চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘লাভ বাগ‘ কম্পিউটার ভাইরাসের স্রষ্টার দায় স্বীকার

বিশ্বব্যাপী মিলিয়ন ডিভাইস সংক্রামিত হওয়ার ২০ বছর পর কম্পিউটার ভাইরাস ‘লাভ বাগ‘ এর স্রষ্টা তার দায় স্বীকার করেছেন।

৪৪ বছর বয়সী ফিলিপিনো ওনাল দে গজম্যান স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেছেন যে, কোনো রকম অর্থ ব্যয় ছাড়াই যেন ইন্টারনেটে অ্যাক্সেস করতে পারেন, সেজন্য পাসওয়ার্ড চুরি করতে গিয়েই তিনি ‘লাভ বাগ কমিউটার ভাইরাস‘ ছড়িয়েছেন। ওই ঘটনা দুর্ঘনাক্রমে হয়েছে বলছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তার দাবি, তিনি কখনোই এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার কথা ভাবেননি বা ইচ্ছা করেননি। তার এ কোডের মাধ্যমে ক্ষতির জন্য তিনি দু:খ প্রকাশ করেছেন।

সাইবার অপরাধ সম্পর্কিত প্রকাশিত হতে যাওয়া বই ক্রাইম ডট কমের সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, আমি একেবারেই আশা করিনি যে, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে পৌঁছে যাবে। আমি অবাক হয়েছি।

‘লাভ বাগ‘ মহামারীটি ২০০০ সালের ৪ মে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাস থেকে নিজেদের রক্ষার জন্য প্রযুক্তি পরিচালকরা তাদের অবকাঠামোর কিছু বিষয় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বাধ্য হয়েছিলেন। যুক্তরাজ্যের সংসদ কয়েক ঘণ্টার জন্য ইমেইল নেটওয়র্ক বন্ধ করে দিয়েছিলো। এমনকি এই ভাইরাস পেন্টাগনেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো।

বিজ্ঞাপন

‘আই লাভ ইউ‘ বা ‘লাভবাগ‘ এমন এক ভাইরাস যা ব্যবহারকারীকে খুবই অদ্ভুত পন্থায় ইমেইলের অ্যাটাচমেন্ট ওপেন করতে প্ররোচিত করত। ভাইরাস বহনকারী ইমেইলের সাবজেক্ট এমনভাবে লেখা থাকত যেন সিক্রেট প্রেমিক/প্রেমিকার কোনো প্রেমপত্র! আর ঐ ইমেইলের ভেতরের একটি ফাইলই ছিল সব গন্ডগোলের মূল। কম্পিউটার ওয়ার্মটি LOVE-LETTER-FOR-YOU.TXT.vbs.- এরকম ফাইল নেম ব্যবহার করত। আর ব্যবহারকারী ফাইল ওপেন করা মাত্রই সকল রোমান্টিকতার বারোটা বাজিয়ে শিকারে পরিণত করত সেই কম্পিউটারকে।

মেলিসার আক্রমণের প্রায় এক বছর পরেই এই রোমান্টিক কম্পিউটার ওয়ার্ম ইন্টারনেটে হানা দেয়। এই ওয়ার্ম ছড়ানো হয়েছিল ফিলিপাইন থেকে।

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার একটি অ্যাপার্টমেন্টে ওই ভাইরাসের স্রষ্টাকে শনাক্ত করা হয়। ওই বাড়ির মালিকের ভাই ওনেল ডি গুজম্যান ছিলেন নগরীর এএমএ কম্পিউটার কলেজের কম্পিউটার বিজ্ঞানের ছাত্র। তিনি গ্রামারসোফ্ট নামে একটি আন্ডারগ্রাউন্ড হ্যাকিং গ্রুপের সদস্য ছিলেন এবং পুলিশের তদন্তে দ্রুত সন্দেহভাজন হয়ে উঠেছিলেন এর আগেও। তবে প্রমাণ না থাকায় তখন তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিলো।

তবে গত ১১ মে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বীকার করেন যে, দুর্ঘটনাক্রমে ভাইরাসটি ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি।