চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

লঙ্কানদের উল্টো পিঠ দেখিয়ে সোনা জিতল সৌম্যরা

মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বোঝা গেল ব্যবধানটা কত! শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সোনার পদকের মহড়ায় আগেরদিন হতাশই করেছিল বাংলাদেশ। তারাই এদিন একই প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিল। লঙ্কানদের ৭ উইকেটে হারিয়ে সাউথ এশিয়ান গেমসের ছেলেদের ক্রিকেটেও সোনা জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। চলতি আসরে বাংলাদেশের ১৯তম স্বর্ণপদক।

আসরে ক্রিকেটের দুটি স্বর্ণ পদকই পেল বাংলাদেশ। রোববার শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-২৩ নারী দলকে হারিয়েই সোনা জেতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ নারী দল।

এক ম্যাচ হাতে রেখেই ফাইনাল নিশ্চিত করলেও প্রথম তিন ম্যাচে হতাশ করেছিল বাংলাদেশের বোলিং। প্রতিপক্ষকে অলআউট করতে না পেরে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন সৌম্য সরকারও। রোববার ১৫১ রান করেও গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে লঙ্কানদের কাছে হারতে হয়েছিল ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে।

ফাইনালে সবই যেন পাল্টে গেল। এসএস গেমসে চার ম্যাচ পর এদিন প্রতিপক্ষকে অলআউট করেন টাইগার বোলাররা। যার কারণে কাজটা ব্যাটসম্যানদের জন্য সহজ হয়ে যায়। শ্রীলঙ্কার দেয়া ১২৩ রানের টার্গেট মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে তুলে নেন সৌম্য-শান্তরা।

গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে লঙ্কানদের বিপক্ষে বিশ্রামে রাখা হয়েছিল দুই সেরা ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার ও নাজমুল ইসলাম শান্তকে। এদিন স্কোয়াডে ফিরে দলকে শুরুটা ভালোই এনে দেন সৌম্য। সাইফ হাসানের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে তোলেন ৪৪ রান। চার বাউন্ডারিতে ২৭ রান (২৮ বলে) তুললেও কিছুটা ধীরস্থির ব্যাটিং করেন জাতীয় দলের এ ওপেনার।

টার্গেট ছোট হওয়ায় সৌম্যর মতো ধীর চলছিলেন সাইফও। একটু আগ্রাসী হতে গিয়েই বিধি-বাম। ৩০ বলে ৩৩ রান করে ফিরতে হয় তাকে। তার ছোট ইনিংসটি সাজানো তিন চার ও দুই ছক্কায়।

বিজ্ঞাপন

দুই ওপেনারের পর মনে হয়েছিল আর কোনো উইকেট হারাতে হবে না বাংলাদেশকে। ইয়াসির আলির কারণে সেটা হয়নি। ১৬ বলে ১৯ রান করে আউট হয়ে যান ইয়াসির।

আফিফ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে বাকি পথটুকু হাঁটেন শান্ত। ২৮ বলে দুই চার ও এক ছক্কায় ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন টাইগার অধিনায়ক। সঙ্গী আফিফ করেন ৫ রান। ১১ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ।

আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই হয়েছিল শ্রীলঙ্কার। ওপেনিং জুটিতে ৩৬ রান তুলে আগের ম্যাচের মতো কিছু একটার ইঙ্গিত দিচ্ছিল তারা। পঞ্চম ওভারে শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক নিশান মাদুশঙ্কাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেন সুমন খান। পরের ওভারে জোড়া আঘাত হানেন হাসান মাহমুদ। দুই পেসার ৫ রানের মধ্যে তিন উইকেট তুলে লাগাম টানেন।

বাংলাদেশের বোলিং তোপে এদিন পথই খুঁজে পায়নি শ্রীলঙ্কা। দশম ওভারে ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কাকে ফিরিয়ে লঙ্কানদের বড় স্কোর গড়ার পথে বাধ দিয়ে দেয় টাইগাররা। ২৪ বলে ২২ রান করে ফিরেন নিশাঙ্কা।

একমাত্র শাম্মু আহসানই শ্রীলঙ্কানদের মধ্যে বলের চেয়ে বেশি রান (২০ বলে ২৫) তুলতে পারেন। শ্রীলঙ্কা ইনিংসের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান আসে অতিরিক্ত থেকে (২০)। ইনিংসের শেষ বলে অলআউট হওয়া লঙ্কানরা শেষ ৬ ওভারে তুলতে পারেম মাত্র ৩৫ রান।

৪ ওভারে ২০ রানে ৩ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। ১৮ রানে ১ উইকেট মেহেদী হাসানের। সুমন খান মাত্র ১৬ রানে এক উইকেট নেন।

শেয়ার করুন: