চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রিজেন্ট হাসপাতাল ও সাহেদের সব ব্যাংক হিসাব জব্দ

করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা না করেই রোগীদের সনদ প্রদানসহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদসহ সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ৩০ দিনের জন্য ব্যাংকগুলোকে এ নির্দেশ পরিপালন করতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ইউনিট (বিএফআইইউ) এক চিঠির মাধ্যমে সব ব্যাংককে এই নির্দেশ দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এই নির্দেশের ফলে সাহেদসহ সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব থেকে আগামী ৩০ দিন আর কোনো অর্থ উত্তোলন করা যাবে না। পাশাপাশি অন্য কোনো আর্থিক সুবিধাও নেওয়া যাবে না।

বিজ্ঞাপন

বিএফআইইউর চিঠিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছে। রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ বা শাহেদ বা শাহেদ করিম এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকে পরিচালিত সব হিসাবের লেনদেন অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের ক্ষমতাবলে ৩০ দিনের জন্য অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলো। একই সঙ্গে তার লেনদেন বিবরণীসহ হিসাবের যাবতীয় তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এরআগে ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। অভিযানে ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট, করোনা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম উঠে আসে।

এরপর ৭ জুলাই রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় দণ্ডবিধি ৪০৬/৪১৭/৪৬৫/৪৬৮/৪৭১/২৬৯ ধারায় প্রতারণার অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদকে এক নম্বর আসামি করে ১৭ জনকে বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। সাহেদসহ ৯ জন পলাতক রয়েছেন।

ওইদিন রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক চুক্তি (এমওইউ) বাতিলসহ অবিলম্বে হাসপাতালটির সব কার্যক্রম বাতিল এবং সিলগালা করার নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

রিজেন্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ, হাসপাতালটি করোনার নমুনা পরীক্ষা না করেই ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করে দিত রোগীদের। সরকারের সঙ্গে হাসপাতালটির চুক্তি ছিল করোনায় আক্রান্ত ভর্তি রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার। সরকার এ ব্যয় বহন করবে। কিন্তু তারা রোগীপ্রতি লাখ টাকার বেশি বিল আদায় করেছে। অথচ রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়েছে এই মর্মে সরকারের কাছে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার বেশি বিল জমা দিয়েছে।

জানা গেছে, রিজেন্ট হাসপাতাল এ পর্যন্ত প্রায় ২শ জন করোনায় আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে।