চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শনাক্ত কমলেও করোনায় এখনও যে শঙ্কা

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ২৪৩ জন, মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। শনাক্তের হার কমে হয়েছে এক দশমিক ৫১ শতাংশ। মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৮০১ জন। দেশে গত ৫ আগস্ট দেশে সর্বোচ্চ ২৬৪ জন রোগী মারা যায়। আর গত ২৮ জুলাই সর্বোচ্চ শনাক্ত হয় ১৬ হাজার ২৩০ জন। তথ্যগুলো দেখে পরিস্থিতি বেশ ভাল মনে হচ্ছে বিগত দিনগুলোর তুলনায়।

দেশে বর্তমানে জীবনযাত্রা পুরোপুরি স্বাভাবিক বলা যায়। মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানা ছাড়া তেমন কোনো বিধি নিষেধ নেই। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলতে শুরু করেছে ধীরে ধীরে। হাসপাতালগুলোতে তেমন একটা চাপ নেই করোনা রোগীদের।

করোনা শনাক্ত উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসলেও মৃত্যুর ঘটনা এখনও রয়ে গেছে। বয়স্ক মানুষজন বেশি মারা যাচ্ছেন আক্রান্ত হয়ে। এ বিষয়ে বিশেষ নজর দেয়া জরুরি বলে আমরা মনে করি।

বিজ্ঞাপন

দেশে অক্টোবরের শেষে ও নভেম্বর মাস থেকে শীত পড়তে শুরু করে। শীতকালে স্বাভাবিক নিয়মে শ্বাসকষ্টসহ নানা শীতরোগ দেখা দেয় দেশজুড়ে। যার প্রকোপে বয়স্ক ও শিশুরা বেশি সমস্যায় থাকে। করোনায় মানুষের শ্বাসতন্ত্রে বেশি আক্রান্ত করে। ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃতদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১০ জনের মধ্যে চল্লিশোর্ধ্ব তিনজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব দু’জন, ষাটোর্ধ্ব তিনজন ও সত্তরোর্ধ্ব দু’জন। এই অবস্থায় আমাদের শঙ্কা, শীত ও করোনা মিলিয়ে আবার যেনো কোনো সঙ্কটময় পরিস্থিতি তৈরি না হয়, থাকা দরকার বিশেষ প্রস্তুতি।

অক্সিজেন সরবরাহ থেকে শুরু করে করোনার প্রচারণায় যেন সামনের দিনগুলিতে কোনো ঘাটতি না থাকে। এছাড়া দেশে ভ্যাকসিন কর্মসূচির দারুণ ইতিবাচক ধারা আরো জোরদার করা দরকার। যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যসহ উন্নত দেশগুলোতে ভ্যাকসিন কার্যক্রম আমাদের চেয়ে বহুগুন বেশি থাকলেও সেখানে করোনার প্রকোপ আবারও বেড়েছে। কী কারণে তা হচ্ছে, দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় খতিয়ে দেখতে পারে বিভিন্ন জার্নাল ও নিয়মিত তথ্যের বিচারে। যাতে করে দেশে প্রস্তুতি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া যায় প্রাপ্ত জ্ঞান থেকে।

করোনা সারাবিশ্বে (বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত) কেড়ে নিয়েছে ৪৯ লাখ ৩৭ হাজার ৪১০ জনের জীবন। বহু মানুষ ও পরিবার আপনজন হারানোর পাশাপাশি জীবিকা হারিয়ে অন্যরকম পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশও এসব পরিস্থিতির বাইরে না। সামনের দিকে নতুন করে কোনো পরিস্থিতি যেনো আবারও থমকে না দেয় আমাদের জীবন ও জীবিকাকে, সেদিকে চিন্তা করে সবাইকে এখনও সচেতন থাকতে হবে নিজেদের স্বার্থে।

বিজ্ঞাপন