চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রোদ-বৃষ্টির খেলার মাঝেও চনমনে বাংলাদেশ

টন্টন থেকে: ইংল্যান্ডের আবহাওয়া বিশ্বকাপকে ম্যাড়ম্যাড়ে করে দিয়েছে অনেকটাই। ১৮ ম্যাচের মধ্যে চারটি পরিত্যক্ত হয়েছে বৃষ্টিতে। এখানে ক্রিকেট উপভোগ করতে চাইলে জেনে নিতে হবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস। সেটার বাইরে রাখতে হয় হুট করে বৃষ্টি চলে আসলে তার জন্য প্রস্তুতিও।

ব্রিস্টলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটা বৃষ্টিতে পয়েন্ট ভাগাভাগি হয়ে যাওয়ায় সোমবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের ‘মাস্ট উইন গেম’। ম্যাচের ভেন্যু টন্টনে শুক্রবার সারাদিন ধরে দেখা যায় রোদ-বৃষ্টির খেলা। তার মধ্যেই অবশ্য এখানকার কাউন্টি গ্রাউন্ডে অনুশীলন সেরে নিয়েছে বাংলাদেশ দল। বিশ্বকাপ খেলতে এসে তিনদিন ব্যাট-বলের বাইরে থাকার পর আরও একটি দিন ঘরে বসে কাটানোর যে উপায় নেই!

বিজ্ঞাপন

এবারের বর্ষায় ইংল্যান্ডের আবহাওয়া অস্বাভাবিক আচরণ করছে। বৃষ্টির এত চোখ রাঙানি দেখা যায়নি কখনোই। শুক্রবার বাংলাদেশ দল মাঠে আসতেই শুরু হয় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। ইনডোরে ব্যাট-বলের অনুশীলনের কথাই ভাবছিল দল। কিন্তু ছোট জায়গায় তো আর ফিল্ডিং করা সম্ভব না!

ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুক মাঠে নামলেন সবার আগে। ভেজা মাঠেই ফিল্ডিং অনুশীলনের আয়োজন সারার পর একে একে ড্রেসিংরুম থেকে নেমে এলেন ক্রিকেটাররা। ঐচ্ছিক অনুশীলনেও ১১ ক্রিকেটার। সংখ্যাটা মোটেও খারাপ নয়!

চোটের কারণে বিশ্রাম পাওয়ায় মাঠে আসেননি সাকিব আল হাসান। আর অনুশীলনটা ঐচ্ছিক হওয়ায় দেখা যায়নি লিটন দাস, রুবেল হোসেন ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে।

কার্ডিফে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফিল্ডিং মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ফিল্ডিং কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে তা দেখা গেল টন্টনের কাউন্টি গ্রাউন্ডে টাইগারদের ঐচ্ছিক অনুশীলনে। হালকা ওয়ার্মআপ সেরে বৃষ্টিভেজা মাঠেই দলের ১১ ক্রিকেটার নেমে গেলেন ফিল্ডিং অনুশীলনে। রায়ান কুকের অধীনে মজায় মজায় শেষ করলেন ৩০ মিনিটের সেশন। বৃষ্টি হলে বাংলাদেশের মাঠ যেভাবে কর্দমাক্ত হয়ে ওঠে এখানে তেমন না, গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে চলতে থাকে খেলা।

বিজ্ঞাপন

থ্রোয়িং-ক্যাচিং যখন চলছিল মাঝমাঠে চলছিল গ্রাউন্ডসম্যানদের নেট টাঙানোর প্রস্তুতি। সেখানে বাংলাদেশ দলের ব্যাট-বলের অনুশীলনও চলে দীর্ঘক্ষণ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টন্টনে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ম্যাচের আগে লম্বা সময় পাওয়ায় গত দুইদিন ছুটি কাটান ক্রিকেটাররা। সোমবারের ম্যাচের আগে শুক্রবারই হয়েছে প্রথম অনুশীলন। টানা খেলার অবসাদ কাটাতেই দেয়া হয়েছিল ছুটি। সেটি যে কাজে লেগেছে তা বোঝা গেছে খেলোয়াড়দের শারীরিক ভাষায়। অনুশীলনে চনমনে ছিলেন ১১ ক্রিকেটার। পরিশ্রমের ফাঁকে ফাঁকে দুষ্টুমি, খুনসুটি করেই সময়টা পার করেছেন মাশরাফী-মুশফিকরা।

এখানকার ছোট মাঠ বোলারদের চ্যালেঞ্জ হবে সেটি মানছেন সবাই। ক্যারিবীয় স্কোয়াডে বেশ কয়েকজন বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান আছেন যাদের সমীহ করে পুরোবিশ্ব। ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিস গেইল, আন্দ্রে রাসেলদের নাম উচ্চারিত হয় সর্বত্র। তবে ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ দেখেন আরও কয়েকজনকে।

দিনশেষে বাংলাদেশকেই এগিয়ে রাখছেন তিনি। গত এক বছরে বাংলাদেশের কাছে তিনটি সিরিজ হেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। র‌্যাঙ্কিংয়েও এগিয়ে বাংলাদেশ। তারপরও প্রতিপক্ষকে সমীহ করতেই হচ্ছে। দলটা যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

‘আমাদের কিছু পরিকল্পনা আছে ওদের জন্য। ওরা (গেইল, রাসেল) দুজন ভয়ঙ্কর খেলোয়াড়। ওদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করতে হবে আমাদের, আবার একই সাথে আউট করার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে ম্যাচের ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। তবে আমাদের পুরো ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের দিকেও নজর দিতে হবে। কারণ ওদের বেশকিছু ভালো ক্রিকেটার আছে। আমরা যদি এক-দুইজনের দিক নজর দেই এবং তাদের বিপক্ষে ভালো করি, তাহলে ভালো। দিনশেষে আমাদের দল হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে পারফর্ম করতে হবে। আমি নিশ্চিত আমরা সেটা করতে পারব।’

‘আমরা ধারাবাহিকভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে ভালো ক্রিকেট খেলে আসছি, এটাই আমাদের পক্ষে যাবে। আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত ওদের হালকাভাবে না নিচ্ছি, আমরা ভালো করব। ছেলেদের শুধু ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে যেমনটা খেলে আসছে।’ বলেন ওয়ালশ।

Bellow Post-Green View