চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের সংজ্ঞা কী?’, সিইসিকে বিএনপির প্রশ্ন

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার কাছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের সংজ্ঞা জানতে চেয়েছে বিএনপি। দলটির দাবি, নির্বাচন কমিশনের কথা শুনছে না পুলিশ প্রশাসন। সরকার চাইছে দশম সংসদের মতো আরেকটি একতরফা নির্বাচন করতে।

রোববার দুপুরে নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সঙ্গে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে সাক্ষাতের পর বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেছেন।

প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার ও আতাউর রহমান ঢালি।

সেলিমা রহমান বলেন: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা এরই মধ্যে বলেছেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে। যেখানে আমাদের নেতাকর্মী, প্রার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে, ঢাকাতে এখন পর্যন্ত বিএনপির কোনো প্রার্থী প্রচারণায় নামতে পারেনি। পুলিশ যেন আমাদের প্রতিপক্ষ। সেখানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কী করে থাকলো? লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের সংজ্ঞা কী? সিইসির কাছে এ প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আরও বলেন, পুলিশ প্রশাসন আমাদের মাঠে থাকতে দিচ্ছে না। ২০১৪ সালের মতো আবারও একতরফা নির্বাচন করতে চাইছে সরকার।

নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ একটা ‘পাপেট’ উল্লেখ করে সেলিমা রহমান বলেন: পুলিশ তো নির্বাচন কমিশনের কথা শুনছে না, দেয়ালে আমাদের পিঠ ঠেকে গেছে। আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে তখন বিরাট সহিংসতা ঘটবে, তাই এখনই সেনাবাহিনী নামান।

Advertisement

আগামী ২৪ ডিসেম্বর সেনা সদস্য মোতায়েনের কথা জানিয়ে ইসি সচিব বৈঠকে বিএনপি প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেন।

সেনা নামানো না হলে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন কি-না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে সেলিমা রহমান বলেন: এই নির্বাচনটা আমাদের কাছে একটা চ্যালেঞ্জ। আমরা নির্বাচনের মাঠে থাকতে চাই। আমরা চাই না কোনো ধরনের সহিংসতা হোক। আমরা এখনো সহিংসতায় যাইনি। এরপর তো আর কিছু বলার নেই।

সেলিমা রহমান বলে: নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেই আমরা দেখা করতে এসেছিলাম। কিন্তু তারা না থাকায় ইসি সচিবের সঙ্গে দেখা করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সচিব আমাদের জানিয়েছেন, আমাদের অভিযোগগুলো কমিশনের কাছে তোলা হবে, কমিশন আলোচনা করে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।

ইসিতে দেয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী গোলাম মাওলা রনির ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হবিগঞ্জে বিএনপির আটজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম-১ আসনে বিএনপির কারাবন্দি প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষে গণসংযোগ চালানোর সময় নগর বিএনপির সহ-সভাপতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ময়মনসিংহের ফুলপুরে বিএনপির আট নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার ও দেড় হাজারের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে চিঠিতে অভিযোগ করা হয়।

চিঠিতে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমুলক নির্বাচনের জন্য এসব বন্ধে ইসিকে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়।