চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

লকডাউন: ৮০ কিলোমিটার পথ হেঁটে গ্রামের বাড়ি

ভারতে লকডাউন! থাকতে হবে ‘গৃহবন্দি‘। এমন বার্তা এসেছে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে। ২১ দিনের জন্য জরুরি প্রয়োজন ব্যতিত বাড়ি থেকে বের হওয়া নিষেধ। করোনা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে বাঁচতেই এই পদক্ষেপ।

আচমকা আকাশ ভেঙে পড়লো শ্রমিক অধবেশ কুমার ও তার সহকর্মীদের মাথায়। উত্তরপ্রদেশের শহরে কারখানার শ্রমিক তারা। লকডাউন ঘোষণার পর বন্ধ হয়ে গেছে কারখানা। মালিকপক্ষ বলে দিয়েছেন, কারখানায় থাকা যাবে না। এতে শহরে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারালেন প্রত্যেকে। নিরুপায় হয়েই রাস্তায় নামা অধবেশ কুমারের, সঙ্গে ২০ সহকর্মী।

বিজ্ঞাপন

হেঁটে পাড়ি দিতে হবে ৮০ কিলোমিটার পথ। বিরতিহীন হাঁটলে সময় লাগবে ৩৬ ঘণ্টা। তবেই লখনৌ হয়ে নিজ গ্রাম বারাবাঙ্কি পৌঁছতে পারবেন তারা।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার সরকারি বিধিনিষেধ, পুলিশের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে রাস্তায় হাঁটা দিলেন ২০ বছর বয়সী অধবেশ কুমার ও তার বিভিন্ন বয়সী সহকর্মী শ্রমিক, যেখানে ষাটোর্ধ্ব কর্মচারীও আছেন।

বিজ্ঞাপন

অধবেশ কুমার এনডিটিভিকে জানায়, সামান্য বিশ্রাম নিয়ে বিরতিহীন হাঁটলে বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে গ্রামে পৌঁছে যাবেন তারা।

প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণার পরে করজোড়ে বলেছিলেন, ‘দেশের নাগরিকরা যে যেখানে আছেন; দয়া করে সেখানেই থাকুন। ভিন্ন এলাকা থেকে কাজ করতে আসাদের জন্যও একই নির্দেশনা‘।

এ বিষয়ে অধবেশকে প্রশ্ন করা হলে এনডিটিভিকে তিনি বলেন, আমি এমনটা একেবারেই করতে চাইনি। কিন্তু এ ছাড়া কোনো বিকল্প ছিলো না। কাজের সময় ফেব্রিক কারখানার মধ্যেই থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে নেই। কিন্তু লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পরেই আমাদের বলা হয় জায়গা খালি করতে, এখানে থাকা যাবে না। তাহলে কী করব? রাস্তায় কোনো গাড়ি নেই! তাই আমরা এক গ্রামের সবাই মিলে স্থির করলাম, হেঁটেই বাড়ি ফিরব।

করোনাভাইরাসের আঘাতে সমগ্র বিশ্ব নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। লকডাউন হয়ে গেছে বড় বড় অনেক দেশ ও শহর। তারই ধারাবাহিকতায় ২১ দিনের লকডাউনে ভারতও। এখন পযন্ত ভারতে করোনায় আক্রান্ত ৫৬২ জন। মারা গেছেন ১০ জন। সারাবিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৩৯১ জন। আর মারা গেছেন ১৯ হাজার ৬২০ জন।