চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রোহিঙ্গাদের জন্য ১ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা অনুদান দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য সাড়ে ১৬ কোটি ডলার অনুদান দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৩৮২ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

জরুরি ভিত্তিতে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মাল্টি-সেক্টর শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থ খরচ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ সংক্রান্ত একটি অনুদান চুক্তি সই হয়। চুক্তিতে সই করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) ভারপ্রাপ্ত সচিব মনোয়ার আহমেদ এবং বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের এ্যাক্টিং কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যানডান চ্যান।

বিশ্বব্যাংকের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্য পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, রাস্তা নির্মাণ, সড়কবাতি ও বজ্র-নিরোধ ব্যবস্থা স্থাপন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষম বহুমুখী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ওই চুক্তি সই অনুষ্ঠানে ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশ ১৯৭৮-৭৯, ১৯৯১-৯২ এবং অক্টোবর ২০১৬ এ মিয়ানমার সরকার কর্তৃক জোরপূর্বক স্থানচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। এরপরেও ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে জোর পূর্বক ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে বাংলাদেশের সার্বিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জলবায়ু ও পরিবেশ, জীব-বৈচিত্র্য ও স্থানীয় পর্যায়ের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামোর উপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হচ্ছে।

তাই রোহিঙ্গা সমস্যার একটি চিরস্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

ড্যানডান চ্যান বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা করতে পেরে আমরা আনন্দিত। দুই বছর আগে সহিংসতার শিকার হয়ে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশ আসে। প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এর ফলে রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠির জীবন ধারনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন চাহিদা তৈরি হয়েছে। তাদের চাহিদা মেটাতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ প্রকল্পের আওতায় স্থানচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির (এফডিআরপি) মৌলিক পরিসেবা ও প্রবেশাধিকার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকারের প্রচলিত দুর্যোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, রাস্তা নির্মাণ, সড়কবাতি ও বজ্র-নিরোধ ব্যবস্থা স্থাপন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষম বহুমুখী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ এবং সরকারের দীর্ঘ মেয়াদী দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।