চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বৈশ্বিক চাপ বাড়াতে হবে

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য বিষফোঁড়া হিসেবে দেখা দিলেও এ নিয়ে কারও যেন কোনো মাথাব্যথা নেই। এমন পরিস্থিতিতে আবারও বৈশ্বিক ফোরামে উঠে এসেছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কথা। ঢাকায় তিন দিনের সফরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন ই. বিগান বলেছেন: রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক চাপ বাড়াতে হবে। রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর চাপ বাড়াবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বাংলাদেশের পাশে নয়। এ সংকটের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পক্ষে। তবুও সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং মিয়ানমারের ধৃষ্টতা আরও বেড়েছে। এমনকি সীমান্তেও তারা সেনা সমাবেশ করেছে। বাংলাদেশ ধৈর্য্য ধরে এ বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক পর্যায়ে কড়া অবস্থান নেওয়ার সময় এসেছে বলে আমরা মনে করি। ঢাকায় সফররত যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় সেই সুর ধ্বনিত হয়েছে। এই অবস্থানের জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে সাধুবাদ জানাই। তবে আমরা বরাবরের মতো বলতে চাই: এ যেন কথার কথা না হয়। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, যুক্তরাষ্ট্র এই মানবিক সংকট মোকাবেলায় অতীতের চেয়েও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও যেমন রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল, প্রত্যাবাসনে আরও জোরালো ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞাপন

রোহিঙ্গা সংকট যে বাংলাদেশের নয়, বরং মিয়ানমারের সৃষ্টি এটা সবারই জানা। এজন্য রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে। এ সহজ বিষয়টি বিশ্বনেতারা যত সহজে বুঝবেন, ততই মঙ্গল। সুতরাং রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমি মিয়ানমারের রাখাইনে প্রত্যাবাসন করতে হবে। এতে সফল হওয়ার লক্ষ্যে সরকারের কূটনৈতিক জোরালো প্রচেষ্টা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রসহ মানবিক বোধসম্পন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।