চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রোজার আগেই বেগুনে আগুন

রমজান মাস শুরুর আগেই বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কাঁচা বাজারের সবজির দাম বেড়েছে বেশি। দাম বেশি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের কেউ কেউ পণ্য না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।

বুধবার সরেজমিন রাজধানীর কারওয়ান বাজারের খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুনের দাম খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ১১০ টাকা, পাইকারি বাজারে ১০০। সপ্তাহ খানেক আগেও দাম ছিলো অর্ধেক।

প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের খুচরা মূল্য এখন ৬০ টাকা, পাইকারি বাজারে ৫৫। দুইদিন আগেও এর দাম ছিলো ৩৫ টাকা।

পেঁয়াজের দাম খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৪৮ টাকা, পাইকারি বাজারে ৪২। মাস খানেক আগেও দাম ছিলো ৩৪ টাকা। ছোলা খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৬৫ টাকা, পাইকারি বাজারে ৫০ টাকা। চিনি খুচরা বাজারে ৪০, পাইকারি বাজারে ৩৬ থেকে ৩৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা। কিছুদিন আগেও দাম ছিলো ৪৫০ টাকা। গরুর মাংস ৩৮০ টাকা এখন, কয়েকদিন আগেও ছিলো ৩৬৫ থেকে ৩৭০ টাকার মধ্যে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ৭৫ টাকা। কয়েক দিন আগে ৬৫ টাকায় বিক্রি হতো। তবে মশলার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

‘অনেক দূর থেকে এ বাজারে আসলাম। কিন্ত এসে দেখি একই অবস্থা। সবকিছুতেই আগুন জ্বলছে। এক কেজি বেগুন কিনলাম ১১০ টাকা দিয়ে। কিছু জানতে চাইলেই বলে পাইকারি বাজারে দাম বেশি,’ কথাগুলো বলছিলেন, মানিকদি থেকে কারওয়ান বাজারে আসা ইসমাইল হোসেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন: খুব আশা করে এসেছিলাম; এখান থেকে পুরো রমজানের বাজার করবো। কিন্ত এসে দেখলাম এখানকার দাম আমার এলাকার বাজার থেকেও বেশি। তাই অনেককিছু না কিনেই ফিরে যাচ্ছি। মানিকদি থেকেই কিনবো।

পাশে দাঁড়ানো তারেকুজ্জামানের মুখেও একই কথা। শুধু ইসমাইল হোসেন বা তারেকুজ্জামান নয়; যারা রমজানকে সামনে রেখে বাজার করতে এসেছেন তাদের সবারই এরকম অআক্ষেপ। 

দাম বাড়ার বিষয় জানতে চাইলে পেঁয়াজের আড়ৎদার মজিদ মিয়া চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, রমজানের আগে সাধারণত ক্রেতাদের চাহিদা অনুসারে দাম বাড়ে। আর পেঁয়াজের দামটা বেশি হওয়ার কারণ ইন্ডিয়ান পেঁয়াজের দাম বেশি। 

তবে কাঁচা মরিচের দাম জানতে চাইলেই এক খুচরা বিক্রেতা বলে উঠলেন, দেখেন না কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিতে মাল আনতে পারি নাই বলে দামতো একটু বাড়বেই।  

বাজার ঘুরে দেখা যায়, মশলার দাম না বাড়লেও ইন্ডিয়ান জিরার দাম বেশি। একমাস আগেও দাম ছিলো ২৬৫ থেকে ২৭০ টাকা, এখন ৩২০ থেকে ৩২৫ টাকা।

বাজারের এমন হাল দেখে অনেকেই না কিনে চলে যাচ্ছেন। বেশিরভাগ ক্রেতা বিরক্ত বাজারের এমন অবস্থা দেখে। তারা মনে করছেন, রমজানকে সামনে রেখে আড়ৎদাররা বেশি মুনাফা লাভের আশায় নিজেরাই দাম বাড়িয়েছেন কোনো যুক্তি ছাড়াই।

বিজ্ঞাপন