চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রোগীরা কেন হাসপাতালে চিকিৎসা পাবে না?

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই সময়ে রোগীরা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতাল ঘুরে-ঘুরে চিকিৎসা না পাওয়ার ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ অধিগ্রহণ ও অনলাইনে সেন্ট্রাল বেড ব্যুরো চালুর নির্দেশনা চেয়ে করা এক রিটের শুনানিতে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ উষ্মা প্রকাশ করেন।

করোনার প্রকোপ শুরুর পর থেকেই দেশের নানা হাসপাতালে অন্যরোগে আক্রান্ত সাধারণ রোগীরা নানারকম হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। হয়রানির শিকার হয়ে কয়েকজনের মৃত্যুর অভিযোগে নানা গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশও হয়েছে। বিষয়টি দেশজুড়ে ও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষিতেই এই রিটের প্রেক্ষাপট।

বিজ্ঞাপন

রিট আবেদনকারীর আইনজীবী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘করোনার এই ক্রান্তিকালে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে থাকা প্রায় সাত শতাধিক আইসিইউ সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ ও অনলাইনে “সেন্ট্রাল বেড ব্যুরো” চালুর নির্দেশনা চেয়ে রোববার একটি রিট করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. আব্দুল আল মামুন।

বিজ্ঞাপন

মৌলিক অধিকারের একটি চিকিৎসা। করোনার এই সময়ে সারাবিশ্বজুড়েই চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বাংলাদেশেও কমবেশি সেই প্রভাব পড়েছে। তবে রোগীদের প্রতি মানবিক আচরণের পরিবর্তে অনেক বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের পেশাদারী মনোভাবের অভাবে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

করোনা সঙ্কটকালীন সময়ে অনেক ডাক্তার, নার্স ও হেলথ টেকনিশিয়ান করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, রোগীরা করোনার তথ্য লুকিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অনেক হাসপাতালকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন, এসব প্রেক্ষাপটে হয়তো অনেক হাসপাতাল চিকিৎসা দিতে অনীহা প্রকাশ করেছে। কারণ যাই হোক, এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া দরকার। হাইকোর্টের দৃষ্টিতে বিষয়টি আসার পরে তা আরও যৌক্তিক দাবি হিসেবে সামনে এসেছে।

করোনার ভয়কে দূরে ঠেলে পেশাদারী মনোভাব নিয়ে হাসপাতাল-ডাক্তাররা চিকিৎসা দেবেন, আর রোগীরা সঠিক তথ্য দিয়ে সাহায্য করলে এ অবস্থার পরিবর্তন আসতে পারে। দেশের আর একটি মানুষও যেন হয়রানির শিকার হয়ে বা বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ না করেন, সেদিকে নজর দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কার্যকরে সচেতন হয়ে পদক্ষেপ নেবেন বলে আমাদের আশাবাদ।