চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রেমিট্যান্সের মতো রপ্তানিতেও ঐতিহাসিক রেকর্ড হবে: অর্থমন্ত্রী

বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণের মধ্যেও চলতি বছরের জুলাই ও আগস্টে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। একইভাবে রপ্তানি বাণিজ্যেও ঐতিহাসিক রেকর্ড সৃষ্টি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, আমাদের অভ্যন্তরীণ সম্পদ অনেক বেশি। সেগুলোকে কখনোই মূল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করতে পারিনি। এখন ধীরে ধীরে সেসব সম্পদকে মূল স্রোতধারায় নিয়ে আনা হচ্ছে। এর ফলে অর্থনীতিতে গতিশীলতা আরও অনেক বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার জুম অ্যাপের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

প্রবাসীদের ধন্যবাদ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দুই শতাংশ নগদ প্রণোদনা এবং বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠানোতে ঝামেলা কমানোর উদ্যোগ নেয়ার কারণেই রেমিট্যান্সে রেকর্ড হয়েছে। প্রবাসীরা অনেক কষ্টে আয় করে আমাদের সাপোর্ট দিচ্ছেন। পাশাপাশি তারা নিজেরাও শক্তিশালী হচ্ছেন। বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠানোয় প্রবাসীদের আন্তরিক ধন্যবাদ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের জুলাই এবং আগস্ট মাসে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি ৫০ শতাংশ। গত বছর ১৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের তুলায় রেমিট্যান্স ৫০ ভাগ বৃদ্ধি, এটা অবিশ্বাস্য একটা ঘটনা। ৬ মাসে যেটা পেতাম ২ মাসেই সেটা এসে গেছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, গত দুই মাসে রেমিট্যান্স যেভাবে উপরের দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তেমনিভাবে এক ঐতিহাসিক রেকর্ড সৃষ্টি হবে জুলাই আগস্টের রপ্তানি বাণিজ্যে। সব ক্ষেত্রই আমরা ভালোটা পাচ্ছি। এদেশের মানুষ আমাদের প্রাণশক্তি, তাদের কারণেই সব সম্ভব হবে। তারা ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন তার ফল তারা পাচ্ছেন।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য প্রধানমন্ত্রী ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি প্রণোদনা ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু এসএমই উদ্যোক্তারা ঋণ পাচ্ছেন না। এতে সরকার বা অর্থমন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হবে কি না?

এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা চাই ক্যাশ ট্রান্সফার। যাদের অ্যাকাউন্ট নেই তাদের আমরা স্বীকার করি না বা করতে পারি না। ফলে যার টাকা পাওয়ার কথা তার হাতে গিয়ে টাকা পৌঁছায় না। আমরা এগুলো দূর করতে চাই।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এখন যারা ছোট একদিন তারা মিডিয়াম হবে। এরপর তারা লার্জ হবেন, এটাই নিয়ম। এসব উদ্যোক্তাদের অ্যাকাউন্ট আছে এবং তারা কী ব্যবসা করে এটা যদি তারা প্রমাণসাপেক্ষে আবেদন করে তাহলে তাদের সহায়তা করা হবে। তাদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আলাদা শাখা আছে। সুতরাং প্রধানমন্ত্রী যে ঘোষণা দিয়েছেন এর বাইরে কেউ না। তিনি নিজেও এগুলো তদারকি করেন। ফলে এবার হইচই কম হয়েছে। সবাই সরাসরি সহায়তা পাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে ১৯৬ কোটি ৩৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫১ কোটি ৯২ লাখ ডলার বা ৩৬ শতাংশ বেশি। গত বছরের আগস্টে ১৪৪ কোটি ৪৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।

এছাড়া চলতি বছরের জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ২৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। একক মাস হিসাবে যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ। এর আগে সর্বোচ্চ রেকর্ড রেমিট্যান্স এসেছিল চলতি বছরের জুনে। ওই মাসে ১৮৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।