চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘লাপাত্তা’ ওসি মোয়াজ্জেমের দেখা মিলবে কি হাইকোর্টে?

‘লাপাত্তা’ হয়ে যাওয়া ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের দেখা মিলবে কি হাইকোর্টে?

কারণ, মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দি ইন্টারনেটে ছড়ানোর দায়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ওসি মোয়াজ্জেম গত বুধবার হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন। ওসি মোয়াজ্জেম কি তার আগাম জামিনের আবেদনের শুনানির দিন হাইকোর্টে হাজির হচ্ছেন?

বিজ্ঞাপন

আগাম জামিনের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খুরসিদ আলম খান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘কেউ হাইকোর্টে আগাম জামিন চাইলে জামিন আবেদনের শুনানির সময় আবেদনকারীকে অবশ্যই সশরীরে হাজির হতে হয়। সশরীরে হাজির হওয়া ছাড়া আগাম জামিন পাওয়ার সুযোগ নেই।’

সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ রয়েছে আগামি ১৫ জুন পর্যন্ত। এর মধ্যে আবার ঈদের ছুটি রয়েছে। তাই ঈদের ছুটির পর হাইকোর্টের অবকাশকালীন সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে মোয়াজ্জেমের আগাম জামিনের আবেদনটি শুনানি হতে পারে বলে জানান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। এই আইনজীবী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন,‘মোয়াজ্জেম হোসেনকে এখন আর ওসি হিসেবে বিবেচনায় নেয়া যাবে না। তাকে একজন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামী হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। তিনি হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করলেও গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেফতারে কোন আইনি বাধা নেই।’

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার পর ওসি মোয়াজ্জেমকে প্রথমে সোনাগাজী থানা থেকে প্রত্যাহার করে রংপুর রেঞ্জে পাঠান হয়। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় পুলিশ বাহিনী থেকে। পুলিশ কর্মকর্তারা ওসি মোয়াজ্জেমের কোনো খোঁজ দিতে না পারলেও আইনজীবীর মাধ্যমে মোয়াজ্জেমের করা আগাম জামিনের আবেদনটি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা পড়ে গত ২৯ মে।

এর আগে ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দি ইন্টারনেটে ছড়ানোর বিষয়ে পিবিআইয়ের করা তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মাদ আস সামছ জগলুল হোসেন গত ২৭ মে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। গত মার্চ মাসে নুসরাত তার মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করার পর তার তদন্তে তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম থানায় ডেকে নিয়ে এই মাদ্রাসাছাত্রীর জবানবন্দি নিয়েছিলেন।

এর কয়েক দিনের মাথায় নুসরাতের গায়ে অগ্নিসংযোগ করা হলে তা নিয়ে সারাদেশে আলোচনার মধ্যে ওই জবানবন্দির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

পরবর্তীকালে অগ্নিদগ্ধ নুসরাতের মৃত্যুর পর গত ১৫ এপ্রিল ওই ভিডিও ছড়ানোর জন্য ওসি মোয়াজ্জেমকে আসামি করে ঢাকায় সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

এরপর ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মাদ আস সামছ জগলুল হোসেন ওই অভিযোগ তদন্ত করে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। এরপর পিবিআই যে তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়, সেখানে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়। পিবিআইর এই প্রতিবেদন গত সোমবার সাইবার ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হলে ট্রাইব্যুনালের বিচারক পুলিশ কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

অন্যদিকে নুসরাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ১৬ জনের সম্পৃক্ত থাকায় তাদেরকে অভিযুক্ত করে ২৯ মে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

অভিযুক্তরা হলেন, মাদ্রাসা অধ্যক্ষ এসএম সিরাজউদ্দৌলা (৫৭), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ আল কাউন্সিলর (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ (১৯), হাফেজ আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), মোহাম্মদ শামীম (২০), রুহুল আমিন (৫৫) ও মহিউদ্দিন শাকিল (২০)।

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানির অভিযোগে রাফির মা বাদী হয়ে মাদ্রসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোনাগাজী থানা পুলিশ অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌল্লাকে গ্রেপ্তার করে।

এ মামলা প্রত্যাহারের জন্য রাফি ও তার পরিবারের উপর চাপ প্রয়োগ করে অধ্যক্ষের লোকজন। এতে ব্যর্থ হয়ে গত ৬ এপ্রিল রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে তাকে কৌশলে মাদ্রসার ছাদে ডেকে নিয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য আসামীরা চাপ দেয়। পরে পরিকল্পিতভাবে রাফির হাত পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে রাফি অগ্নিদগ্ধ হয়। তাকে প্রথমে ফেনী সদর হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ এপ্রিল রাতে রাফি মারা যায়।