চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রোগা, গরিব ছেলেটাই এখন ম্যানসিটির ভরসা

সান্তিয়াগো বার্নাব্যু থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় তুলে ফিরেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাচে স্বাগতিক রিয়ালের আক্রমণ ঠেকিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন সিটিজেন গোলরক্ষক এডারসন মোরায়েস।

ম্যানসিটি কোচ পেপ গার্দিওলার কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার এ ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক। শুধু গোলবার সামলানোই নয়, বল পায়ে লম্বা পাস ও কাউন্টার অ্যাটাকে দারুণ সিদ্ধহস্ত দীর্ঘদেহী এডারসন। জীবনের শুরুতে গোলরক্ষক নয়, লেফটব্যাক হতে চাওয়াই এই পর্যায়ে এনেছে বলে মনে করেন শৈশবে সাও পাওলো থেকে তাকে উঠিয়ে আনা কোচ গিলবার্তো লোপেজ।

বিজ্ঞাপন

‘সে কখনোই গোলরক্ষক হতে চাইত না। বলতো লেফটব্যাক হতে চাই। এটা স্বাভাবিক বিষয়, কারণ তার মতো নয় বয়সী ছেলেরা তখন মাঠে গোল করতে চাইত।’

বিজ্ঞাপন

ডিফেন্ডার না হয়ে কেনো গোলরক্ষক হলেন সেই এডারসন? কারণটা লুকিয়ে তার শৈশবকালীন স্বাস্থ্যে। গিলবার্তো জানাচ্ছেন, এডারসন ছোটবেলায় এতটাই রোগা ছিলেন যে প্রতিভা নিয়ে সন্দেহ না থাকলেও ওরকম স্বাস্থ্য নিয়ে কোথায় খেলানো সম্ভব সেটা ভেবে গোলরক্ষক হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়।

‘সে ছিল খুবই রোগা। এজন্য অনেকে তাকে টিটকারি করে ‘মোটকা’ বলে ডাকত। সে অনেক জোরে বল কিক করতে পারত, কিন্তু আসলেই তার স্বাস্থ্য ভালো ছিল না। আর গতি ছিল সাধারণ। এজন্যই সিদ্ধান্ত নিলাম সে গোলরক্ষক হবে।’

গিলবার্তোর সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল এডারসন নিজেই প্রমাণ করে চলেছেন। গোলবারের নিচে ভরসা হয়ে ওঠা ছাড়াও লম্বা কিকের কারণে তার পা দিয়ে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে উঠতে পারে ম্যানসিটি। গার্দিওলার কৌশলে নিচ থেকে খেলা গড়ার অন্যতম কারিগরও এডারসন। বার্সেলোনার কোচ থাকাকালীন ভিক্টর ভালদেসকে এমন দায়িত্ব দিয়েছিলেন গার্দিওলা।

বিশ্বে সবচেয়ে লম্বা কিকের গিনেজ রেকর্ডটাও কিন্তু এডারসনের দখলে। একসময়ের রোগাপটকা স্বাস্থ্যের কিশোরটি ২০১৮ সালে বাম পা দিয়ে এনেছে ৭৫.৩৫ মিটারের রেকর্ডগড়া লম্বা কিকটি!