চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন চায় যুক্তরাষ্ট্র  

দু’বছর আগে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের নৃশংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একই সাথে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে দেশটি চাপ অব্যাহত রাখবে বলেও জানিয়েছে।

রোববার রোহিঙ্গা সংকটের দুই বছর উপলক্ষে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের সাহায্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের পাশে আছে, সবসময় থাকবে। বাংলাদেশ উদারতার সাথে রোহিঙ্গাদের যেভাবে আশ্রয় দিয়েছে তা প্রশংসার দাবিদার। রোহিঙ্গাদের ‘সম্মানের সহিত ও নিরাপদে’ নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের অন্যান্য রাষ্ট্র মিলে যা যা করা দরকার তা সবই করা হবে।সকল রোহিঙ্গার স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে ও টেকসই উপায়ে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর অবশ্যই চাপ প্রয়োগ করা উচিত।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে বলা হয়, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় সম্প্রদায়কে মানবিক সহায়তা প্রদানকারী অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যারা ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে রোহিঙ্গা আগমনের পর থেকে তাদের ৫৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা করেছে।

বিজ্ঞাপন


এতে আরও বলা হয়, মিয়ানমারের বাহিনী কর্তৃক উত্তর রাখাইন রাজ্যে লক্ষ লক্ষ নিরস্ত্র নারী-পুরুষ এবং শিশুদের বিরুদ্ধে নৃশংস আক্রমণ চালিয়েছে। রোহিঙ্গাদের ওপর এমন নৃশংসত জাতিগত নির্মূলের কারণে তারা অসহায় হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে।বিগত সত্তর বছর ধরে রাখাইন রাজ্যে আক্রমণ চালানো হচ্ছে। তবে রাখাইন রাজ্যই একমাত্র জায়গা নয় যেখানে মিয়ানমার জনগণের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘন করছে। এর পাশাপাশি কাচিন ও শান রাজ্যেও সামরিক নৃশংসতা অব্যাহত রয়েছে। আমরা মিয়ানমারকে মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আহ্বান করছি। মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে শান্তি অর্জনের জন্য উভয় পক্ষকে রাজনৈতিক সংলাপের আহ্বান জানাই।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা সব সময় এই নৃশংসতার শিকার ও অমানবিকতার শিকার হয়ে আসা দশ লাখেরও বেশি শরণার্থীর পাশে রয়েছি। শক্তিশালী, শান্তিপূর্ণ, সুরক্ষিত িএবং সমৃদ্ধ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য মিয়ানমারের ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিত বাস্তবায়ন অপরিহায। আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ফেরত নেওয়ার জন্য পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত রাখতে চাই।

এক্ষেত্রে দুই বছর আগে রাখাইন রাজ্যের সুরক্ষা নিয়ে কফি আনান উপদেষ্টা কমিশন যে প্রতিবেদনের সুপারিশগুলি বাস্তবায়নে উৎসাহিত করা অব্যাহত রেখেছি, যা মিয়ানমার এবং রাখাইন রাজ্যের সমস্ত লোকজনের এবং সেই সাথে যারা উদ্বাস্তু হয়েছে তাদের সকলের জন্য সর্বোত্তম প্রস্তাব।

Bellow Post-Green View