চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রোহিঙ্গাদের নিয়ে ৫০ সংগঠনের চিঠিতে স্থানীয়দের উদ্বেগ

রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে মোবাইল ও ইন্টারনেট যোগাযোগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ স্থগিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক ৫০টি সংগঠন যে যৌথ চিঠি দিয়েছে, তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কক্সবাজারের স্থানীয়রা।

এই দাবি মেনে নেওয়া হলে তা ‘আত্মঘাতী’ হবে বলেও মনে করছেন কক্সবাজারের সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

বিজ্ঞাপন

তারা বলছেন, ‘বিশ্বের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বারবার বলছেন, জনসমাগম এড়ানোর জন্য, ঘরে থাকার জন্য। এ ক্ষেত্রে ১১ লক্ষ মানুষকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখার জন্য কাঁটাতারের বেড়া ব্যাপক সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। কাজেই এই সময়ে এসে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ স্থগিত করার দাবি একেবারেই অযৌক্তিক।’

বিজ্ঞাপন

‘‘রোহিঙ্গারা যেহেতু সবাই কাছাকাছি অবস্থানে একটি নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে আছে সেহেতু তাদের মোবাইল ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষারও প্রয়োজন নেই। তাছাড়া রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচলের সুযোগ করে দেওয়া হলে তারা বাইরে বা মিয়ানমারে গোপনে আসা-যাওয়া করে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে।’’

কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদ অ্যাডভোকেট আয়াছুর রহমান বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের অপরাধ দমন করতে শিবিরগুলোর চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া থাকা জরুরি। দ্রুত এ নির্মাণ কাজ শেষ করতে হবে। কারণ প্রত্যাবাসন নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে রোহিঙ্গারা আশ্রয় শিবির থেকে পালানোর চেষ্টা করছে।’

বিজ্ঞাপন

‘‘এছাড়া খুন, হত্যা, মাদক ও নারী-শিশু পাচারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে তারা জড়িয়ে পড়েছে। ক্যাম্পসহ আশপাশের এলাকায় প্রতিনিয়ত খুনাখুনির ঘটনা ঘটছে। শিবিরগুলো উন্মুক্ত থাকলে যেকোন সময় তারা লোকালয়ে গিয়ে খুন-রাহাজানিতে লিপ্ত হতে পারে। ইতোপূর্বে এর বহু আলামত আমরা দেখেছি।’’

গত বৃহস্পতিবার আর্টিকেল ১৯, আসিয়ান পার্লামেনটারিয়ন ফর হিউম্যান রাটিস, অ্যাকশন করপস, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, বিওন্ড বর্ডারস মালয়েশিয়া, ব্রিটিশ রোহিঙ্গা কমিউনিটি ইউকে, ফরটি রাইটস, কিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ আন্তর্জাতিক ৫০টি সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে যৌথভাবে লেখা চিঠিতে বলা হয়, ‘করোনা ভাইরাস বা ‘কোভিড ১৯’ ছড়িয়ে পড়া থামাতে মুঠোফোনের দ্রুত গতির ইন্টারনেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অবাধ ইন্টারনেট স্বাস্থ্যকর্মীদেরই সেবা দিতে ভালো ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া শরণার্থীশিবিরে যারা কাজ করছেন তাদের জন্যও এটি প্রয়োজন।’

চিঠিতে বলা হয়, রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের চারপাশে বেড়া নির্মাণের কাজ মহামারি শুরু হওয়ার আগেই শুরু হয়। এই বেড়া নির্মাণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে তীব্র ভয় ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছে যা রোহিঙ্গা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী এনামুর রহমান এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদারকেও।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদের সাবেক আহ্বায়ক মাহমুদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের অপরাধ ঠেকাতে আশ্রয় শিবিরগুলোর চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া থাকা জরুরি। মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দেয়া হলেও তারা এখন নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। তারা নানাভাবে মূলধারা লোকজনের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। নানা অপরাধমূলক কর্মকানণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।’

‘‘এমতাবস্থায় কাঁটাতার বা দেয়াল নির্মাণ করে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার। মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক ৫০ সংগঠন যে দাবি তুলেছে তা অযৌক্তিক এবং রাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থি।”