চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

উন্মাদনা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা কী ছিল?

ধর্ম, বিজ্ঞান ও আদর্শ যুগ যুগ ধরে চর্চিত হয়েছে মানব কল্যাণে। পৃথিবীর ইতিহাসে কম সময় নয়। বহুদিন ধরে মানুষ ক্রমশ মানুষ হয়ে উঠছে। কিন্তু হঠাৎ এই মানুষ হওয়ায় ছেদ পড়ে গত শতকের শেষ দশকের দিকে। মানুষ যেন নিজেই অমানুষ হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। হঠাৎই এই শতকে এসে মানুষ কল্যাণের ধর্মগুলোকে অকল্যাণের দিকে নিয়ে যেতে শুরু করেছে। আর এই আত্মহননে বলি হচ্ছে পৃথিবীর লাখ লাখ নিরাপরাধ মানুষ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে ঘটেছে এক পৈশাচিক ঘটনা। লালমনিরহাটে রাতে আসরের নামাজ শেষে বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দু’জন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি মসজিদের খাদেম জুবেদ আলীকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে ধর্ম অবমাননার কথিত অভিযোগে মসজিদের সামনে থাকা ৫-৬ জন মুসল্লি মসজিদের প্রবেশ করে ওই ব্যক্তিকে এবং বারান্দায় থাকা অপর ব্যক্তিকে মারধর করেন। মুহূর্তে শত শত লোকজন জড়ো হতে থাকে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

জড়ো হওয়া লোকজন কারও কথা না শুনে মসজিদ সংলগ্ন পরিষদে দরজা-জানালা ভেঙে এক ব্যক্তিকে বাইরে বের করে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে লাশ নিয়ে লালমনিরহাট-বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়কের বুড়িমারী প্রথম বাঁশকল এলাকায় কাঠখড়ি ও পেট্রোল দিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। পিটিয়ে মারার পর আগুন দিয়ে পোড়ানো এই জনপদে নতুন ব্যাধি হিসেবে দেখা দিয়েছে। মানুষের ভেতর এখন সর্বশেষ মানবিকতাটুকুও নাই। পিটিয়ে হত্যা এবং রক্তাক্ত একটি মৃতদেহ আগুন দিয়ে পোড়ানোর ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েক সপ্তাহে বেশ কয়েকটি গণপিটুনির ঘটনায় অন্তত সাত জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পরিসংখ্যান বলে: ২০১১ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত গণপিটুনিতে দেশে প্রায় ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে – যেগুলোর কোনটায় ছেলেধরা বা ডাকাত সন্দেহে, আবার কোন কোন ঘটনায় সামান্য চোর সন্দেহেও পিটিয়ে মেরে ফেলার ঘটনা ঘটেছে।

এই যে মানুষের হঠাৎ অসহিষ্ণু হয়ে ওঠার কারণ কী? ধর্মীয় আবেগপ্রবণতা মানুষকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ এলাকায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী থাকলেও এসব ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। সরকারকে এসব বিষয় খতিয়ে দেখা দরকার। মানুষের উন্মাদনা ঠেকাতে না পারলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ তাহলে কী? আমরা কি পিটিয়ে মানুষ হত্যার ‘উৎসব’ দেখতে থাকব?