চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শান্তিতে নোবেলের দৌড়ে এগিয়ে ১৬ বছরের সেই পরিবেশকর্মী

জলবায়ু সংকট মোকাবিলার জন্য স্কুল বাদ দিয়ে পরিবেশবাদী আন্দোলনের ডাক দেয়া মাত্র ১৬ বছর বয়সী সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থানবার্গ এবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের দৌড়ে এগিয়ে আছেন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পরিবেশ নিয়ে বিশ্বে আলোড়ন তোলা তার ‘ফ্রাইডেস ফর দ্য ফিউচার’ আন্দোলনটি বছরের সবচেয়ে বড় পরিবেশবাদী আন্দোলন।

২০১৮ সালের আগস্ট মাসে স্কুল বাদ দিয়ে টানা তিন সপ্তাহ সুইডিশ পার্লামেন্টের সামনে বসে থাকেন গ্রেটা। এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল জলবায়ু সংকটের বিরুদ্ধে কেন যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না, সেজন্য প্রতিবাদ।

তিনি তার কর্মকাণ্ডের কথা ইনস্টাগ্রাম ও টুইটারে পোস্ট করেন এবং তখন থেকেই ক্রমান্বয়ে জনমত তৈরি করতে থাকেন।

পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে মাত্র ১৫ বছর বয়সে স্কুল বাদ দিয়ে টানা তিন সপ্তাহ সুইডিশ পার্লামেন্টের সামনে বসে থাকেন গ্রেটা।

এরপর সেপ্টেম্বর মাসে তিনি ঘোষণা দেন প্রতি শুক্রবার তিনি সুইডিশ পার্লামেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে থাকবেন, যতদিন পর্যন্ত না তারা তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার ব্যাপার অঙ্গীকার দেয়।

উল্লেখ্য, তার এই প্রস্তাবের সাথে ফ্রান্সের প্যারিস চুক্তির সাদৃশ্য রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে এখন পর্যন্ত গ্রেটার সবচেয়ে বড় আন্দোলনটি হয়েছে ১৫ মার্চ, শুক্রবার। এই আন্দোলনের নাম রাখা হয়েছে ‘ফ্রাইডেস ফর দ্য ফিউচার’।

গ্রেটার খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছানোয় বড় অবদান রাখা সেই বক্তৃতার ভিডিওটির আবির্ভাব ঘটে এ বছরের জানুয়ারিতে।

বার্ষিক ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে উপস্থিত শীর্ষ নেতাদের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন: কিছু মানুষ বলেন, আমরা সবাই মিলে নাকি জলবায়ু সংকট তৈরি করেছি। কিন্তু সেটি সত্যি নয়। যদি কোনো একজন অপরাধী হয়, তার জন্য সবাইকে দায়ী করা উচিত নয়। যারা অপরাধী, তাদেরকেই দায়ী করতে হবে। আর জলবায়ু সংকটের পেছনে দায়ী হলো কিছু মানুষ, কিছু প্রতিষ্ঠান এবং কিছু নীতি-নির্ধারক, যারা খুব ভালো করেই জানেন অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যে তারা পৃথিবীর কী ভীষণ ক্ষতি করে চলেছেন। আমার বিশ্বাস, সেইসব মানুষদের মধ্যে অনেকেই আজ এখানে উপস্থিত আছেন।

এরপর গত মাসে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ সভায় দেয়া এক ভাষণে গ্রেটা থানবার্গ বলেন: আপনারা আমাদের স্বপ্ন ও বাল্যকাল চুরি করে নিচ্ছেন আপনাদের শূন্য পৃথিবীতে। মানুষ ভুগছে, মানুষ মারা যাচ্ছে, সমগ্র ইকো সিস্টেম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমরা বিলুপ্তি হতে শুরু হয়েছি। আর আপনারা সবাই শুধু অর্থ আর চিরন্তন অর্থনৈতিক বিকাশের রূপকথার গল্প শোনাতে পারেন। আপনাদের সাহস কত!

সর্বকনিষ্ঠ নোবেল বিজয়ী হবেন গ্রেটা থানবার্গ
এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম বয়সে নোবেল জয়ের রেকর্ডটি রয়েছে পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাইয়ের দখলে। ২০১৪ সালে যখন নারী অধিকার ও শিক্ষার জন্য কাজ করার ফলে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন, তখন তার বয়স ছিল ১৭ বছর। যদি গ্রেটা এ বছর নোবেল জেতেন, মালালাকে টপকে তিনি পরিণত হবেন ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ নোবেল বিজয়ীতে।

নরওয়ের তিনজন সংসদ সদস্য নোবেল কর্তৃপক্ষের কাছে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য গ্রেটার নাম প্রস্তাব করেন। 

এ প্রসঙ্গে নরওয়ের সমাজতান্ত্রিক সংসদ সদস্য ফ্রেডি আন্দ্রে অভস্তেগার্ড বলেন: আমরা গ্রেটা থানবার্গের নাম প্রস্তাব করেছি, কারণ আমরা যদি জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য কিছু না করি, তাহলে এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ, সংঘাত এবং শরণার্থী সংকট বেড়ে যাবে। গ্রেটা থানবার্গ একটি গণ আন্দোলনের সূচনা করেছেন, যেটিকে আমি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি বড় অবদান হিসেবে দেখছি।

ফ্রাইডেস ফর দ্য ফিউচার আন্দোলন
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ট্রেন্ডের মাধ্যমে স্কুলগুলোতে বিক্ষোভের আয়োজন করেন গ্রেটা, যেটি প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় ১৫ মার্চ।

এদিন তার ডাকে সাড়া দিয়ে জার্মানি, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ ১০৫টি দেশের ১৬৫৯টি স্থানে শিক্ষার্থীরা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ ও মিছিল করে।