চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

লাল সমুদ্রে ডুবেছে নীল আকাশের স্বপ্ন

ভিএআর কখনো বিতর্ক তৈরি করে ভুল সিদ্ধান্ত দিয়ে। রোববারের বিতর্ক রেফারি গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্ষেত্রে ভিএআর’র সাহায্য না নেয়ায়। এজন্য হয়তো মৌসুমের শেষেও ক্ষোভ থেকে যাবে ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলার। কারণ, সিটির বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতে খেতাবের দৌড়ে লিভারপুল এদিন অনেকটাই এগিয়ে গেছে।

বিগ সিক্স আর কোথায়! ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে গত দুই মৌসুমের ছবি অনেকটাই লা লিগার মতো। বিগ টু! বাকি সবাই কয়েকধাপ পিছিয়ে।

রোববার সেই বিগ টু-র ম্যাচ ছিল লিগ খেতাবের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই দুই কোচের শ্রেষ্ঠত্ব খুঁজে পাওয়ার জন্যও। প্রিমিয়ার লিগে গত মৌসুমে লিভারপুল এক সময় এগিয়ে থাকার পর শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি। এবার লিভারপুল বেশ খানিকটা সুবিধাজনক জায়গায়। রোববার সিটিকে হারিয়ে আরও অনেকটা এগিয়ে গেল তারা।

গত দুই মৌসুম ধরে এই হাড্ডাহাড্ডি, প্রাণপণ একে অন্যকে জমি না ছেড়ে দেয়ার লড়াই আসলে শক্তিশালী করে চলেছে দুই কোচকে। ক্লপ ও গার্দিওলার কৌশল ক্রমশ আরও ক্ষুরধার। তবে এই যাত্রায় আর ক্লপের সঙ্গে পেরে ওঠেননি পেপ।

তবে শুধু ভিএআর নয়, অ্যানফিল্ডে গার্দিওলার দল ধরাশায়ী হয় লিভারপুলের আক্রমণের গতির সামনে। সুযোগ সন্ধানী সালাহ-মানের জন্য। প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুল এখন ১২ ম্যাচে ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে। সিটি আর দুইয়ে নয়, লেস্টার (২৬)। তিনে চেলসি (২৬), সিটি (২৫) তারও পর।

ম্যাচে এর থেকে আর কত ভালো শুরু আশা করতে পারতেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। অ্যানফিল্ডে ছয় মিনিটেই লিভারপুল এগিয়ে যায় ১-০তে। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ফ্যাবিনহোর গোলার মতো শটের নাগাল পাননি সিটি কিপার ক্লদিও ব্রাভো। মিনিট সাতেক পরেই ২-০। কাউন্টার অ্যাটাকে দ্রুত উইং ধরে উঠে আসা রবার্টসনের মাপা ক্রসে হেড করেন মোহামেদ সালাহ। দুটি গোলই সুদৃশ্য, কোনো সন্দেহ নেই।

তবে সিটিও জবাব দিতে শুরু করে বারবার অ্যাটাকে। সার্জিও আগুয়েরো দু’বার গোলের খুব কাছে পৌঁছে ছিলেন। একটি শট গোলকিপার অ্যালিসন বাঁচিয়ে দেন। পরে তার চিপ একটুর জন্য গোলের বাইরে যায়। লিভারপুল মূলত খেলতে থাকে কাউন্টার অ্যাটাকে। সিটির ডিফেন্সে যা ভালোই চাপ তৈরি করছিল।

প্রথম গোলের মুভ অবশ্য শুরু হয়েছিল এক বিতর্কিত ঘটনার পরেই। লিভারপুলের বক্সে আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের হাতে বল লাগে। সিটির ফুটবলাররা প্রতিবাদ করলেও ভিএআর’র সাহায্য নেননি রেফারি। সালাহর গোলের ক্ষেত্রেও অফসাইড কি না তা নিয়ে সংশয় ছিল। ৮৩ মিনিটে স্টার্লিংয়ের শট লিভারপুল ডিফেন্ডারের হাতে লাগে বক্সে। বিরতির পর মানের গোল অবশ্য সিটিকে একেবারে ব্যাকফুটে পাঠিয়ে দেয়। ছন্নছাড়া ডিফেন্ডিং এবং অ্যাটাকে ধার না থাকাতেই ডুবে সিটি।

অন্য ম্যাচে লেস্টার সিটি ২-০ গোলে আর্সেনালকে হারায়। ব্রাইটনকে ৩-১ গোলে হারায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

শেয়ার করুন: