চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

লোভের লাগাম টানার সাথে কঠোর নজরদারিও প্রয়োজন

ই-কমার্স প্রতারণা

দেশে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিচিত্র প্রতারণার চিত্র জানার পর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মুস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পরামর্শ দিয়েছেন, গ্রাহকদের লোভ কমাতে। অন্য একটি মামলার শুনানি চলার সময় রোববার একজন আইনজীবীর কাছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে জানতে চান হাইকোর্ট। জবাব শুনে বলেন, ‘আপনারা তো পাবলিক ইন্টারেস্টের মামলা করেন, আপনাদের উচিৎ তাদের সচেতন করা। তারা যেন এ ক্ষেত্রে লোভ কমান।’

কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা সম্পর্কে হাইকোর্ট যে পরামর্শ দিয়েছেন, তা অত্যন্ত চমৎকার এবং যুক্তিযুক্ত। আমরা দেখেছি, কোনো বুদ্ধি-বিবেচনা না করেই বহু মানুষ ‘অর্ধেক দামে’ পণ্য কেনার লোভ সামলাতে পারেননি। হুমড়ি খেয়ে তারা সেই ই-কমার্সে প্রতিষ্ঠানগুলোর পেছনে ছুটেছেন। তাদের অনেকেই নিজেকে একবারও প্রশ্ন করেননি, বাকি অর্ধেক টাকা আসবে কোথায় থেকে? আর করেননি বলেই আজকে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আমরা জানি, শত শত পণ্যে মূল্য ছাড়ের (প্রায় অর্ধেক) নামে ক্রেতাদের সঙ্গে সুকৌশলে প্রতারণা করেছে ই-অরেঞ্জ, ইভ্যালি, ধামাকা-সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি তাদের সেই প্রতারণার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে প্রতারাণা করে গ্রাহকদের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।

যারা প্রতারিত হয়েছেন, তারা হয়তো বলবেন- সরল বিশ্বাসে এবং ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর চতুর কৌশলে প্রলুব্ধ হয়েছেন। তারা প্রশ্ন রেখে বলতেই পারেন- এক্ষেত্রে সরকারের নজরদারি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাগুলোর কি করছিল? কেন তাদেরকে সঠিক সময়ে সতর্ক করেনি? কেন নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে?

বিজ্ঞাপন

এসব প্রশ্নের জবাব দেবে কে? লোভ সংবরণ করতে না পারা অবশ্যই এক ধরনের দুর্বলতা। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ আসলেও পরিস্থিতির শিকার। তারা যাতে কোনো লোভী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের শিকারে পরিণত না হয়, সে জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সহ নানান ধরনের প্রতিষ্ঠান-সংস্থা রয়েছে। অথচ হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের পর এখন আমরা জানতে পারছি, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেনি। আর সেই সুযোগটাই নিয়েছে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।

সবচেয়ে অবাক করা ঘটনা হলো, খোদ রাজধানীর বুকে দাঁড়িয়ে বছরের পর বছর ধরে লাখ লাখ মানুষকে বোকা বানিয়েছে এই সব প্রতিষ্ঠান। কয়েক মাস আগে থেকেই ই–অরেঞ্জ, ইভ্যালি ক্রেতাদের পণ্য সরবরাহ না করে বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। পণ্য তো দেয়ইনি, আবার টাকাও ফেরত দেয়নি। উল্টো হুমকি দিয়েছে ‘দেখে নেওয়ার’।

আবার শেখ সোহেল রানা নামে যে পুলিশ পরিদর্শক নেপালে পালাতে গিয়ে ভারতে ধরা পড়েছে, সেই পুলিশ কর্মকর্তা নিজের বোন ও ভগ্নিপতিকে দিয়ে চালিয়েছে ‘ই–অরেঞ্জ’। আমাদের প্রশ্ন এটা কি তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানতো না? বা তাদের জানা উচিৎ ছিল না? অথচ এই সোহেল রানা গং গ্রাহকের ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। একই কাজ করেছে ইভ্যালি এবং ধামাকা-সহ অন্যরাও।

আমরা জানি, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন প্রতারণার কয়েক বছর আগেও যুব কর্মসংস্থান সোসাইটি (যুবক), ডেসটিনি, ইউনিপে টু ইউ ইত্যাদির মতো প্রতিষ্ঠান লাখ লাখ মানুষকে নিঃস্ব করে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। কিন্তু আমাদের জানা মতে, তার একটিরও বিচার হয়নি। শাস্তি পায়নি সেইসব প্রতারণায় অভিযুক্তরা। আর সেই সুযোগটাই নিয়েছে শেখ সোহেল রানা, মোহাম্মদ রাসেলের মতো ব্যক্তিরা।

আমরা মনে করি, ‘লোভ কমানোর’ সঙ্গে সঙ্গে নজরদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বিজ্ঞাপন