভ সংবরণ করতে পারছি না।

রাজনীতি কত নিষ্ঠুর পেশা

আপনাকে দেখে বুঝি,

ছিলেন সবার জিভের ডগায়

বিজ্ঞাপন

আজ আপনাকে টুঙ্গিপাড়ায় খুঁজি।

– পৃষ্ঠা ১২৪

 

আজ তিনি যদি বেঁচে থাকতেন একশ বছর হতো

বেঁচে থাকতেন আদম নূহ ও ইব্রাহিমের মতো,

সবার সঙ্গে থাকতেন তিনি সকলের পিতা হয়ে

পরিণতি টুকু হয়ে গেল তাঁর যীশু খ্রিস্টের মতো।

– পৃষ্ঠা ১১৭

 

আজকে যখন পশ্চাতে ফিরে গ্রামবাংলাকে দেখি

মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা সব মনে হয় যেন মেকি,

সব কিছু আছে শুধু বাঙালির পিতৃপুরুষ নাই

এর চেয়ে বড় বেদনার কথা হতে পারে আর কি?

– পৃষ্ঠা ১২৬

বইটির হৃদয় গ্রাহী প্রচ্ছদে শিল্পী ধ্রুব এষও তাঁর অসামান্য শিল্প নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন- শিল্পীও যেন রুবাই ফর্মে প্রচ্ছদে বঙ্গবন্ধুকে এঁকেছেন। তবে প্রচ্ছদে রক্ত লাল হরফে শত পদ্যের শ্রদ্ধাঞ্জলি টাইপের ওপরে ‘মুজিব শতাব্দী ১৯২০-২০২০’ লেখাটি না থাকলে বইটির নামের প্রতি সুবিচার করা যেত বলে মনে করি কারণ শত পদ্যের শ্রদ্ধাঞ্জলি- একথার মধ্য দিয়ে পাঠকের বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না যে, বইটি মুজিব শত বর্ষ উপলক্ষে প্রকাশিত। আশা করি বইটির পরবর্তী সংস্করণে এ বিষয়টির প্রতি লেখক নজর দেবেন। ধন্যবাদ আবিস্কার প্রকাশনীকে, তারা রুবাই ফর্মে ভিন্ন রুচির একটি পদ্যের বই পাঠকের হাতে তুলে দিয়েছেন।