চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রোববার ব্যাংক বন্ধ, সোমবার থেকে লেনদেন ১০টা-দেড়টা পর্যন্ত

করোনার সংক্রমণ রোধে বৃহস্পতিবার থেকে ৭ দিনের ‌কঠোর ‘বিধিনিষেধ চলাকালীন বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালনাকারী তফসিলী ব্যাংকগুলো সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ পর্যন্ত খোলা থাকবে। অর্থাৎ বিধিনিষেধ চলাকালে ব্যাংকে লেনদেন চলবে সাড়ে ৩ ঘণ্টা। আর সাপ্তাহিক ছুটি ২ দিন থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩ দিন।

বুধবার এই নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এতে বলা হয়েছে, সকাল ১০টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত লেনদেন চলবে। তবে ব্যাংক খোলা থাকবে ৩টা পর্যন্ত। বাকি দেড় ঘণ্টা ব্যাংকের আনুষঙ্গিক কাজ চলবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার ও শনিবার ছাড়াও রোববার বন্ধ থাকবে ব্যাংক। আগামীকাল ব্যাংক হলিডে উপলক্ষ্যে ব্যাংকে কোনো লেনদেন হবে না। সেই হিসেবে বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত এই ৪ দিন ব্যাংকে লেনদেন বন্ধ থাকবে।

তাই বাংলাদেশ বিধিনিষেধ চলাকালে ব্যাংকের লেনদেনের নতুন এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে আগামী সোমবার থেকে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অত্যাবশ্যকীয় বিভাগসমূহ, যথাসম্ভব সীমিত লোকবলের মাধ্যমে খোলা রাখতে হবে। প্রিন্সিপ্যাল বা প্রধান শাখা এবং সব বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা (এডি শাখা) সীমিত সংখ্যক অত্যাবশ্যকীয় লোকবলের মাধ্যমে খোলা রাখতে হবে।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে ব্যাংক ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় প্রতিটি জেলা সদর ও উপজেলায় একটি করে শাখা খোলা রাখা যাবে। আর অন্যান্য সব ব্যাংকের ক্ষেত্রে জেলা সদরে একটি শাখা খোলা রাখতে হবে এবং জেলা সদরের বাইরে ব্যাংক ব্যবস্থপনায় অনধিক দুটি শাখা খোলা রাখা যাবে।

এতে আরও বলা হয়, কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে। এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নোট সরবরাহসহ সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে।

কঠোর লকডাউনকালীন সময়ে যেসব সেবা দেবে ব্যাংক

নতুন নির্দেশনামতে, গ্রাহকদের হিসাবে নগদ চেকের মাধ্যমে অর্থ জমা ও উত্তোলন, ডিমান্ড ড্রাফ্ট বা পে-অর্ডার ইস্যু, ও জমা গ্রহণ বৈদেশিক রেমিট্যান্সের অর্থ পরিশোধ, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের আওতায় প্রদত্ত ভাতা ও অনুদান বিতরণ করা যাবে।

একই ব্যাংকের খোলা রাখা বিভিন্ন শাখা ও উপশাখার বিভিন্ন হিসাবের মধ্যে অর্থ স্থানান্তর, ট্রেজারি চালান গ্রহণ, অনলাইন সুবিধা সম্বলিত ব্যাংকের সব গ্রাহকের এবং এই সুবিধা বহির্ভূত ব্যাংকের খোলা রাখা শাখার গ্রাহকদের বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক চালু রাখা বিভিন্ন পেমেন্ট সিস্টেম ও ক্লিয়ারিং ব্যবস্থার আওতাধীন অন্যান্য লেনদেন সুবিধা প্রদান এবং জরুরি বৈদেশিক লেনদেন সংক্রান্ত কার্যাবলী সম্পাদন করা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সমুদ্র  ও স্থলবন্দর এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের শাখা ও উপশাখাগুলো  সার্বক্ষণিক খোলা রাখতে হবে। এছাড়া যেসব শাখা বন্ধ থাকবে সে সব শাখার গ্রাহকদের সেবা কার্যক্রম খোলা রাখা শাখার মাধ্যমে সম্পাদনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বন্ধ শাখার গ্রাহকদের গ্রাহক সেবা প্রাপ্তির বিষয়ে অবহিত করতে ওই শাখার দৃশ্যমান স্থানে তা বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রদর্শন নিশ্চিত করতে হবে।

সব খোলা রাখা শাখার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন সাপেক্ষে সীমিত সংখ্যক লোকবল এর মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে হবে। বিধিনিষেধ চলাকালে ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের  অফিসে আনা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলাচলের সময় নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র বহন করতে হবে।