চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Group

লেবাননে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে শক্তি যোগাচ্ছে ‘জোকার’

Nagod
Bkash July

দাউ দাউ পুড়ছে গোথাম শহর। জ্বলছে চারপাশ। চলছে দাঙ্গা, লুটপাট। শহরবাসী নেমে এসেছে রাস্তায়। দুর্ঘটনায় ক্ষত বিক্ষত পুলিশের গাড়ি। তার উপর দাঁড়িয়ে আছেন আহত জোকার। টলছেন তিনি। রক্ত ঝরছে তার। মুখের রক্ত মেখে নিচ্ছেন ঠোঁটে। গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে তার চওড়া হাসি। তার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় জেগে উঠছে আরো অসংখ্য জোকার। এটা কি তবে কোনো মুভমেন্টের শুরু? গোথাম শহরে হঠাৎ এমন জেগে উঠার ইঙ্গিত দিয়েই শেষ হয়েছিলো সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া হলিউডের আলোচিত ছবি ‘জোকার’।

আর জোকার-এর সেই দেখানো পথেই যেনো পা বাড়ালো লেবানন। গত এক সপ্তাহ ধরে নানা অসংগতির প্রতিবাদে লেবাননে সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ চলছে। আর প্রতিবাদকারীরা লেবাননের রাজধানী বৈরুতের রাজপথে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন জোকার ছবির সেই ক্লাউনের মতোই মুখোশ লাগিয়ে!

শুধু মুখোশ নয়, বৈরুতের দেয়ালে দেয়ালে ‘জোকার’ ছবির বিখ্যাত চরিত্র আর্থার ফ্লেকের গ্রাফিতিও দেখা গেছে।

দেশটিতে জরুরি অর্থনৈতিক অবস্থা ঘোষণা, দুর্নীতি, মার্কিন ডলারের সংকট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ভয়েস কলে ট্যাক্স যোগ করার পরিকল্পনার প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন লেবাননের হাজার হাজার মানুষ। রাজপথে তারা সমাবেশ করেন। হোয়াটসঅ্যাপ ও ম্যাসেঞ্জারে ডাক দেওয়া এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত জনসমুদ্রে পরিনত হয়।

সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভয়েস কলে ট্যাক্স যোগ করার পরিকল্পনা বাদ দিলেও বিক্ষোভকারীরা সার্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখে।

কিন্তু সরকার বিরোধী এমন আন্দোলনে জোকার কেন প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠলেন, আর কেনোই বা তার মতো মুখোশ লাগিয়ে রাজপথে নামলেন বিক্ষোভকারীরা?

এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন মুখোশ লাগিয়ে সমাবেশে আসা লেবাননের এক তরুণী। তিনি গণামাধ্যমকে বলেন, মুখোশ পরার মধ্য দিয়ে আসলে আমরা সিনেমার সেই চরিত্রটির সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করছি, সম্পৃক্ত করছি। কারণ মুখোশ পরার আগে জোকার এক দুর্বিষহ জীবন যাপন করছিলেন। কেউ তাকে পাত্তা দিতো না, তার কথা শুনতো না। তিনি মন খারাপ করতেন, রেগে যেতেন। শেষ পর্যন্ত এই অবস্থাটাই তাকে উন্মাদ বানিয়ে দেয়। অবহেলা-অশ্রদ্ধায় ঠকতে ঠকতে একসময় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। বিধ্বংসী হয়ে উঠেন।

ডিসি কমিকসের ‘জোকার’ সিনেমাটির ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই এই ছবিটি হয়ে উঠেছিল ‘টক অব দ্য টাউন।’ আর মুক্তিরও পরের সেই অবস্থা ধরে রেখেছে। প্রশংসা কুড়ানোর পাশাপাশি একের পর এক রেকর্ড ভেঙ্গে এগিয়ে চলছে ছবিটি। এমনকি মুক্তির প্রায় চার সপ্তাহ পরেও ছবিটি নিয়ে আলোচনা শেষ হচ্ছে না।

মার্ভেলের ‘ডেডপুল’কে পেছনে ফেলে সবচেয়ে বেশি আয় করা আর-রেটেড ছবি হতে যাচ্ছে ‘জোকার।’ ‘ডেডপুল’র আয় ছবি ৭৮৩ মিলিয়ন ডলার। ধারণা করা হচ্ছে জোকারের আয় শিগগির ১০০০ মিলিয়ন ডলার স্পর্শ করবে!

লেবাননের বৈরুতে চলছে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ…

সিনে-সমালোচকরা ‘জোকার’ ছবিটি দেখার পর এটিকে ‘মাস্টারপিস’ বলেও মন্তব্য করেছেন। ছবিটিকে বলা হচ্ছে ‘ওয়ান ম্যান শো’। টোড ফিলিপস-এর পরিচালনায় জোকারের চরিত্রে জোয়াকুইন ফোনিক্স একাই পুরো ছবিটিকে টেনে নিয়ে গেছেন দর্শকের কাছে। নেতিবাচক চরিত্রটিকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছেন তিনি।

জোকার সিনেমা মূলত আর্থার ফ্লেক নামের একজন মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির গল্প। পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে ব্যর্থ কমেডিয়ান শিল্পীর সম্মানের বদলে অবহেলা-অশ্রদ্ধায় ঠকতে ঠকতে একসময় উন্মাদ হয়ে যায়। একপর্যায়ে নিজেই হয়ে পড়ে নৃশংস অপরাধী। সাড়ে পাঁচ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত ডিসি ফিল্মসের ছবিটি এরইমধ্যে ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবেও দাপট দেখিয়েছে।

BSH
Bellow Post-Green View