চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

লুকিং ফর শত্রুজ: মিঃ বাবর দেখলেন তো শত্রু কে!

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিশ্বকে করেছিল স্তব্ধ। আওয়ামীলীগের নেতৃৃৃবৃন্দ আর হাজার হাজার কর্মী সর্মথকদের বিনাশ করতে গ্রেনেড হামলা করেছিল তখনকার ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। ১৫ বছর পরেও সে স্মৃতি এখনো দেশের মানুষের কাছে জীবন্ত। সেদিন সারা ঢাকা শহর জুড়ে কতটা বিষাদের ছায়া নেমে এসেছিল তা মনে হলে শরীর হিম হয়ে আসে।

একের পর এক মানুষের মৃত্যু অন্য দিকে বিএনপি সরকারের নাটকীয়তা। যা দেখে দেশের মানুষের কাছে অনেকটাই পরিস্কার হয়ে যায় তাদের কর্মকান্ড এটি।

বিজ্ঞাপন

তৎকালীন বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সে সময় সংসদে দাঁড়িয়ে হাস্যকরভাবে মৃত্যুর মুখে থেকে ফিরে আসা শেখ হাসিনাকেই দায়ী করলেন এ ঘটনার জন্য। যে খালেদা জিয়া এখন গুনধর পুত্রের ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির একজন হয়ে কারাগারে বন্দী, তখন তিনি বলেছিলেন -‘উনাকে মারতে যাবে কে? শেখ হাসিনা নিজেই ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গিয়েছিলেন।’

১৪ বছর পর ২০১৮ সালে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হত্যা মামলার রায়ে জাতি জেনেছে গ্রেনেড শেখ হাসিনার ব্যাগে ছিল নাকি বিএনপির থলেতে। শৈবাল পার্থ সাহা, জজ মিয়ার মত নিরাপরাধী ব্যক্তিদের আসামি করে দিনের পর দিন ঘটনা থেকে আড়াল করা হয়েছে ঘটনার মূল হোতা তারেক জিয়া সহ অন্যদেরকে।

কথায় বলে, ‘রাখে আল্লাহ মারে কে।’ যে ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পুনারবৃত্তি ঘটাতে চেয়েছিল ২০০৪ সালে; তার সাজা ভোগ করছে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর ও অন্যরা। অনুপাতিক হারে তারেক জিয়া নাটের গুরু হয়েও যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত আসামি আর বাবর মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত হয়ে কারাগারে বন্দী। শুধু তাই নয় তারেক জিয়া দেশে সাজাপ্রাপ্ত হলেও লন্ডনে পরিবার নিয়ে কাটাচ্ছে মুক্তজীবন।

বিজ্ঞাপন

২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে যেদিন এ মামলার রায় ঘোষণা হল সেদিন কার বাবর আর ২০০৪ সালের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মি. বাবরকে দিয়ে চিন্তা করা যায় অন্যায়ের বিচার কি করে হয়। তাই হয়ত সেদিন তিনি অশ্রুরোদন স্বরে আল্লাহর কাছে বিচার চেয়েছেন, তার সাজার মাত্রা দেখে।

আগস্ট মাসের এ দিনটা এলে চোখের সামনে ভেসে উঠে চুলে জেল দেয়া চশমা পরিহিত ফিটফাট সে মি. বাবরকে। যিনি আধা বাংলা আধা ইংরেজিতে কথা বলে অনেক কষ্টের মাঝেও মানুষকে হাসিয়েছে। তখন হয়ত কল্পনাতেও ভাবেননি রাষ্ট্রপতি আর দুবারে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে তারেক রহমানের অন্যায়ের দোসর হবার করুন পরিনতি হবে মৃত্যুদণ্ড। তা না হলে কি সেদিন তিনি শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চেষ্টা করতেন। ভেবেছিলেন শেখ হাসিনা আর তার দলকে ধবংস করে দিলে বিএনপি চিরস্থায়ী ক্ষমতা পেয়ে যাবে। ভুলে গিয়েছিলেন ফেরাউনের দাম্ভিকতার ফলাফলকে। তাই ২১ আগস্টের সাথের জড়িতের ধরার জন্য মিথ্যা বুলি আওড়িয়ে গনমাধ্যমে মি বাবর বলেছিলেন – ‘গণতন্ত্র আজ হুমকির মুখে। এই মুহূর্তে দেশ ও জাতির স্বার্থে এক কোটি টাকা পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়েছে’।

নিয়তির পরিহাস হলো,বাবরদের হুমকির মুখে থেকে গণতন্ত্রকে উদ্ধার করে আওয়ামী সরকার বিচার করেছে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা হত্যার। আর সে সাথে শত্রু কারা তা দেশবাসীর কাছে আয়নার মত পরিস্কার করেছে আদালতে।

তারেক জিয়ার দোসর হয়ে আজ মি. বাবর ও অন্যরা কারাগারে বন্দী। অথচ এই বাবরা রাজনীতির নামে রক্তের হোলিখেলা খেলতে গিয়ে নিজেকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছেন বিবেক বোধকে বির্সজন দিয়ে। তা না হলে তদন্তের নামে ছল চাতুরি করতে পারতেন না দিনের পর দিন।

সারাদেশে যখন মৃত্যুর আহজারি তখন মি বাবর হেয়ালি সুরে বলেছেন ‘ উই আর লুকিং ফর শত্রুজ’। কিন্ত সত্য কখনো চাপা থাকে না। আর তাই ১৪ বছর ১ মাস উনিশ দিন পর সারা দেশবাসী মি.বাবরের কথার প্রতিফলন দেখেছে আদালতের কাঠগড়ায়। আর তিনি নিজে তার অংক মিলিয়ে দিয়েছেন। কারন বিএনপি আর তারেক জিয়ার দাবার গুটি তিনি কেন হয়েছেন সে ব্যাখ্যা দেবার মত কোন বক্তব্য ছিল না তার কাছে। তাই এখন মি. বাবরের শত্রুর বন্ধু হয়ে শত্রুকে চিনে মৃত্যুদণ্ডের প্রহর গুনা ছাড়া আর কোন গত্যন্তর নাই।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Bellow Post-Green View