চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রেকর্ড তছনছ করে প্লে-অফের আশায় কেকেআর

ডু অর ডাই’ ম্যাচে স্বপ্নের ব্যাটিং করেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। আইপিএলের সুপার সানডেতে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে নাইটদের ব্যাটিং বিস্ফোরণ। পরে জবাবটাও মন্দ দেয়নি কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। দুদলের ব্যাটিং তাণ্ডবে জন্ম নিয়েছে বেশ কিছু নতুন রেকর্ড। এমন রেকর্ড ভাঙচুরের ম্যাচে ৩১ রানে জিতে প্লে-অফের আশা জিইয়ে রেখেছে কেকেআর৷

১২ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে টপকে লিগ টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে কলকাতা৷

২০ ওভার শেষে পাঞ্জাব করে ২১৪/৮৷ অ্যান্ড্রু টাই ১০ বলে ১৪ রান করে আউট হন৷ অশ্বিন ২২ বলে ৪৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন৷ মোহিত শর্মা ৪ ও বরিন্দর স্রান ১ রান করে অপরাজিত থাকেন।

দুই ইনিংস মিলিয়ে রান উঠে সাড়ে চারশ’র বেশি (৪৫৯)। আইপিএল ইতিহাসে দুদলের রান মিলিয়ে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। সব টি-টুয়েন্টি মিলিয়ে ষষ্ঠ। আর সবরকম ক্লাব টি-টুয়েন্টি প্রতিযোগিতায় তৃতীয়।

২৪৬ রানের টার্গেটে শুরুটা বেশ ভালো ছন্দেই করেন দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল ও ক্রিস গেইল। সোয়া দুইশ’র বেশি স্ট্রাইক রেটে ব্যাট চালান রাহুল। তবে কিছুটা মন্থর ছিলেন গেইল। পরে ১৭ বলে ২১ রান করে আউট হয়ে যান। দ্রুত আরো ২ উইকেট হারালে বিপদে পড়ে পাঞ্জাব। যদিও ব্যাট চালাতে থাকেন রাহুল। ২৯ বলে সাতটি ছক্কা ও দুই চারে ৬৬ রানে তিনি ফিরতেই ফিকে হয়ে যায় প্রীতির আশা। অ্যারন ফিঞ্চের ২০ বলে ৩৪ এবং অশ্বিনের ২২ বলে ৪৫ রানের ইনিংসে স্কোর বোর্ড দুইশ ক্রস করলেও জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। ২১৪ রানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস।

তিন উইকেট নিয়ে কেকেআরের সফল বোলার আন্দ্রে রাসেল। দুই উইকেট নেন প্রসিদ্ধ ‍কৃষ্ণা।

বিজ্ঞাপন

এর আগে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সুনীল নারিনের ৩৬ বলে ৭৫ ও অধিনায়ক দীনেশ কার্তিকের ২৩ বলে ৫০ রানের সুবাদে ৬ উইকেটে ২৪৫ রান করে কেকেআর। আইপিএলের ইতিহাসে এটাই নাইটদের দলীয় সর্বোচ্চ স্কোর। এর আগে আইপিএলের প্রথম আসরের প্রথম ম্যাচেই ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ১৫৮ রানের সুবাদে ২২২ রান করেছিল কেকেআর। এবারের আইপিএলে এটাই কোনো দলের সবচেয়ে বেশি রান। পাঞ্জাবের হয়ে অ্যান্ড্রু টাই ৪১ রানে ৪ উইকেট নিলেও কলকাতার রানের গতি রোধ করতে পারেননি।

চলতি আইপিএলের পাশাপাশি আসরের ইতিহাসে কলকাতার এই ইনিংস চতুর্থ সর্বোচ্চ। ২০১৩ সালে ২৬৩ রান করে শীর্ষে রয়েছে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালোর। ২০১৬ তারাই করেছিল ২৪৮ রান। ২০১০ সালে চেন্নাই সুপার কিংস করেছিল ২৪৬ রান। আর এই কলকাতার বিপক্ষেই চলতি বছর ২১৯ রান করেছিল দিল্লি ডেয়ারডেভিলস।

সেঞ্চুরি ছাড়া আইপিএলের ইতিহাসে কলকাতার স্কোর সর্বোচ্চ। আর ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক সব মিলিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরও এটি। সেঞ্চুরি ছাড়া সবচেয়ে বড় স্কোর শ্রীলঙ্কার। ২০০৭ সালে ওয়ালড টি-টুয়েন্টিতে কেনিয়ার বিপক্ষে ২৬০ রান করেছিল লঙ্কানরা।

প্লে-অফে যাওয়ার আশা জিইয়ে রাখার জন্য দু’দলের কাছেই এই ম্যাচ জেতা জরুরি। পাঞ্জাবের অধিনায়ক রবিচন্দ্রন অশ্বিন নিশ্চয়ই প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আফশোস করছেন।

মরণবাঁচন ম্যাচে শুরু থেকেই লড়াইয়ে ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন কেকেআর ব্যাটসম্যান৷ কেকেআরের যেকজন ব্যাটসম্যান ক্রিজে নেমেছেন তার মধ্য সর্বনিম্ন স্ট্রাইক রেট ১৪১। মাত্র দুজন ব্যাটসম্যান ২০০ নিচে স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করেছেন। দুই ওপেনার সুনীল নারিন ও ক্রিস লিন স্বভাবছন্দ ঢংয়ের ইনিংস শুরু করেন৷ তবে লিনের থেকেও বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন নারিন৷ লিন ১৭ বলে ২৭ রান করে ডাগ-আউটে ফিরলেও ২৬ বলে হাফসেঞ্চুরি করে কেকেআর ইনিংসকে শক্ত ভিতে দাঁড় করিয়ে দেন ক্যারিবিয়ান অফ স্পিনার৷ আইপিএলের ইতিহাসে এটি নারিনের তৃতীয় হাফসেঞ্চুরি৷ চলতি আইপিএলে দ্বিতীয়৷ শেষ পর্যন্ত ৩৬ বলে চার ছক্কা ও ৯টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৭৫ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন নারিন৷

নারিন যেখানে শেষ করেন, সেখান থেকে শুরু করেন ক্যাপ্টেন কার্তিক৷ ২৩ বলে তিনটি ছয় ও পাঁচটি চারের সাহায্যে ৫০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন কেকেআর ক্যাপ্টেন৷ এছাড়াও আন্দ্রে রাসেল ১৪ বলে ৩১, রবিন উথাপ্পা ১৭ বলে ২৪, শুভমন গিল ৮ বলে অপরাজিত ১৬ এবং জ্যাভন শার্লস ইনিংসের শেষ বলে ছক্কা মেরে নাইট ইনিংসকে সেরা স্কোরে পৌঁছে দেন৷ আইপিএল অভিষেকে প্রথম বলে ছক্কা মেরে নজির গড়েন নাইটদের এই ক্যারিবিয়ান পেসার৷

বিজ্ঞাপন